মোহাম্মদপুরে বাসার গ্রিল কেটে টাকা-স্বর্ণ চুরি, ‘নতুন নোট’ খরচ করতে গিয়ে ধরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৩
অ- অ+

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বাসার পেছনের গ্রিল কেটে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে চুরির টাকায় তৈরি করা একটি নতুন অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত আরও একজন বর্তমানে অন্য মামলায় কারাগারে আছেন।

সোমবার মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশের ভাষ্য, গত ২৪ জুলাই রাত ১১টা থেকে ২৫ জুলাই ভোর ৫টার মধ্যে চানমিয়া হাউজিংয়ের রোড নম্বর ৩, ব্লক-বি, বাসা নম্বর ৪১/২২-এর নিচতলায় চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা বাসার পেছনের গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে গৃহকর্তা গোলাম মোস্তফার নগদ ১৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। চুরি হওয়া স্বর্ণালংকারের মধ্যে ছিল ১৪ আনা ওজনের দুটি চেইন, ৬ আনা ওজনের দুটি আংটি, ৪ আনা ওজনের দুটি কানের দুল ও ৮ আনা ওজনের দুটি বালা।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পর তদন্ত কর্মকর্তা দল নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে এক জোড়া কালো রঙের টাইপযুক্ত স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়। চোরেরা বাসার পেছনের পথ দিয়ে আসা-যাওয়া করায় প্রাথমিকভাবে সিসিটিভি ফুটেজ থেকেও উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

তবে বিভিন্ন গোপন সূত্রের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার পরদিন সকালে সানি, রাসেল ও সুমন নামের তিনজনকে প্রচুর নতুন টাকা নিয়ে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। তারা স্থানীয় দোকানেও টাকা খরচ করছিলেন। তাদের একজন দোকানদারের কাছে বন্ধক রাখা একটি মুঠোফোন ৫০০ ও ২০০ টাকার নোট দিয়ে ছাড়িয়ে নেন এবং বকশিশও দেন।

এই তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা, বরিশাল ও ভোলাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। গত ১৯ সেপ্টেম্বর প্রথমে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার জবানবন্দিতে চুরির ঘটনায় চারজনের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়। তারা হলেন— সুমন, রাসেল, সানি ও মানিক।

পুলিশ বলছে, মানিক এ চুরির মূল পরিকল্পনাকারী। তিনি বর্তমানে অন্য একটি মামলায় কারাগারে থাকায় তাকে এ মামলায় শোন অ্যারেস্ট দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে।

সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল রাতে কেরানীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে পলাতক রাসেল ও সানিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চুরি করা টাকা চারজনের মধ্যে সাড়ে চার লাখ টাকা করে ভাগ করে নেওয়া হয়। পরে ওই টাকা দিয়ে ঘরের আসবাবপত্র কেনা, জুয়া খেলা ও মাদক সেবনে খরচ করা হয়। এর মধ্যে রাসেল চুরির টাকায় একটি নতুন অটোরিকশা তৈরি করেন। সেটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার কোথায় বিক্রি করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা খুঁজে বের করতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
যাত্রাবাড়ীতে পরিত্যক্ত ব্যাগ থেকে ১০ ককটেল উদ্ধার
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সাত সদস্যসহ নিহত ৯
দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ খাত হতে পারে ব্লু ইকোনমি: শিক্ষামন্ত্রী
রাজশাহী স্টেশনে শিক্ষার্থীকে মারধর, আনসার সদস্যদের সম্পৃক্ততা নিয়ে যা জানালো বাহিনী