ইসলামপুরের তিন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ, কর ফাঁকি ও অর্থপাচারের অভিযোগ দুদকে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০২ জুলাই ২০২৬, ১৯:২০| আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৬, ১৯:২৭
অ- অ+

রাজধানীর ইসলামপুরের তিন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, কর ফাঁকি, চোরাচালান এবং মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। এরইমধ্যে সংস্থাটি আবেদন আমলে নিয়েছে।

অভিযোগে ইসলামপুরের ব্যবসায়ী রাসেল রহমান, আব্দুল হাই এবং সাবেক ইসলামপুর বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা সামসুল আলম সবজলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ উপায়ে ব্যবসা পরিচালনা করে শত শত কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, ইসলামপুরের কয়েকজন কাপড় ব্যবসায়ী বৈধ প্রক্রিয়ার পরিবর্তে অবৈধ পথে ভারত, চীন, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, কোরিয়া ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে থান কাপড় আমদানি করে দেশের বাজারে বিক্রি করছেন। এতে সরকার কোটি কোটি টাকার শুল্ক ও কর হারাচ্ছে। অভিযোগে রাসেল রহমান ও আব্দুল হাইকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, আজিজ অ্যান্ড সন্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাপড় আমদানির ক্ষেত্রে ঘোষণাপত্রে পণ্যের পরিমাণ কম দেখিয়ে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, উত্তরা ব্যাংকের মাধ্যমে ১৭ হাজার ৪৮০ কেজি কাপড় আমদানির অনুমোদন নেওয়া হলেও বাস্তবে প্রায় ৩২ হাজার কেজি কাপড় দেশে আনা হয়। ঘোষণাবহির্ভূত অংশের অর্থ মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে রাসেল রহমান ও আব্দুল হাইয়ের নামে ও বেনামে থাকা বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদেরও বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ইসলামপুরের চায়না মার্কেট, আহসান মঞ্জিল সুপার মার্কেট, হাজী কে হাবিবুল্লাহ মার্কেট, ইসলামপুর প্লাজা, প্যারাডাইস মার্কেটসহ বিভিন্ন মার্কেটে তাঁদের একাধিক দোকান ও গোডাউন রয়েছে। এছাড়া গেন্ডারিয়া, বনশ্রী, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় বহুতল ভবন, জমি ও অন্যান্য সম্পদ থাকার দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারীর ভাষ্য, এসব সম্পদের মোট মূল্য কয়েক শ কোটি টাকা।

একই অভিযোগে সাবেক ইসলামপুর বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সামসুল আলম সবজলের বিরুদ্ধেও দীর্ঘদিন ধরে রাজস্ব ফাঁকি, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তার নামে ও বেনামে থাকা সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের দাবি জানানো হয়েছে অভিযোগপত্রে।

অভিযোগকারী আরও দাবি করেছেন, প্রায় দুই দশক আগে রাসেল রহমান ও আব্দুল হাই মাসিক বেতনে চাকরি করতেন। পরবর্তীকালে তাদের বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার বিষয়টি সন্দেহজনক উল্লেখ করে সম্পদের উৎস যাচাইয়ের আবেদন জানানো হয়েছে।

দুদকের চেয়ারম্যান বরাবর দেওয়া অভিযোগে অভিযুক্তদের সম্পদের উৎস, আয়কর ও শুল্ক–সংক্রান্ত নথি, ব্যাংক হিসাব, আমদানি-রপ্তানির কাগজপত্র এবং সম্ভাব্য অর্থপাচারের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযোগে নাম থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
হবিগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই ভাইয়ের মৃত্যু
সড়ক ও সেতু মন্ত্রীর সঙ্গে জাইকা প্রেসিডেন্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ
স্বাক্ষর জাল করে অন্যজনের বাইসাইকেল নাতিকে দিয়ে ফাঁসলেন জামায়াত নেতা!
বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস উপলক্ষে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বাণী
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা