শিশুসন্তানকে ফাঁস দেওয়ার চেষ্টার ভিডিও ভাইরাল, মা আটক

ফরিদপুরের নগরকান্দায় নিজের শিশুসন্তানকে ফাঁস দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বিথী আক্তার (৩০) নামে এক মায়ের বিরুদ্ধে। ঘটনার ভিডিও নিজেই মোবাইল ফোনে ধারণ করার পর সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে অভিযান চালিয়ে ওই নারীকে আটক করেছে পুলিশ। নিরাপত্তার জন্য তাঁর দুই সন্তানকেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আটক নারীর নাম বিথী আক্তার (৩০)। তিনি ওই গ্রামের মালদ্বীপপ্রবাসী আব্বাস আলীর স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে শিশুকে ফাঁস দেওয়ার চেষ্টার একটি ৫৯ সেকেন্ডের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি নজরে আসার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আলোচনা শুরু হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, টিনশেড ঘরের বাঁশের আড়ায় একটি ওড়না ঝুলছে। শিশুটিকে নিয়ে ঘরের একটি চৌকির ওপর ওঠেন বিথী আক্তার। একপর্যায়ে শিশুটির গলায় ওড়না জড়ানোর চেষ্টা করলে শিশুটি কান্নাকাটি ও চিৎকার শুরু করে। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ঘরের দরজায় জোরে আঘাত করতে থাকেন। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতি ও চিৎকারে শিশুটিকে ছেড়ে দেন ওই নারী। ভিডিওতে শিশুটিকে কাঁদতে কাঁদতে ‘আমাকে বাঁধিও না, ছেড়ে দাও- বলতে শোনা যায়।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এর উৎস ও ঘটনাস্থল শনাক্তে তৎপর হয় নগরকান্দা থানা পুলিশ। এর মধ্যে শিশুটির ফুফু রনি বেগমও থানায় ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে জানান।
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের একাধিক টিম বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করে। অনুসন্ধানে ঘটনাস্থল রামনগর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে বিথী আক্তারকে আটক করে থানায় আনা হয়।
ওসি আরও জানান, বিথী আক্তারের দুই সন্তান আবীর (৯) ও তাবির (৭)-কেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের কাছে বিথী আক্তার দাবি করেছেন, তাঁর স্বামী আব্বাস আলী প্রায় আট বছর ধরে মালদ্বীপে অবস্থান করছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশে আসেন না। স্বামীকে ওই ভিডিও পাঠানোর উদ্দেশ্যেই এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন।
তবে ঘটনার পেছনে প্রকৃত কারণ কী, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে বলে জানিয়েছেন নগরকান্দা থানার ওসি।
(ঢাকা টাইমস/৩০সেপ্টেম্বর/এসএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












