তরুণদের নেতৃত্বেই গড়ে উঠবে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ: ডেপুটি স্পিকার

আজকের তরুণদের নেতৃত্বেই আগামী দিনের সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে ফিউচার বাংলাদেশ আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬’ (বিওয়াইএমইউএন) সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
কায়সার কামাল বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে আইনের শাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকবে এবং মানুষের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত হবে। তরুণদের শুধু জিপিএ-৫ অর্জনের পেছনে ছুটলে চলবে না। তাঁদের মেধা ও উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তিকে ইতিবাচক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কাজে লাগাতে হবে।
তিনি বলেন, এমন একটি দেশ গড়তে হবে, যেখানে মানুষ সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে, মানবিক গুণাবলির চর্চা করবে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত থাকবে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্দোলনে তরুণদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে ডেপুটি স্পিকার বলেন, দেশের বড় বড় আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন তরুণেরা। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) প্রকাশিত চূড়ান্ত তথ্য অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তিদের অনেকেই ছিলেন তরুণ। সামাজিক মর্যাদা ও সমান সুযোগের দাবিতে তরুণেরা বরাবরই আন্দোলন করেছেন।
কায়সার কামাল বলেন, ২০০৬ সালের পর থেকে বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়েছে। এই অবস্থান থেকে দেশকে আবার এগিয়ে নিতে হবে। তরুণদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বাংলাদেশকে বিশ্বমানের দেশ হিসেবে গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গেলেও তরুণদের দেশে ফিরে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান ডেপুটি স্পিকার। দুর্নীতি প্রতিরোধে তরুণদের সোচ্চার হওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।
নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়, তা জানতে তরুণদের জাতীয় সংসদের অধিবেশন দেখার পরামর্শ দেন কায়সার কামাল। তিনি বলেন, মতের ভিন্নতা থাকতেই পারে। কেউ কোনো সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করলে তাঁর যুক্তি বোঝার চেষ্টা করতে হবে। যোগ্য নেতৃত্বের অর্থ শুধু নিজে নেতৃত্ব দেওয়া নয়, অন্যদেরও সুযোগ করে দেওয়া। এর মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা বাড়ে এবং অর্থবহ সহযোগিতার পথ তৈরি হয়।
দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের প্রথম দিনে দেশের ৬৪টি জেলা থেকে আসা দুই শতাধিক স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫০০ তরুণ প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডোলান্ড।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












