বিশ্ববাজারে ২৪ ঘণ্টায় জ্বালানি তেলের দাম কমার পর ফের বাড়লো

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম সাম্প্রতিক ২৪ ঘণ্টার পতনের পর আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে নতুন করে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
আজ বুধবার (১ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে অনীহা প্রকাশের খবরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়, যার ফলে তেলের দাম আবার বেড়ে যায়। খবর রয়টার্স’র।
ভোরের দিকের লেনদেনে আন্তর্জাতিক বাজারে বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫০ সেন্ট বা ০ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেড়ে ৭৩ দশমিক ৪৫ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬৩ সেন্ট বা ০ দশমিক ৯১ শতাংশ বেড়ে ৭০ দশমিক ১৩ ডলারে দাঁড়ায়।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাই মূলত বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার প্রধান কারণ।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং সাবেক কর্মকর্তা জ্যারেড কুশনার কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছান। তবে ইরান ও কাতার জানায়, তেহরান কোনো মার্কিন কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসবে না। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল-থানি মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করলেও ইরান কেবল মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখার অবস্থান বজায় রেখেছে।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কিছুটা কমে আসায় চলতি বছরের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকের মধ্যে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৪৫ ডলার পর্যন্ত কমেছিল, যা ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের পর সবচেয়ে বড় প্রান্তিক পতন হিসেবে বিবেচিত হয়। একই সময়ে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৩১ ডলার কমে যায়, যা ২০২০ সালের করোনা মহামারির পর সর্বোচ্চ পতন।
রয়টার্সের এক জরিপে দেখা যায়, হরমুজ প্রণালী পুনরায় কার্যকরভাবে খুলে যাওয়ায় সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা কমে এসেছে। এ কারণে বিশ্লেষকরা আগামী বছরের জন্য তেলের দামের পূর্বাভাস কিছুটা কমিয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ইরানকে কোনো ধরনের টোল বা মাশুল আদায়ের সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি দাবি করেন, ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে তেলবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।
অন্যদিকে আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জুন শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুদ ৬১ লাখ ব্যারেল কমেছে, যা বিশ্ববাজারে দাম বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।
(ঢাকাটাইমস/১ জুলাই/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন










































