বগুড়ার গোহাইল সড়ক: আপাতত খানাখন্দ ভরাটের দাবি

চরম দুর্ভোগের আরেক নাম বগুড়া শহরের গোহাইল সড়ক। পুরো সড়কজুড়ে অসংখ্য ছোট-বড় খানাখন্দ ও জলাবদ্ধতায় অসহনীয় হয়ে উঠেছে নাগরিকদের চলাচল। প্রায় চার মাস আগে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সাতমাথা থেকে ফুলতলা পর্যন্ত সড়কটির সংস্কার ও উন্নয়নকাজ শুরু হলেও এখন পর্যন্ত মূল সড়কের কাজের তেমন অগ্রগতি নেই। ড্রেন নির্মাণের জন্য বিভিন্ন অংশ খুঁড়ে রাখায় চলাচলের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। পুরো প্রকল্প শেষ হতে সময় লাগলেও আপাতত খানাখন্দগুলো ভরাট করে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, যাত্রী ও যানবাহনচালকেরা।
জানা গেছে, সড়কটি পুনর্নির্মাণসহ ড্রেন, ফুটপাত ও স্ট্রিট লাইট নির্মাণে ২৬ কোটি ৬০ লাখ ১১ হাজার ৩০০ টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতাধীন সহনশীল নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পের (আরইউটিডিপি) আওতায় কাজটি বাস্তবায়ন করছে বগুড়া সিটি করপোরেশন। প্রকল্পের আওতায় ফুলতলা থেকে সাতমাথা পর্যন্ত ৩ দশমিক ০৯২ কিলোমিটার সড়ক পুনর্নির্মাণ, প্রায় তিন কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন, ফুটপাত ও স্ট্রিট লাইট নির্মাণের কথা রয়েছে। কাজ শুরু হয়েছে গত ২৭ মে। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৭ সালের ২৬ নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা। তবে এখন পর্যন্ত সড়কের মূল সংস্কারকাজের তেমন অগ্রগতি হয়নি। বিভিন্ন স্থানে ড্রেন নির্মাণের জন্য সড়ক খুঁড়ে রাখা হয়েছে। কোথাও অর্ধনির্মিত ড্রেন, কোথাও খোয়া ও মাটি পড়ে রয়েছে। ফলে আগে থেকেই ভাঙাচোরা সড়কটি এখন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সড়কের বেহাল অবস্থার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে অটোরিকশা, রিকশা ও ইজিবাইক চালকদের ওপর। খানাখন্দে চাকা পড়ে নিয়মিত গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
একজন অটোরিকশাচালক জাহিদুল ইসলাম জানান, আগে সপ্তাহে কিংবা ১০ দিন পরপর গাড়ি মেরামতের প্রয়োজন হতো। এখন এক-দুই দিন পরপরই মেকারের কাছে যেতে হচ্ছে। এতে মেরামতের খরচ বেড়েছে, কিন্তু যাত্রী কমে যাওয়ায় আয় কমেছে। তিনি বলেন, গর্তে পানি জমে থাকায় কোথাও গাড়ি উল্টে যাওয়ারও আশঙ্কা থাকে। এ কারণে অনেক যাত্রীও এই সড়ক এড়িয়ে বিকল্প পথে চলাচল করছেন।
অটোরিকশা চালক ফেরদৌস বলেন, কয়েক বছর ধরেই সড়কটির অবস্থা খারাপ। এখন ভাঙাচোরা অবস্থার কারণে রিকশা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, সড়কের পুরো কাজ শেষ করতে সময় লাগলেও অন্তত খানাখন্দগুলো দ্রুত ভরাট করে রাস্তাটি সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করে দেওয়া হোক।
সড়ক দিয়ে নিয়মিত চলাচলকারী লোকজনও দ্রুত সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। মোমিন রশীদ নামে একজন বলেন, কাজের তেমন অগ্রগতি দেখা যায়নি। বর্তমানে মূলত ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। কয়েকটি জায়গায় ৪ মাসেও প্রায় ৩০০ মিটার ড্রেনের কাজ শেষ হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আরও জনবল দিয়ে কাজের গতি বাড়াতে হবে। না হলে ড্রেন নির্মাণেই যদি এত সময় লাগে, এরপর সড়কের কাজ শেষ হতে আরও কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। তিনি দাবী করেন, সিটি কর্পোরেশন থেকে যেন আপাতত খানাখন্দগুলো ভরাট করে চলাচলের ব্যবস্থা করে দেয়।
সড়ক দিয়ে চলাচলকারী মিজান ও লেমন নামে দুই ব্যক্তি বলেন রাস্তার কাজ পুরোপুরি শেষ হতে সময় লাগতে পারে। কিন্তু বর্তমানে সড়কটির অবস্থা এতটাই খারাপ যে চলাচল করা যাচ্ছে না। মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের জন্য অন্তত রাস্তাটি সাময়িকভাবে ঠিক রাখা দরকার। তা না হলে প্রকল্পের কাজ চলার পুরো সময়টাতেই মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হবে।
প্রকল্পের মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শামিম এন্টারপ্রাইজ (প্রা.) লিমিটেড, এসইপিএল-আরএসই (জেভি)। তবে মূল ঠিকাদারের হয়ে বগুড়ার আর এস কনস্ট্রাকশন কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম জানান, নেকটার থেকে সাতমাথা পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক এবং সাতমাথা থেকে করতোয়া নদী পর্যন্ত আরেকটি প্রকল্পের ড্রেন নির্মাণের কাজও তারা করছেন। তার দাবি, ইতোমধ্যে কাজ করতে গিয়ে তাদের বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়েছে। তবে বিল না পাওয়ায় কাজের গতি কমেছে। তিন কোটি ১৭ লাখ টাকার একটি আংশিক বিল সিটি করপোরেশনে জমা দেওয়া হয়েছে। বিলটি পেলে কাজের গতি বাড়িয়ে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী মুহম্মদ সাইদ আলী বলেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। কাজের শর্ত অনুযায়ী বিল দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। বিলের কারণে কাজ বন্ধ বা ধীরগতিতে করার সুযোগ নেই। ঠিকাদারকে সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কাজ শুরু না করলে প্রয়োজনে নতুন করে ঠিকাদার নিয়োগের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন বলেন, মূল ঠিকাদার সরাসরি কাজে আসছেন না। তার পরিবর্তে বগুড়ার একটি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। তাদের বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও কাজের গতি বাড়ছে না।
রাস্তা সাময়িক চলাচলের উপযোগী করার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি গত পরশুদিনই ঠিকাদারকে ফোন করে বিষয়টি বলে দিয়েছি। তারা এই সপ্তাহের মধ্যে কাজটি শেষ করার কথা জানিয়েছে। খানাখন্দগুলো ভরাট করে রাস্তার ওপর রোলার চালিয়ে দেওয়া হবে, যাতে মানুষ চলাচলের সময় আর ঝাঁকুনি না পায়।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন










