জামালপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ ত্রাণ সামগ্রী দুই বছর পর বিতরণ

জামালপুর প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:২৪
অ- অ+

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণ করা সরকারি ত্রাণসামগ্রীর লবণের মেয়াদ কারও ক্ষেত্রে ত্রাণ পাওয়ার আগেই শেষ হয়েছে, আবার কারও ক্ষেত্রে শেষ হবে ত্রাণ পাওয়ার দুই দিন পর। তেলের মেয়াদও শেষ হচ্ছে কয়েক দিনের মধ্যে। ডাল, চিনি, হলুদ, ধনিয়া ও মরিচের গুঁড়িসহ অন্যান্য পণ্যের মেয়াদও চলতি সেপ্টেম্বরেই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

বিতরণ করা এসব ত্রাণসামগ্রীর ব্যাগে উল্লেখ করা রয়েছে ২০২৪-২৫ অর্থবছর। সেই হিসেবে প্রায় দুই বছর পর এসব পণ্য বিতরণ করায় মেয়াদ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, 'গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ৪০ জন এবং রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ৫০ জন অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে উপজেলা পরিষদ কার্যালয় থেকে এসব ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

প্রতিটি ব্যাগে ছিল ১০ কেজি চাল, এক কেজি করে তেল, লবণ, চিনি ও ডাল, ২০০ গ্রাম হলুদের গুঁড়া এবং ১০০ গ্রাম করে ধনিয়া ও মরিচের গুঁড়া। প্যাকেটের গায়ে লেখা রয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, ত্রাণসামগ্রী হিসেবে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, অর্থবছর ২০২৪-২০২৫।’

ত্রাণ পাওয়ার আগেই লবণের মেয়াদ শেষ:

গত ২ সেপ্টেম্বর ত্রাণ পাওয়া মেলান্দহ পৌরসভার হাসনা বেগমের ব্যাগে থাকা লবণের মেয়াদ শেষ হয়েছে ৩১ আগস্ট। অর্থাৎ ত্রাণ হাতে পাওয়ার দুই দিন আগেই লবণের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ওই ব্যাগে থাকা তেলের মেয়াদ শেষ হবে ১৬ সেপ্টেম্বর। অন্য পণ্যগুলোরও চলতি মাসেই মেয়াদ শেষ হবে। একই দিন ত্রাণ পাওয়া পৌরসভার লিটন ও বারেকের ব্যাগেও একই ধরনের পণ্য রয়েছে বলে তাঁরা জানান।

গত ৬ সেপ্টেম্বর ত্রাণ পাওয়া মলিকাডাংগা এলাকার রত্না বেগমের ব্যাগে থাকা লবণের মেয়াদ শেষ হবে ৮ সেপ্টেম্বর। অর্থাৎ ত্রাণ পাওয়ার দুই দিন পরই লবণের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তেলের মেয়াদ শেষ হবে ১১ সেপ্টেম্বর। একই এলাকার জোসনা বেগমের ব্যাগে থাকা লবণের মেয়াদ শেষ হবে ৯ সেপ্টেম্বর। আর হাজরাবাড়ি এলাকার হুরমুজের ব্যাগে থাকা লবণের মেয়াদ ৩১ আগস্টই শেষ হয়েছে। অর্থাৎ তিনি ত্রাণ পাওয়ার পাঁচ দিন আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ লবণ পেয়েছেন। তাঁর ব্যাগে থাকা তেলের মেয়াদ শেষ হবে ২০ সেপ্টেম্বর। ত্রাণ পাওয়া কয়েকজন জানান, ব্যাগের অনেক পণ্য পুরোনো ও জমাট বাঁধা। কিছু প্যাকেটও হালকা ছেঁড়া।

রত্না বেগম বলেন, ‘লবণ জমাট বাঁধা ছিল। চিনি-ডালের প্যাকেটও হালকা ছেঁড়া ছিল। মেয়াদ না থাকলে তো খাওয়া যাবে না। এত আগের জিনিস এতদিন পরে দিলে মেয়াদ তো শেষই হবে।’

হাসনা বেগম বলেন, ‘আমরা মূর্খ মানুষ, মেয়াদ তো দেখতে পারি না। যেভাবে দিয়েছে, সেভাবেই বাড়িতে এনে রেখেছি। লবণের মেয়াদ যে শেষ হয়ে গেছে, তা জানতাম না। কিছুদিনের মধ্যে অন্য পণ্যের মেয়াদও শেষ হয়ে গেলে সেগুলো খেয়ে শেষ করা যাবে না।’

জোসনা বেগম বলেন, ‘অনেক দিন আগের মসলা ও চিনি দলা দলা হয়ে গেছে। যেভাবে দিয়েছে, সেভাবেই বাড়িতে নিয়ে এসেছি।’

মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন,' ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বরাদ্দের ত্রাণ ওই অর্থবছরে অথবা পরবর্তী অর্থবছরের মধ্যেই বিতরণ করা হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার ঘটনা হয়তো ঘটত না। তবে মেয়াদোত্তীর্ণ ত্রাণসামগ্রী মানুষের হাতে তুলে দেওয়া কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। এসব পণ্য কোথায় এবং কতদিন সংরক্ষণ করা হয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখা উচিত।'

মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাতুল আরা বলেন, ‘জুলাই মাসের প্রথম দিকে ত্রাণের বিষয়ে একটি চিঠি পেয়েছিলাম। এর কিছুদিন পরই ত্রাণসামগ্রী আসে। পরে অসহায় মানুষের তালিকা করে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।’

জামালপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহেল কাফি বলেন, ‘জুন ও জুলাই মাসে মন্ত্রণালয় থেকে ত্রাণ পেয়েছিলাম। পরে উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়। সেখান থেকে কীভাবে বিতরণ করা হয়েছে, তা জানি না। মেলান্দহের পিআইও বর্তমানে প্রশিক্ষণে রয়েছেন। তাঁর কাছ থেকে জেনে পরে জানানো যাবে।’

(ঢাকা টাইমস/৯সেপ্টেম্বর/এসএ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
Error!: SQLSTATE[42000]: Syntax error or access violation: 1064 You have an error in your SQL syntax; check the manual that corresponds to your MySQL server version for the right syntax to use near ') ORDER BY entry_time DESC,id DESC LIMIT 4' at line 4