৯ বছরের জটিলতার অবসান
প্রাথমিকে ৩৬ হাজার প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির পথ খুলল

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি সংক্রান্ত প্রায় ৯ বছরের আইনি জটিলতার অবসান হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ের পর সারা দেশে শূন্য থাকা ৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
একই সঙ্গে এসব পদে খালি হওয়া পদসহ আরও ৩৮ হাজার ৪৪৩টি সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ দ্রুত সম্পন্ন করার কথাও জানিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার রাজধানীতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, ‘সিভিল আপিল নং-৭৩/২০২৩’ মামলায় সরকারের পক্ষে রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটল এবং পদোন্নতি কার্যক্রম পরিচালনায় মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ কর্তৃত্ব ফিরে এসেছে।
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, আদালতের রায় পাওয়ার পরই বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা হয়েছে। বৃহস্পতিবারই পিএসসিতে আনুষ্ঠানিক চাহিদাপত্র পাঠানো হচ্ছে। বিশেষ ব্যবস্থায় পদোন্নতি ও নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৭ সালে ৩৮৩ জন শিক্ষক ২০১৩ সালের নিয়োগবিধির জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ–সংক্রান্ত বিধি ৯(১) চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্ট ওই বিধান বেআইনি ঘোষণা করলে সরকার আপিল করে। পরে আপিল বিভাগের স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কো) আদেশের কারণে সারা দেশে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন পদোন্নতি বন্ধ থাকায় দেশের ৬৫ হাজার ৫০০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হয়ে পড়ে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং প্রায় ৬০ লাখ শিক্ষার্থীর পাঠদান ব্যাহত হয়।
বর্তমান বিধি অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদের ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে এবং বাকি ৮০ শতাংশ সহকারী শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। মামলার কারণে দীর্ঘদিন এই ৮০ শতাংশ পদে পদোন্নতি বন্ধ ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিকের চলমান ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিষয়েও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দ্রুত বিদ্যালয়ে পাঠাতে প্রচলিত নয় মাসের পিটিআই প্রশিক্ষণের পরিবর্তে প্রাথমিকভাবে দুই মাসের ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষেই তারা বিদ্যালয়ে যোগ দিতে পারবেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, গত চার মাস ধরে এ জটিলতা নিরসনে কাজ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলও উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































