যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে ২০০ বছর পর নারীর মৃত্যুদণ্ড, চূড়ান্ত অনুমোদন সুপ্রিম কোর্টের

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রায় ২০০ বছর পর কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। হত্যাকাণ্ডের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথ পরিষ্কার করে দিয়েছিল দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। তবে ৩০ সেপ্টেম্বর প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫০ বছর বয়সী পাইককে প্রায় তিন দশক আগে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ১৯৯৫ সালে ১৮ বছর বয়সে তিনি তার সহপাঠী কোলিন স্লেমারকে হত্যার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন। আধুনিক যুগে টেনেসিতে ১৮ বছর বয়সে সংঘটিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড পাওয়া একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন তিনি।
পাইককে মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই দেওয়ার আবেদন সম্প্রতি টেনেসির গভর্নর বিল লি প্রত্যাখ্যান করেন। তার আইনজীবীরা আবেদনে পাইকের শৈশবের নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ইতিহাস তুলে ধরে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন করেছিলেন। গভর্নর ২৮ সেপ্টেম্বর সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন।
এরপর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা আগে ষষ্ঠ সার্কিট আপিল আদালতের একটি বেঞ্চ সাময়িক স্থগিতাদেশ দেয়। পাইকের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, সাজা দেওয়ার সময় তার শৈশবের যৌন নির্যাতনের প্রমাণ যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।
টেনেসির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় দ্রুত সুপ্রিম কোর্টে স্থগিতাদেশ বাতিলের আবেদন করে। ৩০ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতের স্থগিতাদেশ তুলে নিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথ খুলে দেয়। আদালতের আদেশে বলা হয়, ষষ্ঠ সার্কিটের দেওয়া স্থগিতাদেশ বাতিল করা হলো। তবে বিচারপতি সোনিয়া সোটোমেয়র, বিচারপতি এলেনা কাগান ও বিচারপতি কেটানজি ব্রাউন জ্যাকসন এতে ভিন্নমত দেন।
টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন জানিয়েছিল, ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনে ৩০ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা ছিল।
সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয়। তবে প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পরও তার মৃত্যু হয়নি। পরে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে কারাগারের বাইরে একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।
পাইক টেনেসির একমাত্র নারী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দী ছিলেন। তার মামলাটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে, কারণ যে হত্যাকাণ্ডের জন্য তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, সেটি সংঘটনের সময় তার বয়স ছিল ১৮ বছর। তার আইনজীবীরা সাজা নির্ধারণের সময় শৈশবে তার ওপর হওয়া যৌন নির্যাতন ও অন্যান্য মানসিক আঘাত যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি বলে দাবি করে আসছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে নারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল। পাইকের ঘটনা টেনেসিতে প্রায় দুই শতাব্দীর মধ্যে কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রথম প্রচেষ্টা হিসেবে বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। তবে ৩০ সেপ্টেম্বরের প্রচেষ্টা সফল না হওয়ায় বিষয়টি এখন নতুন আইনি ও প্রশাসনিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
(ঢাকাটাইমস/১ অক্টোবর/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













