মন্তব্য প্রতিবেদন

পুঁজিবাজারে প্রাণ ফেরাতে যে কারণে দরকার ‘হিরো’কে

মাসুদ আহমেদ
  প্রকাশিত : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৯| আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৬
অ- অ+

বাংলাদেশের পুঁজিবাজার এখন অনেকটা প্রাণহীনতার মুখোমুখি। এর প্রধান কারণ বাজারে প্রাণ ফেরানোর মানুষের অভাব। পুঁজিবাজার আসলে শুধু সূচক, লেনদেন কিংবা কিছু সংখ্যার সমষ্টি নয়। এর ভেতরে জড়িয়ে থাকে লাখো বিনিয়োগকারীর প্রত্যাশা, সঞ্চয়, স্বপ্ন আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।

একটি প্রাণবন্ত বাজার গড়ে তুলতে দরকার এমন কিছু মানুষ, যাদের চিন্তা, সময় ও আগ্রহ গভীরভাবে এই বাজারকে ঘিরেই আবর্তিত হয়। বিশ্বের সব বাজারেই এমনটা দেখা যায়।

বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের একজন ওয়ারেন বাফেট, যাকে বলা হয় বিনিয়োগ গুরু। এমন মানুষজন যখন বাজারে বিচরণ করেন, তখন তা বাজারের প্রাণবন্ততাকেই নির্দেশ করে।

​বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের বেলায় এই প্রসঙ্গে সবার আগে উঠে আসে বহুল আলোচিত নাম আবুল খায়ের, বাজারে যিনি পরিচিত 'হিরো' নামে। একসময় স্থবির পুঁজিবাজার উঠে দাঁড়িয়েছিল তার উপস্থিতিতে। বাজারের প্রতি তার দীর্ঘদিনের আগ্রহ ও সক্রিয় উপস্থিতি আলোচনায় একটি আলাদা মাত্রা যোগ করে। বহু নিষ্ক্রিয় বিনিয়োগকারী আস্থা ফিরে পায় তাকে ঘিরে, নতুন বিনিয়োগকারী হিসাব খোলে বাজারে।

​এমন একজন সক্রিয় বাজারসংশ্লিষ্ট মানুষকে দূরে রাখা হয়েছে বাজার থেকে। তাকে দূরে ঠেলে রাখা কি বাজারকে শক্তিশালী করছে, নাকি নিয়মকানুনের সীমার মধ্যে থেকে তার মতো সক্রিয় অংশগ্রহণকারীদের শক্তিকে কাজে লাগানোই বেশি ফলদায়ক?

​সক্রিয় বিনিয়োগকারী যত বাড়ে, বাজার নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা তত জমে ওঠে। কোম্পানির মৌলভিত্তি নিয়ে গবেষণা ও বিশ্লেষণে আগ্রহ যত বাড়ে, বাজারও তত প্রাণবন্ত হওয়ার সুযোগ পায়। আবুল খায়ের হিরোর মতো মানুষরা এখানেই বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেন।

তারা প্রতিদিন বাজার নিয়ে ভাবেন, কোম্পানির পারফরম্যান্স অনুসরণ করেন, ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করেন। এই চর্চা বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও বিস্তৃত হয়, যা বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এমন আগ্রহকে কীভাবে গঠনমূলক দিকে চালিত করা যায়, সেটি ভাবা।

​কোনো সক্রিয় অংশগ্রহণকারীকে বাজারের নিয়ম, স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার কাঠামোর ভেতরেই মূল্যায়ন করা উচিত। যারা সেই নিয়ম মেনে বাজারে সক্রিয় থাকেন, তাদের অবদানও স্বীকৃতি পাওয়া উচিত।

​আবুল খায়ের হিরোর সক্রিয়তার কথা জানেন বাজারসংশ্লিষ্ট অনেকেই। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে তাই আলোচনায় উঠে আসছে তার কথা। একদা তাকে নিয়ে বিনিয়োগকারীদের বিপুল আগ্রহের ভিড়ে কিছু ভুল-ত্রুটি হয়েছে বটে, কিন্তু তাকে ঘিরে যে আগ্রহ ও আলোচনা সেটিকে উপেক্ষা করা যায় না।

​বাজারে প্রাণ ফেরাতে দরকার আস্থা, স্বচ্ছতা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ। দরকার এমন একটি পরিবেশ, যেখানে যেকোনো বিনিয়োগকারী নির্দ্বিধায় বাজার নিয়ে ভাবতে পারেন এবং নিয়ম মেনে অংশ নিতে পারেন। কাউকে অকারণে দমিয়ে রাখার বদলে নিয়মের ভেতরে থেকে তার ইতিবাচক শক্তিকে কাজে লাগানোই একটি পরিণত পুঁজিবাজারের বৈশিষ্ট্য।

​​আজকের পুঁজিবাজারে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আস্থা। বিনিয়োগকারীরা চান প্রাণবন্ত, স্বচ্ছ ও সুযোগসমৃদ্ধ একটি বাজার, যেখানে ভালো কোম্পানি প্রাপ্য মূল্যায়ন পায়, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারী উৎসাহ পান এবং ইতিবাচক অংশগ্রহণ ক্রমেই বাড়ে।

​​আবুল খায়েরের মতো মানুষরা পুঁজিবাজারে প্রাণ ফেরাতে পারেন, এটি প্রমাণিত। তাদের দীর্ঘদিন ধরে পুঁজিবাজার নিয়ে ভাবনা, আগ্রহ ও সক্রিয়তার শক্তিকে বাজারের ইতিবাচক রূপান্তরের সুযোগ নিয়ে এখন খতিয়ে দেখা দরকার।

​প্রাণবন্ত, শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব একটি পুঁজিবাজার গড়তে শুধু নীতিমালাই যথেষ্ট নয়; দরকার সক্রিয় বিনিয়োগকারী, দরকার অংশগ্রহণ, দরকার আস্থা, আর দরকার বাজারকে ভালোবাসে এমন সক্রিয় মানুষ। তাদেরই একজন আবুল খায়ের হিরো।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সাশ্রয়ী ও দুর্যোগসহনশীল আবাসনে বাংলাদেশকে এডিবির ১০০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ
প্রাথমিকের নিয়োগ বঞ্চিতদের শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি 
দক্ষিণ আফ্রিকায় অতর্কিত গুলিতে ১৭ জন নিহত