চট্টগ্রামের সরকারি দপ্তরে ‘নো স্মোকিং’ নিশ্চিতের তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
  প্রকাশিত : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:২৩
অ- অ+

চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়সহ সব জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও অন্যান্য সরকারি দপ্তরে শতভাগ তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের উদ্যোগে এ সভা হয়।

‘তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন (সংশোধন) ২০২৬ অনুযায়ী চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় এবং বিভাগাধীন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ সরকারি দপ্তরসমূহে শতভাগ তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে করণীয়’ শীর্ষক সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। এতে বিভাগের ১১ জেলার জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানেরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস) ২০১৭-এর তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন। প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। কর্মক্ষেত্রে ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ, রেস্তোরাঁয় ৪৯ দশমিক ৭ শতাংশ এবং গণপরিবহনে ৪৪ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন।

সভায় ২০২৬ সালে _দ্য ল্যানসেট পাবলিক হেলথ_-এ প্রকাশিত গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়, ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী পরোক্ষ ধূমপানের কারণে প্রায় ১৬ লাখ ৬০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পরোক্ষ ধূমপানের কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই উল্লেখ করে নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় শতভাগ ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, নির্দিষ্ট ধূমপান এলাকা বা ডেজিগনেটেড স্মোকিং এরিয়া অধূমপায়ীদের পরোক্ষ ধূমপান থেকে কার্যকরভাবে সুরক্ষা দিতে পারে না। সরকারি-বেসরকারি অফিসসহ সব জনসমাগমস্থলে শতভাগ তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, তামাক ব্যবহার হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যানসারসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকি। তাই তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

সভায় সরকারি দপ্তরে তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে অফিস আদেশ জারি, দৃশ্যমান স্থানে ‘নো স্মোকিং’ সাইনেজ স্থাপন, তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের জন্য ফোকাল ব্যক্তি নির্ধারণ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবহিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি অভিযোগ গ্রহণ ও প্রতিকারের ব্যবস্থা এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়।

বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, বর্তমান ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬ অনুযায়ী সরকারি কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবা নিতে আসা মানুষের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি দপ্তরে তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত হলে তা তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ইতিবাচক বার্তা দেবে।

সভায় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির কনসালটেন্ট ডা. মোহাম্মদ মুশতাক হোসেন, সমন্বয়ক ডা. অরুনা সরকার, সিনিয়র কমিউনিকেশন অফিসার আবু জাফরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
পদ্মাপাড়ের বন্যার্তদের মাঝে আবারও ত্রাণ বিতরণ করলেন আরডিএ চেয়ারম্যান সুইট
রাসিককে পৌরকরের চেক হস্তান্তর করেছে রাকাব
চুক্তির জটিলতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্টেডিয়াম মার্কেটে তালা
বারিধারায় বেপরোয়া প্রাইভেটকার চাপায় নির্মাণশ্রমিক নিহত, চালকের আসনে থাকা কিশোর গ্রেপ্তার