নতুন ডিসি-ইউএনওদের নিয়ে সাবেক সচিব আবদুল আউয়াল মজুমদারের খোলামেলা কথা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:২৯
অ- অ+

নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) সততা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক সচিব ও লেখক একেএম আবদুল আউয়াল মজুমদার। একই সঙ্গে অনুজ কর্মকর্তাদের সঠিকভাবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। ‘খোলামেলা কথা’ শিরোনামের ওই পোস্টে নিজের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আত্মসমালোচনা করার আহ্বান জানান।

আবদুল আউয়াল মজুমদার লেখেন, ‘আমরা অনেক অন্যায় করেছি, জনগণের আস্থা হারিয়েছি।’ পরিস্থিতির কারণে অনেক ভালো কর্মকর্তাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

নতুন ডিসি ও ইউএনওদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, আমরা যাতে সততার সাথে পেশাদার হিসেবে মাথা উঁচু করে চলি। আমরা যাতে অবিবেচকের মতো আচরণ না করি। নিজেরা ভালো কাজ করুন। অনুজদেরকে ভালো কাজের দীক্ষা দিন। তাদেরকে যোগ্যরূপে গড়ে তুলুন।

নিজের কর্মজীবনের একটি অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সাবেক এই সচিব লেখেন, কয়েক মাস আগে একটি ক্যাডারের ৩০ জন নবীন কর্মকর্তার সঙ্গে মতবিনিময় করতে তাদের একাডেমিতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে সুশাসনের বিষয়ে কথা বলার পাশাপাশি কর্মকর্তাদের চাকরির পছন্দ নিয়ে একটি প্রশ্নমালা দেন।

নিজের বক্তব্যের শুরুতে তিনি জানান, ১৯৮২ সালের নিয়মিত ব্যাচের কর্মকর্তা হিসেবে তার প্রথম পছন্দ ছিল পররাষ্ট্র ক্যাডার, দ্বিতীয় পছন্দ প্রশাসন। তবে তিনি পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুযোগ পাননি।

আবদুল আউয়াল মজুমদারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশ্নমালার উত্তরে ৩০ জন নবীন কর্মকর্তার মধ্যে মাত্র একজন লিখেছেন, তিনি প্রথম পছন্দ অনুযায়ী চাকরি পেয়েছেন। ২৫ জন জানিয়েছেন, তাদের প্রথম পছন্দ ছিল প্রশাসন, কিন্তু তারা সেখানে সুযোগ পাননি। দুজনের প্রথম পছন্দ ছিল পুলিশ এবং দুজনের পররাষ্ট্র ক্যাডার; তারাও প্রথম পছন্দ অনুযায়ী চাকরি পাননি।

নিজের বক্তব্যের শুরুতে সত্য স্বীকার করায় নবীন কর্মকর্তারাও প্রকৃত তথ্য দিয়েছেন বলে মনে করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, যত নষ্টের মূল হলাম আমরা বড়রা। আমরা অহরহ মিথ্যা বলি, বেফাঁস বলি, তথ্য লুকাই, পরিমিতিবোধ উপলব্ধি করি না, গুণীকে সম্মান করতে জানি না।

বয়োজ্যেষ্ঠদের এমন আচরণ অনুজদের ভুল পথে পরিচালিত করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, এর ফলে সামগ্রিকভাবে একটি পেশাজীবী গোষ্ঠী হিসেবে মানুষের কাছে নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে।

পোস্টে নিজের কর্মজীবনের শুরুর দিকের কর্মকর্তাদের কথাও স্মরণ করেন সাবেক এই সচিব। তার প্রথম জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান ও দ্বিতীয় জেলা প্রশাসক ম. শফিউল আলমের পাশাপাশি প্রথম জেলা ও দায়রা জজ এম এম রুহুল আমিন এবং ড. সা’দত হুসাইনকে নিজের কর্মজীবনের অভিভাবক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

এম এ মান্নান সম্পর্কে আবদুল আউয়াল মজুমদার লেখেন, জেলা প্রশাসক হিসেবে তিনি সততা, ব্যক্তিত্ব, জ্ঞান, নেতৃত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা ও সাহসের ক্ষেত্রে অনন্য ছিলেন। হাতে-কলমে কাজ শিখিয়ে নিজের কর্মজীবন গঠনে অবদান রেখেছেন তিনি।

পোস্টে তিনি স্পষ্ট করেন, জেলা প্রশাসক হিসেবে এম এ মান্নানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ কর্মসম্পর্ক থাকলেও পরে মন্ত্রী হিসেবে তার সঙ্গে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়নি। রাজনৈতিক সম্পর্ক থেকে দূরে থাকতে চাওয়ার কারণেই মন্ত্রী থাকাকালে তার আমন্ত্রণে সাড়া দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি। তবে এ জন্য তার প্রতি কোনো অভিমান নেই বলেও উল্লেখ করেন।

সাবেক এই সচিব লেখেন, নিজের মধ্যে যে ভালো গুণটুকু রয়েছে, তার জন্য তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে ঋণী। আর নিজের মধ্যে থাকা মন্দের দায় নিজের বলেও স্বীকার করেন তিনি।

পোস্টে সাবেক দুই জেলা প্রশাসকের সততার উদাহরণও তুলে ধরেন আবদুল আউয়াল মজুমদার। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৬৬ ব্যাচের সিএসপি কর্মকর্তা আবুল হাসনাত মোফাজ্জল করিম ১৯৮০ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত ঢাকার জেলা প্রশাসক ছিলেন। তার সময়ে নেজারতের অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার না করার বিষয়টি এখনো আলোচিত হয়।

এ ছাড়া ১৯৫৭ ব্যাচের ইপিসিএস কর্মকর্তা আমিন মিয়া চৌধুরী ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত বগুড়ার জেলা প্রশাসক ছিলেন। তার সততার কথাও এখনো মানুষের মুখে মুখে আলোচিত হয় বলে উল্লেখ করেন লেখক।

নিজের ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি লেখেন, হাটবাজারে নেজারতের অর্থের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না।

পোস্টের শেষ দিকে নতুন ডিসি ও ইউএনওদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, তারা তাদের প্রশিক্ষণাধীন কর্মকর্তাদের সঠিক শিক্ষা দিচ্ছেন কি না। তার মতে, কোথাও ত্রুটি রয়েছে বলেই প্রশাসনের বিরুদ্ধে এত দুর্নাম শোনা যায়।

সবশেষে সবার মঙ্গল কামনা করে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন সাবেক এই সচিব।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
মিরপুরে ‘চাঁদাবাজ’ পাপেলের পৃষ্ঠপোষক কে?
সাংবাদিক আলিফ হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন
ঢাকার ২৫৭ পূজামণ্ডপে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি করবে ডিএমপি: কমিশনার
মোটরসাইকেলের সামনে নম্বরপ্লেট লাগানো নিয়ে সময়সীমা বেঁধে দিল বিআরটিএ