সিজেপির অভিজিৎ দীপকসহ তিন নেতাকে বিমানে উঠে আটক করল পুলিশ, উত্তপ্ত দিল্লি

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৭
অ- অ+

ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকসহ তিন নেতাকে দিল্লি বিমানবন্দর থেকে আটক করেছে পুলিশ। আজ শনিবার সকালে মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর বিমানের ভেতর থেকেই তাঁদের আটক করা হয়। আটক অন্য দুজন হলেন সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। খবর আনন্দবাজার’র।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার সকাল ১০টা ১৯ মিনিটের দিকে তাঁদের বহনকারী বিমানটি দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করছিল পুলিশ। বিমান অবতরণের পর পুলিশ সদস্যরা ভেতরে প্রবেশ করে সিজেপির তিন নেতাকে আটক করেন। এ সময় অন্য যাত্রীদেরও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

আটকের আগে অভিজিৎ দীপকসহ সিজেপি নেতারা বিমানের ভেতর থেকে ইনস্টাগ্রামে সরাসরি সম্প্রচার করেন। সেখানে তাঁদের সঙ্গে পুলিশের কথাকাটাকাটির দৃশ্য দেখা যায়। অভিজিৎ দীপক বলেন, গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কা জেনেই তাঁরা দিল্লিতে এসেছেন। পুলিশকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, তাঁরা বিমান থেকে নামা পর্যন্ত অপেক্ষা করা যেত।

দিল্লি পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সিজেপির তিন নেতাকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁদের আটক করতে দক্ষিণ-পশ্চিম জেলা পুলিশের সদস্যদের বিমানবন্দরে মোতায়েন করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

নেতাদের আটকের পর বিবৃতি দিয়েছে সিজেপি। দলটির অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগেই নেতৃত্বকে আটকে দিতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ পদক্ষেপ নিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রত্যেক নাগরিকের স্বাধীনভাবে চলাফেরার অধিকার রয়েছে। সেই অধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা জানিয়ে অভিজিৎ দীপক, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে দলটি।

এর আগে দিল্লির জন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত বিক্ষোভে যোগ দিতে যাওয়ার সময় গুরুগ্রামের বাসা থেকে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও আটক করে পুলিশ। এ ছাড়া সিজেপির আরও কয়েকজন নেতা ও কর্মীকে আটক করার খবর পাওয়া গেছে। দলটির এক নেতা জানিয়েছেন, তাঁদের আইনি বিষয় দেখাশোনা করা আইনজীবী রত্না সিংহকেও বিক্ষোভে যাওয়ার পথে বাধা দেওয়া হয়।

সিজেপির বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাত থেকেই দিল্লিতে ধরপাকড় শুরু হয় বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখা, ইন্টারনেট সেবা সীমিত করা এবং ট্রেন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের খবর পাওয়া গেছে। জন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিংও করা হচ্ছে।

এদিকে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন শনিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দলগুলোর সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিরোধীরা রাজধানীর শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছে।

নিতিন নবীন বলেন, দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও উন্নয়ন ব্যাহত করার চেষ্টা চলছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের নেতৃত্বে বিরোধী জোটের নেতা রাহুল গান্ধী এবং অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও তাঁর সহযোগীরা রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে বিক্ষোভের আয়োজক সিজেপি তাদের কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ হিসেবে বর্ণনা করেছে। নেতাদের আটকের ঘটনায় রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি দিল্লিতে নিরাপত্তা ও নাগরিক চলাচল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/১০ অক্টোবর/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
শিগগিরই সৌদি আরব সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
বিক্ষোভের সময় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক করলো পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্রে কনসার্টে গুলি ও বোমা হামলার হুমকি, মঞ্চে ওঠা হলো না গায়িকা এলা ল্যাংলির
তেজগাঁওয়ে ৮ হাজার ৪০০ ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার