তিস্তা তীরে ভয়াবহ নদীভাঙন, দেশের তিন বিভাগে বন্যার সতর্কতা

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৬
অ- অ+

উজানের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে দেশের উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। একই সঙ্গে তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করলেও বিভিন্ন এলাকায় তীব্র নদীভাঙন শুরু হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের পার্বত্য এলাকায় কয়েকদিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সেই বৃষ্টির পানি পাহাড়ি ঢল হয়ে তিস্তা নদীতে নেমে আসায় হঠাৎ করেই নদীর পানির প্রবাহ বেড়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিচের দিকে প্রবাহিত হতে পারে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার রাত থেকে তিস্তা নদীর পানি বাড়তে শুরু করে। বুধবার সকালে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে দুপুরের পর থেকে পানি কমতে থাকে এবং সন্ধ্যা ৬টায় তা বিপৎসীমার দুই সেন্টিমিটার নিচে নেমে আসে।

তবে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে তিস্তার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন শুরু হয়েছে। নদীরক্ষা বাঁধের একাধিক স্থানে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে এবং কয়েকটি অংশ ধসে পড়ায় স্থানীয় মানুষের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া শাকসবজি, ভুট্টা ও বাদামের ক্ষেতসহ বিস্তীর্ণ কৃষিজমির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ডোমার ও জলঢাকা উপজেলার নদীতীরবর্তী আটটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ঘরবাড়ির পাশাপাশি মসজিদ, কবরস্থান ও ফসলি জমিও নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।

এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী এক দিনে দেশের রংপুর, সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং সংলগ্ন উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী দুই দিন বাড়তে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার কয়েকটি স্থানে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

একই সময়ে উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিও বাড়তে পারে। তিস্তা ও দুধকুমারের পানি কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

এ ছাড়া ময়মনসিংহ অঞ্চলের সোমেশ্বরী, ভুগাই ও কংস নদীর পানিও বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবারের মধ্যে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার কিছু এলাকায় এসব নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা সৃষ্টি করতে পারে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রটি।

অন্যদিকে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত বাড়তে পারে। গঙ্গা-পদ্মার পানি প্রথম দুই দিন স্থিতিশীল থাকলেও পরবর্তী সময়ে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, সেলোনিয়া, ফেনী ও হালদা নদীর পানিও আগামী তিন দিন বাড়তে পারে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিন দেশের আট বিভাগেই দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে। ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/০৬ আগস্ট/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
তিতুমীরে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের বিরোধ, সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিককে মারধর
মাদরাসার ছাদে খেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, দগ্ধ ৫ শিশু
বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে গিয়ে মারা গেলেন উপসচিব আশরাফুল আফসার
মিশ্র ফলচাষে ভাগ্য বদল নাহিদের