ঘাটাইলে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৪৫
অ- অ+

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে তামান্না ইসলাম তরী (১৮) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে উপজেলার ১ নম্বর দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের উত্তর খিলগাতী মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত তরী আক্তার উত্তর খিলগাতী গ্রামের প্রবাসী তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে। ঘটনার পর স্বামী মোহাম্মদ রোমান পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ঘাটাইল ও মধুপুর থানা পুলিশ দুই থানার সীমান্ত এলাকা বেরিকেট দিয়ে ঘাতক স্বামী রোমানকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

জানা যায়, মাত্র সাত মাস আগে পারিবারিকভাবে তামান্না ইসলাম তরীর বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী মধুপুর উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চাপারকোনা গ্রামের ইন্টারনেট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রোমান মিয়া সঙ্গে। রোমান নিহত তরী আক্তারের মধ্যে পারিবারিক কলহ ছিল।

গ্রেপ্তারকৃত রোমান আলোকদিয়া ইউনিয়নের চাপারকোনা গ্রামের তুলা মিয়ার ছেলে।

তরীর মা সাহানাজ বেগম বলেন, আমার এক মেয়ে এক ছেলে। মেয়েটি বড় ছিল। অল্প কিছুদিন আগে মেয়ের বাবা বিদেশ থেকে এসে অনেক টাকা খরচ করে পারিবারিকভাবে রোমানের সঙ্গে মেয়েকে বিয়ে দেয়। বিয়ের সময় ৭ ভরি স্বর্ণসহ মোটা অংকের নগদ টাকা যৌতুক দেয়া হয়। মাত্র সাত মাস আগে বিয়ে দিলেও বিয়ের সময় মেয়েকে দেয়া স্বর্ণ ও নগদ টাকা মোবাইলে জুয়া খেলে নষ্ট করে ফেলে। ফলে প্রায় সময় মেয়েকে বাড়ি থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করত। আমরা আর অতিরিক্ত টাকা না দিতে পারায় আমার কলিজার টুকরা তরীকে সময় অসময়ে বিভিন্ন নির্যাতন মারধর ও বকা ঝকা করত। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত শুক্রবার রাগ করে স্বামীর বাড়ি থেকে শাশুড়িকে বলে আমার বাড়িতে চলে আসে। মাঝখানে চার পাঁচ দিন মেয়ের কোন খোঁজ না নিয়ে হঠাৎ গতকাল মঙ্গলবার বিকালে জামাই রোমান আমার বাড়িতে আসে। এসে তরীকে তার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করে। তরী স্বামীর সঙ্গে জামাই বাড়ি যেতে অস্বীকৃতি জানালে আমার সামনেই তরীকে কয়েক দফা মারধর করে। দুজনেই রাতের খাবার না খেয়ে আমার বাড়ির নিচতলার বেডরুমে তারা গিয়ে ঘুমানোর উদ্দেশ্যে শুয়ে পড়ে। আমি দোতলায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। হঠাৎ মধ্যরাতে আমার মেয়ের ডাক চিৎকার শুনে নিচে নেমে এসে দরজা বন্ধ দেখে ডাকাডাকি করতে থাকি। ঘরের ভেতর থেকে কান্নার শব্দ শুনতে পাই। পরে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় ঘরের দরজা ভেঙে রক্তাক্ত অবস্থায় আমার মেয়েকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে ভোররাতে চিকিৎসার জন্য মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আমার মেয়েকে মৃত ঘোষণা করে। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার দাবি করছি।

দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও স্থানীয় ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবু হানিফ বলেন, মেয়েটিকে নির্মমভাবে অত্যাচার করে তার স্বামী মেরে ফেলেছে। মেয়েটির পরিবার একটি সুখী পরিবার। মাত্র সাত থেকে আট মাস আগে মেয়েটির বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী আলোকদিয়াা ইউনিয়নের পারসি গ্রামে। ঘটনার পরপরই আমি মেয়ের বাড়িতে গিয়ে ঘাটাইল থানা পুলিশকে অবগত করি। মেয়েটির শরীলে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সঠিক বিচার দাবি করছি।

ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকছেদুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত রোমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে । নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

(ঢাকা টাইমস/৩০সেপ্টেম্বর/এসএ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
পরীক্ষাব্যবস্থা ডিজিটালাইজেশনে একিউএ গ্লোবালের সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চুক্তি
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সংরক্ষিত নারী আসন শূন্য ঘোষণা
২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু
ফুটপাত দখলমুক্তে আপসহীন ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান