শেখ হাসিনাকে কেন আশ্রয় দিল ভারত, ব্যাখ্যা দিলেন হাইকমিশনার

ঢাকা টাইমস ডেস্ক
  প্রকাশিত : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৫৮
অ- অ+

শেখ হাসিনা কীভাবে ভারতে গেলেন এবং সে সময় কেন তাকে গ্রহণ করা হয়েছিল, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের তৎকালীন পরিস্থিতির বাস্তবতায় প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত শেখ হাসিনাকে গ্রহণ করেছিল। তাঁকে ভারতীয় বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে যায়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শনিবার ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড বলরুমে অনুষ্ঠিত একটি অধিবেশনে এসব কথা বলেন দীনেশ ত্রিবেদী।

ভারতের হাইকমিশনার বলেন, শেখ হাসিনা যখন ভারতে যান, তখন বাংলাদেশে একটি মর্মান্তিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। ওই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতেই তিনি ভারতে এসেছিলেন। পৃথিবীর কোনো প্রান্তেই যেন ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয়, যেখানে মানুষকে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, শেখ হাসিনাকে ভারতীয় বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে যায়নি। সে সময় একটি সামরিক বিমান ভারতে এসেছিল। এমন পরিস্থিতির জন্য ভারতও আগে থেকে প্রস্তুত ছিল না।

তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও তখন টেলিভিশনে দেখছিলাম। স্ক্রলে প্রচার করা হচ্ছিল যে তিনি অন্য কোনো দেশে যাচ্ছেন। সেই মুহূর্তে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ফলে পরিস্থিতির বাস্তবতায় আমাদের সামনে খুব বেশি বিকল্পও ছিল না।’

প্রতিবেশী দেশ হিসেবে সে সময়ের বাস্তবতা গ্রহণ করাই ভারতের দায়িত্ব ছিল বলে মন্তব্য করেন দীনেশ ত্রিবেদী। তাঁর ভাষ্য, কখনো কখনো এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যার জন্য কোনো দেশই আগে থেকে প্রস্তুত থাকে না।

তিনি বলেন, ভারত যদি শেখ হাসিনাকে গ্রহণ না করত, এমনকি অবতরণের অনুমতিও না দিত, তাহলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াত, তা বলা কঠিন ছিল।

ভারতের হাইকমিশনার বলেন, ‘এটাই ছিল সেই সময়ের ঐতিহাসিক বাস্তবতা।’

বর্তমান পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে একটি আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানান দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান একাধিকবার স্পষ্ট করেছেন।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়টি আইনগত ও সুসংগঠিত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে এবং আদালতও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। ফলে তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বলা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক দেশ এবং দেশটির মানুষ আইনের শাসন ও বিচারব্যবস্থাকে সম্মান করে। ভারতও একটি প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে তার আইনগত প্রক্রিয়াকে সম্মান করে।

ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের আসামিদের ফেরত দেওয়ার বিষয়েও একই ধরনের আইনগত প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করেন ভারতের হাইকমিশনার। তিনি বলেন, এ ধরনের বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়ার সুযোগ নেই, কারণ বিষয়গুলো আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
চায়ের দোকানে উত্তপ্ত পরিস্থিতি থামাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে তরুণের মৃত্যু
হাম উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু
আখতারুজ্জামানের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে মুক্তি দিতে হবে: গোলাম পরওয়ার
বন্ধের পথে খুলনার বৃহৎ লেদার কারখানা, কর্মহীন হওয়ার শঙ্কায় দেড় হাজার শ্রমিক