২০ কার্যদিবসেই ফোর মার্ডার মামলার রায়: যুবকের মৃত্যুদণ্ড

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:০৪ | প্রকাশিত : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৩৭

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ২০ কার্যদিবসে ঘোষণা হলো একই পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার মামলার রায়। আদালত একমাত্র আসামি রায়হানুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। একই আদেশে আসামিকে সাত দিনের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিলের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার সাতক্ষীরার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শেখ মফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করবেন।

চাঞ্চল্যকর এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের পিপি অ্যাড. আব্দুল লতিফ যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় একমাত্র আসামি রায়হানুর রহমানকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মুত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি জানান। তবে আসামিপক্ষের সিনিয়র আইনজীবী এস এম হায়দার আসামির বেকসুর খালাস দাবি করেছেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের খলিষা গ্রামের শাহজাহান ডাক্তারের বড় ছেলে শাহীনুর রহমান আট বিঘা জমিতে পাঙ্গাস মাছ চাষ করেন। মেজো ছেলে আশরাফ আলী মালয়েশিয়ায় থাকেন। ছোট ছেলে রায়হানুর রহমান (৩৬) বেকার। বেকারত্বের কারণে বড় ভাই শাহীনুরের সংসারে তিনি খাওয়া দাওয়া করতেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে কোনো কাজ না করায় গত বছরের ১০ জানুয়ারি রায়হানুর রহমানকে তালাক দেন স্ত্রী। অন্যদিকে সংসারে টাকা দিতে না পারায় দেবর রায়হানুরকে মাঝে মাঝে গালমন্দ করতেন শাহীনুরের স্ত্রী । এরই জের ধরে গত বছরের ১৪ অক্টোবর রাতে ভাই শাহীনুর রহমান (৪০), ভাবি সাবিনা খাতুন (৩০), তাদের ছেলে ব্রজবক্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র সিয়াম হোসেন মাহী (১০) ও মেয়ে একই বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী তাসমিন সুলতানাকে (৮) কোমল পানীয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান এ মামলার একমাত্র আসামি রায়হানুর রহমান। এরপর ভোর চারটার দিকে হাত ও পা বেঁধে তাদেরকে একে একে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেন তিনি। এ সময় তাদের চার মাসের শিশু মারিয়াকে হত্যা না করে তাকে লাশের পাশে ফেলে রেখে যান রায়হান। রায়হান পরে স্বীকারোক্তিতে জানান, বাবা-মায়ের হত্যাকারীদের চিনতে পারায় দুই শিশুকেও হত্যা করেছেন তিনি। নিহত পরিবারে বেঁচে থাকা একমাত্র শিশু মারিয়া বর্তমানে হেলাতলা ইউপি সদস্য নাছিমা খাতুনের কাছে বড় হচ্ছে।

এদিকে ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত শাহীনুরের শাশুড়ি কলারোয়া উপজেলার উফাপুর গ্রামের রাশেদ গাজীর স্ত্রী ময়না খাতুন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সিআইডি মামলার তদন্তে নেমে শাহীনুরের ভাই রায়হানুর রহমান, একই গ্রামের রাজ্জাক দালাল, আব্দুল মালেক ও ধানঘরা গ্রামের আসাদুল সরদারকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার রায়হানুরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ২১ অক্টোবর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম বিলাস মন্ডলের কাছে রায়হানুর নিজেই হত্যার দায় স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

তদন্তভার গ্রহণের এক মাস আট দিন পর ২৮ জনের সাক্ষী ও রায়হানুলের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি পর্যালোচনা শেষে ২৪ নভেম্বর মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা রায়হানুর রহমানকে একমাত্র আসামি করে ৩২৮ ও ৩০২ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আসাদুল, রাজ্জাক ও আব্দুল মালেককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

গত ১৪ জানুয়ারি আসামি রায়হানুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠণ করা হয়। ২২ আগস্ট মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে প্রথমে ২৯ আগস্ট ও পরে পহেলা সেপ্টেম্বর রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হয়।

মামলার ১৮জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও নথি পর্যালোচনা শেষে আসামি রায়হানুর রহমানের বিরুদ্ধে চারজনকে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেন।

এদিকে মামলার রায় শোনার পর রায়হানুলের স্বজনরা আদালতের বারান্দায় কান্নায় ভেঙে পড়েন।

সাতক্ষীরা জজ কোর্টের পিপি অ্যাড. আব্দুল লতিফ রায় চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের বলেন, হত্যাকাণ্ডের ১০ মাস ১৬ দিন পর এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এ মামলার যে রায় হয়েছে তাতে আগামীতে কোনো ব্যক্তি যাতে এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটাতে সাহস না পায় তার দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। উচ্চ আদালতেও এ রায় বহাল থাকবে বলে তিনি আশাবাদী।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাড. এসএম হায়দার আলী বলেন, এ বিচারে তিনি খুশি হতে পারেননি। মামলার পূর্ণাঙ্গ আদেশ পাওয়ার পর পর্যালোচনা শেষে এ রায় এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ঢাকাটাইমস/১৪সেপ্টেম্বর/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :