সরকারি বরাদ্দের মাল নেতাদের মধ্যে ভাগাভাগির অভিযোগ

স্বাক্ষর জাল করে অন্যজনের বাইসাইকেল নাতিকে দিয়ে ফাঁসলেন জামায়াত নেতা!

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
  প্রকাশিত : ০২ জুলাই ২০২৬, ১৯:২৫
অ- অ+

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে এডিপির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিশেষ বরাদ্দের মালামাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক মাদ্রাসা ছাত্রের নামে বরাদ্দকৃত বাইসাইকেল নিজে স্বাক্ষর করে তুলে নিয়ে নিজের নাতিকে উপহার দেওয়ার ঘটনা তোলপাড় ফেলেছে।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে বাইসাইকেলটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ফেরত দেন ওই জামায়াত নেতা।

এ ছাড়া সরকারি বরাদ্দে কেনা বাইসাইকেল, ছাগল, স্প্রে মেশিন, সেলাই মেশিন, ফুটবল ও হুইল চেয়ার বিএনপি ও জামায়াত নেতারা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, কোটচাঁদপুর কামিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র সাইমুন ইসলামের নামে একটি বাইসাইকেল বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু সাইমুনকে সেই সাইকেল না দিয়ে কোটচাঁদপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম নিজেই মাস্টাররোলে স্বাক্ষর করে সাইকেলটি তুলে বাড়ি নিয়ে যান। পরে সাইকেলটি তিনি তার মেয়ের বাড়িতে পাঠান নাতির জন্য উপহার হিসেবে।

মাদ্রাসা ছাত্র সাইমুন ইসলাম জানায়, তার নামে বরাদ্দ হওয়া সাইকেলটি প্রথমে তাকে দেওয়া হয়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে বুধবার তড়িঘড়ি করে সাইকেলটি তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াত নেতা মাওলানা তাজুল ইসলাম প্রথমে দাবি করেন, সাইকেলটি তার প্রতিবেশী এক ছেলেকে দেওয়া হয়েছিল। তবে পরে তিনি বলেন, তার ছেলে বেকার এবং আর্থিক সংকটে থাকায় সাইকেলটি তার পুতনি মারিয়াকে দেওয়া হয়েছিল। একই সাথে তিনি স্বীকার করেন, বরাদ্দকৃত এসব মালামাল জামায়াত ও বিএনপি নেতারা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন।

সরকারি মালামাল দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ভাগাভাগি ও অনিয়মের এই বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন বুলবুল সিডল।

সালাউদ্দিন বুলবুল বলেন, এমন ঘটনা যদি সত্যি হয়ে থাকে তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং একটি খারাপ নজির সৃষ্টি করবে।

বিএনপি নেতা জোর দিয়ে বলেন, ‘সরকারি বরাদ্দ যদি দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এভাবে ভাগাভাগি হয়ে থাকে, তবে প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত করে এর পেছনে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

মাওলানা তাজুল ইসলামের এই কাণ্ডে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সাবেক মাদ্রাসা শিক্ষক ও জামায়াত সমর্থক শের আলী। তিনি বলেন, ‘মাওলানা তাজুল ইসলাম কোনো দরিদ্র মানুষ নন। তিনি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, শহরে তার নিজস্ব বাড়ি আছে এবং সন্তানরাও ভালো চাকরি করেন। একজন দায়িত্বশীল মানুষের এভাবে সরকারি বরাদ্দের বাইসাইকেল জালিয়াতি করে নেওয়া কোনোভাবেই ঠিক হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠলে ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমানের নজরে আসে। পরবর্তীতে তারই নির্দেশে বুধবার দুপুরে সাইকেলটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে ফেরত আনা হয়।

কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপা রানী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সাইকেল বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছিল। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের পরামর্শক্রমে সাইকেলটি ফেরত আনা হয় এবং প্রকৃত উপকারভোগীকে দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল ছাড়াও অন্যান্য উপকরণ যেমন: সেলাই মেশিন, ছাগল, স্প্রে মেশিন ইত্যাদি বিতরণে আর কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সুষ্ঠু তদন্ত চালানো হচ্ছে বলে জানান ইউএনও।

(ঢাকাটাইমস/২জুলাই/মোআ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
হবিগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই ভাইয়ের মৃত্যু
সড়ক ও সেতু মন্ত্রীর সঙ্গে জাইকা প্রেসিডেন্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ
বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস উপলক্ষে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বাণী
ইসলামপুরের তিন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ, কর ফাঁকি ও অর্থপাচারের অভিযোগ দুদকে
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা