ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৬ বছর: গৌরবের পথচলার নতুন অধ্যায়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আজ ১ জুলাই ১০৬ বছরে পদার্পণ করেছে। ১৯২১ সালে যাত্রা শুরু করা এই বিদ্যাপীঠ দেশের জ্ঞান, রাজনীতি, সংস্কৃতি ও সামাজিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে এসেছে এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে। আজকের দিনটি উদ্যাপন করতে বর্ণিল সাজে সেজেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। দিনব্যাপী নানা আয়োজনে শিক্ষার্থীদের মুখেও বইছে উৎসবের আমেজ।
পূর্ববঙ্গের অবহেলিত জনগণের শিক্ষা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয় বরাবরই ছিল বাঙালির আত্মবিকাশের কেন্দ্র। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে সর্বশেষ ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার ও সরকার পতন আন্দোলনের সূতিকাগারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
ঔপনিবেশিক শাসনামলে ১৯২১ সালের ১ জুলাই রমনা এলাকায় প্রায় ৬০০ একর জমির ওপর বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বঙ্গভঙ্গ রদের পর পূর্ববঙ্গের জনগণের উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এটি গড়ে ওঠে। ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ লর্ড লিটন একে “স্প্লেনডিড ইম্পিরিয়াল কমপেনসেশন” অর্থাৎ বঙ্গভঙ্গ রদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে একটি অনন্য উদ্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।
প্রতিষ্ঠার শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিল তিনটি আবাসিক হল, তিনটি অনুষদ (বিজ্ঞান, কলা ও আইন), ১২টি বিভাগ, ৬০ জন শিক্ষক এবং ৮৪৭ জন শিক্ষার্থী। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষদের সংখ্যা ১৩, বিভাগ ৮৪, ইনস্টিটিউট ১৩ এবং গবেষণা ব্যুরো ও কেন্দ্র ৫৭টি। এছাড়া ১৯টি আবাসিক হল ও ৪টি হোস্টেল রয়েছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৭ হাজারেরও বেশি, শিক্ষক দুই হাজারের বেশি, কর্মকর্তা এক হাজারের বেশি এবং কর্মচারী প্রায় তিন হাজার।
দীর্ঘ ইতিহাসে ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং সর্বশেষ চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়টি নেতৃত্ব ও প্রেরণার কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রেখেছে।
তবে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়টি বাজেট ঘাটতি, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি, আবাসন সংকট এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। পুরোনো শ্রেণিকক্ষ ও গবেষণাগারে পাঠদান চলায় আধুনিকায়নের ঘাটতি স্পষ্ট। একই সঙ্গে আবাসিক হলে রাজনৈতিক প্রভাব, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমে স্থবিরতা এবং একাডেমিক কার্যক্রমে মনোযোগের ঘাটতি নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।
এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়টির ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য বাজেট ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩৩ কোটি ২১ লাখ টাকা। এর মধ্যে গবেষণা খাতে বরাদ্দ ২১ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ২ দশমিক ০৩ শতাংশ।
শত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সম্প্রতি প্রকাশিত ‘কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং ২০২৭’-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয়বারের মতো বিশ্বের সেরা ৬০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে সামনে রেখে ২০ বছর মেয়াদি ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি একাডেমিক প্ল্যান (ডিইউএপি) ২০২৬–২০৪৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশনে এটি ঘোষণা করেন। পরিকল্পনাটির লক্ষ্য শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে ২০৪৬ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করা।
দিবসটি উপলক্ষে উপাচার্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা জানান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
এ বছর বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে “গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়”। এ উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এক বাণীতে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে ভবিষ্যতেও জাতিকে দিকনির্দেশনা দেবে।
পৃথক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষা কারিকুলাম আধুনিকায়ন অত্যন্ত জরুরি।
(ঢাকাটাইমস/১ জুলাই/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































