নতুন প্রজন্মকে সুপরিকল্পিতভাবে ভ্রান্ত ইতিহাস জানাচ্ছে আ.লীগ: ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৭ মার্চ ২০২১, ২০:২৯

আওয়ামী লীগ সুপরিকল্পিতভাবে নতুন প্রজন্মকে ভ্রান্ত ইতিহাস জানাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রবিবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় এমন মন্তব্য করেন তিনি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে বিএনপির জাতীয় কমিটির উদ্যোগে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘পাকিস্তানিদের বৈষম্যমূলক যে চিন্তাভাবনা, তাদের যে পজিশন, বাংলাদেশের মানুষকে অভাবি করবার সম্পূর্ণভাবে যে উদ্যোগ তার বিরুদ্ধে এদেশের মানুষ রুখে দাঁড়িয়েছিল। সবই আমাদের ছাত্ররা করে গেছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। এভাবে প্রতিটি মুহুর্তে প্রতিটি সময়ে এই দেশে ছাত্র-ছাত্রীরা, তরুণ-যুবকরা তাদের দেশের স্বাধীনতাকে আনবার জন্যে, তাদের অধিকারকে রক্ষা করবার জন্যে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা নির্মাণ করবার জন্য তারা লড়াই করেছে, যুদ্ধ করেছে, বুকের তাজা রক্ত দিয়েছে।’

‘আওয়ামী লীগ কী করেছে? আওয়ামী লীগ অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই নতুন প্রজন্মকে সেই ইতিহাস থেকে বঞ্চিত করে তাদেরকে ভ্রান্ত ইতিহাস দিচ্ছে। একটা ধারণা দিচ্ছে যে, একটি মাত্র দল, একজনই মাত্র ব্যক্তি আর একটি গোষ্ঠি যারা এদেশের সব কিছু এনে দিয়েছে। সব স্বাধীনতা এনে দিয়েছে, উন্নয়ন এনে দিয়েছে, এখানে মানুষের অধিকারগুলো এনে দিয়েছে। মিথ্যা ইতিহাস দিয়ে তারা প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করছে।’-যোগ করেন ফখরুল।

৭ মার্চ উপলক্ষে আলোচনা সভায় ব্যানারের একদিকে ওই সময়ে উত্তোলিত মানচিত্র সম্বলিত লাল-সবুজ জাতীয় এবং অন্যদিকে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানে ছবি শোভা পায়।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা সেই ধারণা, সেই সত্যটা তুলে ধরতে চাই। আমরা তুলে ধরতে চাই এদেশের স্বাধীনতার জন্য কখন কবে থেকে কারা কারা প্রাণ দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে, সংগঠিত করেছে, সংগ্রাম করেছে। একটা কথা দেখবেন তাদের বক্তব্যের কোথাও.. এই তোফায়েল আহমেদের কথা খুঁজে পাবেন না। পাবেন না তারা যখন বক্তব্য দেয় তোফায়েল আহমেদের কথা। তারা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী নাম একবারও উচ্চারণ করে না।’

‘এমনকি যুদ্ধের যে সর্বাধিনায়ক এমএজি ওসমানী ছিলেন তার নাম একবারও উচ্চারণ করে না। এমনকি যুদ্ধকালীন যে প্রবাসী সরকার যিনি নেতৃত্ব দিলেন তাজউদ্দিন আহমেদ তার নাম একবারও উচ্চারণ করে না। এতো সংকীর্ণ এরা। কত ভয়ংকর যে, শুধুমাত্র ব্যক্তিগত স্বার্থে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য, নিজেকে মহিমান্বিত করবার জন্য, একজন মানুষকে মহিমান্বিত করবার জন্য, একটি পরিবারকে মহিমান্বিত করবার জন্য তারা শুধুমাত্র মিথ্যা ইতিহাস এদেশের মানুষকে চাপিয়ে দিতে চায়।”

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় কমিটির আহবায়ক খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিলাম। কিন্তু যুদ্ধ ও সংগ্রাম এক নয়। যুদ্ধ হচ্ছে অস্ত্র হাতে সশস্ত্রভাবে আপনি একজন প্রত্যক্ষ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে শুরু করেন, যুদ্ধ করতে শুরু করেন, তাকে হত্যা করার জন্য কাজ করেন-এটাই হচ্ছে যুদ্ধ। আর সংগ্রাম একজন মানুষ ও জাতি করে। যুদ্ধ ও সংগ্রাম এটা আমাদের দীর্ঘিদিনের। ত্যাগী মানুষ, শ্রদ্ধেয় নেতা যারা আমাদের জন্য সংগ্রাম করেছেন তাদের কথা আমাদের উচ্চারণ করা প্রয়োজন। আমাদের উচ্চারণ করা শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক সাহেবের কথা, উচ্চারণ করা প্রয়োজন মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর কথা, উচ্চারণ করা প্রয়োজন শেখ মুজিবুর রহমানের কথা, উচ্চারণ করা প্রয়োজন অলি আহাদ সাহেবের কথা। এরকম অসংখ্য মানুষ আছেন যারা এদেশের মানুষের পরিবর্তনের জন্য সংগ্রাম করেছেন।’

মোশাররফ হোসেন আরও বলেন, যুদ্ধ-এটা আমাদের কথা নয়, এটা ইতিহাস, এটা তথ্য, এটা একটা বইয়ে সব কিছু লেখা আছে। যারা গবেষণা করছেন, তাদের গবেষণায় উঠে এসেছে যে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের যে ঘোষণা, সেই ঘোষণাই সমগ্র জাতিকে উদ্দীপ্ত করেছে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য। দ্যাট ইজ দ্যা ট্রুথ। এটাতে কাউকে ছোট করা হয় না, এটাতে কাউকে বড় করা হয় না।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘৭ মার্চ পালনের কথা শুনে আওয়ামী লীগের গাত্রদাহ হয়েছে। কি আছে ৭ মার্চের ভাষণে? ৫০ বছরের ইতিহাসে ছোট একটা অংশ এই ৭ মার্চ। আল্লাহর রহমত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের কোনো পুঁজি নাই। ওই একটা পুঁজি তাদের ৭ মার্চের ভাষণ। ৭ মার্চের ভাষণটা যখন হয়, আমি আমার এলাকার লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে মঞ্চের বা দিকে বাঁশের বেরিকেডের সামনে উপস্থিত ছিলাম। ৭ মার্চ আমরা কি আশা করেছিলাম? বাঁশ নিয়ে গেছি, লাঠি নিয়ে গেছি… একটা ঘোষণা আসবে। কিন্তু না, কোনো ঘোষণা আসেনি। বরং ওই পাকিস্তানি কাঠামোর ভেতরে থেকেই কিভাবে মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান সাহেব প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন সেই জিনিসটা করেছেন। রক্ত দিয়ে এই স্বাধীনতা এনেছে এই দেশের মানুষ। যদি কেউ বলেন, কোনো এক মেজরের ঘোষণায় এদেশ স্বাধীন হয় নাই, আমরাও বলতে পারি, ৭ মার্চের কারণে দেশ স্বাধীন হয় নাই। আমরা কাউকে ছোট করার জন্য কিছু বলতে চাই না। আমরা মনে করি, মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান ও শহীদ জিয়াউর রহমানের অবস্থান ইতিহাস নির্ধারণ করে দেবে।

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান যে ভাষণ দিয়েছে, সেটা স্বাধীনতার ঘোষণা না, মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা না। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার‌দের গণহত্যার পরে মানুষ যখন ঢাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছে, তখন আমরা শুনলাম স্বাধীনতার ঘোষণা হচ্ছে। একজন মেজর স্বাধীনতার ঘোষণা করছে। আমরা রেডিওর কাছে গেলাম এবং শুনলাম একজন মেজর স্বাধীনতার ঘোষণা করছে। তিনি বলছেন, আমি মেজর জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা করলাম। এটা হলো স্বাধীনতার ঘোষণা। মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা। ৭ মার্চ মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা না। ৭ মার্চের ভাষণ যে মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা না, তা এই দিবস আসলেই বোঝা যায়।’

(ঢাকাটাইমস/০৭মার্চ/বিইউ/এমআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :