নিয়োগপত্র পেলেন বসতভিটা না থাকা সেই মিশন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২২:০৩
অ- অ+

স্থায়ী বসতভিটা বা নিজস্ব আবাসন না থাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র আটকে থাকা মিশন আচার্য অবশেষে নিয়োগপত্র পেয়েছেন।

সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে নিয়োগপত্রের ছবি দিয়ে এ তথ্য জানান।

ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান লেখেন, আলোচিত মিশন আচার্য আজ চূড়ান্তভাবে নিয়োগ পেয়েছেন। আজ থেকে তাঁর নামের আগে শিক্ষক শব্দটি যুক্ত হলো। আমি তাঁকে একজন আদর্শ শিক্ষক হওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছি। তিনি যেন হাজারো শিক্ষার্থীর প্রিয় শিক্ষক হতে পারেন। শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন শিক্ষক মিশন আচার্য। ভবিষ্যৎ সুন্দর ও সাবলীল হোক।

মো. রাশেদ আরও লেখেন, ‘আশা করি, স্থায়ী বসতভিটা না থাকার কারণে আর কোনো মিশন আচার্যকে ভোগান্তির শিকার হওয়ার লাগবে না। আমি সকল সাংবাদিককে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই, যারা মানসিক সাপোর্ট দিয়ে মিশন আচার্যের পাশে ছিলেন। বিশেষ করে আমাদের শিক্ষামন্ত্রীকে অসংখ্য ধন্যবাদ, যিনি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।’

এর আগে, গত রোববার মিশন আচার্যকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল মিলনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রাশেদ খাঁন। এ সময় মিশনের নিয়োগপত্র আটকে থাকার বিষয়টি মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন তিনি। পরে শিক্ষামন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁকে নিয়োগপত্র দেওয়ার উদ্যোগ নেন।

বসতভিটা না থাকা সেই মিশন আচার্যের চাকরির জট খুললবসতভিটা না থাকা সেই মিশন আচার্যের চাকরির জট খুলল ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫’-এ চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়ে মেধার ভিত্তিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হন মিশন। একই সময়ে সুপারিশ পাওয়া ১৮২ জনের মধ্যে ১৮০ জন নিয়োগপত্র পেলেও স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিত না হওয়ায় মিশনের নিয়োগপত্র আটকে যায়।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকায় ভাড়া বাসায় বেড়ে ওঠেন মিশন। চাকরির আবেদনে তিনি ওই ঠিকানা ব্যবহার করেন। পরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিত না হওয়ায় তাঁর নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না। তবে পুলিশি যাচাইয়ে কলাবাগানের ওই ঠিকানায় তাঁর বসবাসের তথ্য সঠিক পাওয়া যায়।

মিশনের জন্মের আগেই তাঁর বাবা নন্দ আচার্য পরিবার ছেড়ে চলে যান। এরপর মা ময়না আচার্য গৃহকর্মীর কাজ করে দুই ছেলেকে বড় করেন। আর্থিক সংকটের মধ্যেও মিশন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

বসতভিটা নেই, তাই প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে বাদ পড়লেনবসতভিটা নেই, তাই প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে বাদ পড়লেন মিশনের নানাবাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পণ্ডিতপুর গ্রামে। সেখানেও তাঁদের নিজস্ব বাড়ি নেই। ২০২২ সালে তাঁর এক মামা তাঁকে দুই শতক জমি লিখে দেন। চাকরি পাওয়ার পর ওই জমিতে ঘর তুলে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা ছিল মিশনের।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
আগারগাঁওয়ে গার্মেন্টস-ফুটপাত-অ্যাম্বুলেন্সে চাঁদাবাজি, বিএনপি নেতা স্বপন গ্রেপ্তার
খাদ্য নিরাপত্তায় বাংলাদেশকে ৩০০ মিলিয়ন ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক
বাব আল-মানদেব প্রণালিতে হুতিদের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের বড় পরাজয়: ইরান
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের ৩ নেতাকর্মী বহিষ্কার