পুলিশের রহস্য উদঘাটন: অটোরিকশাচালক সুমনই তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে

ঢাকা টাইমস ডেস্ক
  প্রকাশিত : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৭| আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৯
অ- অ+

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে অটোরিকশাচালক সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, সুমন একাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। চট্টগ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় কুমিল্লার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া।

এর আগে শুক্রবার কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানিয়েছিলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তাজমিনের মুঠোফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা এবং ঘটনাস্থলে ধস্তাধস্তির আলামত পাওয়ার পর তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।

পুলিশের অনুসন্ধান অনুযায়ী, সুমন তাজমিনকে অটোরিকশায় তুলে শহরের দিকে না গিয়ে অন্য পথে নিয়ে যান। পরে লালমাই উপজেলার জগতপুরের একটি ধানখেতে গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) গভীর রাতে বাস থেকে নেমে কুমিল্লা শহরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় ফেরার জন্য সুমনের অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। রাত ১২টা ১৯ মিনিটে তাকে সর্বশেষ কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে দেখা যায়।

অভিযোগ অনুযায়ী, তাজমিনকে নিয়ে শহরের দিকে না গিয়ে সুমন বিজরা, রসুলপুর ও শিকারীপাড়া হয়ে লালমাই উপজেলার জগতপুরের দিকে যেতে থাকেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে তাজমিন রাত ২টা ৫৮ মিনিটে চলন্ত অটোরিকশা থেকে বাবার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে লাইভ লোকেশন ও বার্তা পাঠিয়ে উদ্ধারের আকুতি জানায়। তবে গভীর রাতে ঘুমিয়ে থাকায় তাঁর বাবা বার্তাটি দেখতে পাননি।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জগতপুরের ধানখেতে পৌঁছানোর পর আত্মরক্ষার জন্য পালানোর চেষ্টা করেও বাঁচতে পারেনি কিশোরীটি।

পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলের পাশে একটি অটোরিকশাও পড়ে ছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। তদন্তের একপর্যায়ে সুমনকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে চট্টগ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নিহত জান্নাতুল তাজমিন কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়নি।

তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম একটি ওষুধ কোম্পানিতে কর্মরত। পরিবারটি কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকত। তাঁদের গ্রামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামে।

পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিল তাজমিন।

(ঢাকাটাইমস/১০ অক্টোবর/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
তেজগাঁওয়ে ৮ হাজার ৪০০ ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
সুশাসন, দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন
রাজনীতিতে ‘স্পিড মানি’ ও ওয়াশিং মেশিন সিন্ড্রোম: ত্যাগী কর্মীদের আর্তনাদ ও তারেক রহমানের কাছে খোলা চিঠি
ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫২৩, মামলা ৪০