হলি আর্টিজান হামলার ১০ বছর আজ

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৫
অ- অ+

রাজধানীর গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার এক দশক পূর্ণ হলো আজ। ২০১৬ সালের ১ জুলাই সংঘটিত সেই ভয়াবহ হামলায় দেশি-বিদেশি ২০ জন নিহত হন, যা শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। হামলার ১০ বছর পূর্তিতে নানা স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে ফিরে আসছে দেশের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ জঙ্গি হামলার স্মৃতি।

সেদিন ইফতারের পর রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার ৭৯ নম্বর সড়কের ৫ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় পাঁচ তরুণ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, তারা নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ‘নব্য জেএমবি’র সদস্য ছিল। রাতভর জিম্মি পরিস্থিতির পর সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানের মাধ্যমে হামলার অবসান ঘটে। অভিযানে পাঁচ হামলাকারী নিহত হয়।

নিহত হামলাকারীরা হলেন— নিবরাজ ইসলাম, শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল, মীর সামেহ মোবাশ্বের, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ এবং খায়রুল ইসলাম পায়েল। তারা হামলার কয়েকদিন আগেই পরিবার ছেড়ে নিখোঁজ হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে।

হামলাকারীদের হাতে নিহত হন ৯ জন ইতালীয়, ৭ জন জাপানি, ১ জন ভারতীয়, ২ জন বাংলাদেশি এবং ১ জন বাংলাদেশি-আমেরিকান নাগরিক। হামলা প্রতিরোধে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারান দুই পুলিশ কর্মকর্তা।

নিহত দুই পুলিশ কর্মকর্তার স্মরণে গুলশান থানার সামনে নির্মিত ‘দীপ্ত শপথ’ ভাস্কর্য ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় ভেঙে ফেলা হয়। পরবর্তীতে সেটি আর পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। একই সঙ্গে তাদের স্মরণে প্রতিবছর পুলিশের পক্ষ থেকে যে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ কর্মসূচি পালন করা হতো, গত বছর তা অনুষ্ঠিত হয়নি।

এর আগে প্রতিবছর হামলার ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রদ্ধা জানাতেন জাপান ও ইতালি দূতাবাসের কর্মকর্তারা। তবে গত বছর সেই কর্মসূচিও দেখা যায়নি। ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার এম তানভীর আহমেদ জানিয়েছেন, এবার বিভিন্ন দূতাবাসের সমন্বয়ে ইতালি দূতাবাসে একটি স্মরণসভা আয়োজন করা হবে। তবে ঘটনাস্থলে কোনো শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচি থাকছে না।

হামলায় বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক নিহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। ঘটনার পর গুলশান থানায় দায়ের করা মামলার বিচারকাজ চলে প্রায় সাড়ে তিন বছর।

২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মামলার সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে হাইকোর্ট তাদের সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডে রূপান্তর করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত সাতজন হলেন— জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধী, আসলাম হোসেন ওরফে র‌্যাশ, হাদিসুর রহমান, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, আব্দুস সবুর খান, শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ এবং মামুনুর রশিদ রিপন। হামলার মূল পরিকল্পনাকারীদের অধিকাংশই পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়।

হামলার পর সেনাবাহিনীর অভিযানে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গুলি, সামরিক মানের দূরবীন ও স্নাইপার স্কোপ, দেশীয় ও বিদেশি ধারালো অস্ত্র, ওয়াকিটকি, জিপিএস ডিভাইস, টিজার গান, অব্যবহৃত সিম কার্ড, বোমা তৈরির সরঞ্জাম, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছিল। এছাড়া উদ্ধার করা নাইট্রোজেন কার্টিজগুলো পরে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয়।

এক দশক পেরিয়ে গেলেও হোলি আর্টিজান হামলা বাংলাদেশের নিরাপত্তা, জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযান এবং সন্ত্রাস দমনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়েছে। সেই রাতের ভয়াবহতা এবং নিহতদের স্মৃতি এখনও বয়ে বেড়াচ্ছে দেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।

(ঢাকাটাইমস/১ জুলাই/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৬ বছর: গৌরবের পথচলার নতুন অধ্যায়
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে আবারও বড় ধস
বিশ্ববাজারে ২৪ ঘণ্টায় জ্বালানি তেলের দাম কমার পর ফের বাড়লো
পাকিস্তানের লাহোরে কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে নিহত ১৪ শিশু
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা