দুই বছরেও শেষ হয়নি কুবির বাস্কেটবল কোর্ট ও গ্যালারির নির্মাণকাজ

কুবি প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১২ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৫৫
অ- অ+

নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার দুই বছর পার হলেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাস্কেটবল কোর্ট ও কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের গ্যালারির নির্মাণকাজ এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় খেলাপ্রেমী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।

তাদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় ক্রীড়া অবকাঠামোর অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলাধুলার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও পিছিয়ে পড়ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বাস্কেটবল কোর্ট ও কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের গ্যালারি নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ‘ড্রিম ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। প্রকল্প অনুযায়ী ২০২৪ সালের ১৩ জুলাই কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা সম্পন্ন হয়নি। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বাস্কেটবল কোর্ট না থাকায় নিয়মিত অনুশীলন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস্কেটবল চর্চা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মাঠের গ্যালারির কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় খেলাধুলা উপভোগ করতেও বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় প্রশাসনের আন্তরিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাস্কেটবল কোর্টে কেবল মাটির ভিত্তি এবং দুই পাশে দুটি পিলার নির্মাণ করা হয়েছে। এখনো কোর্টের ফিনিশিং, বাস্কেটবল পোস্ট, রিং ও নেট স্থাপন করা হয়নি। ফলে নির্ধারিত কোর্টের পরিবর্তে শিক্ষার্থীরা সেখানে শর্ট-পিচ ক্রিকেট খেলছেন।

অন্যদিকে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ছয়টি গ্যালারি নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও নির্মিত হয়েছে মাত্র দুটি। এর মধ্যেও গ্যালারির ছাউনিতে ব্যবহৃত কাচের বেশ কয়েকটি অংশ ভেঙে গেছে। ফলে বৃষ্টির সময় শিক্ষার্থীরা সেখানে বসে খেলা উপভোগ করতে পারেন না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রীয় মাঠের গ্যালারির কাজের অগ্রগতি প্রায় ৩০ শতাংশ এবং বাস্কেটবল কোর্টের কাজের অগ্রগতি প্রায় ৭১ শতাংশ। প্রকল্পটির জন্য মোট বরাদ্দ ছিল ৮৭ লাখ ৯৭ হাজার ৭১৯ টাকা। এর মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৩৯ লাখ ৭৮ হাজার ৭২৯ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পের অগ্রগতি না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন খেলোয়াড় ও শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস ক্লাবের সভাপতি এবং ফুটবল খেলোয়াড় এইচ. এম. পিয়াস বলেন, “বাস্কেটবল কোর্ট ও গ্যালারির কাজ আজও অসমাপ্ত। আগের প্রশাসনের সময়ও আমরা বারবার দাবি জানিয়েছি, আশ্বাস পেয়েছি, কিন্তু বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি। কোর্ট না থাকায় আমরা আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বাস্কেটবল টুর্নামেন্টের জন্য দল গঠন পর্যন্ত করতে পারছি না। বর্তমান প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করবে বলে আশা করছি।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিকেট খেলোয়াড় ও অর্থনীতি বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রাফিউল ইসলাম বলেন, “সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও কাজ শেষ না হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। দেশের অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলাধুলার উন্নত সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। দ্রুত কাজ শেষ করে একটি খেলাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা উচিত।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মনিরুল আলম বলেন, “বাজেট আসছে। আশা করি এই অর্থবছরে কাজ হওয়ার সম্ভাবনা আছে।এছাড়াও শেড এবং প্লাটফর্মের জন্য প্রস্তাব দিব।”

এবিষয়ে প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এস.এম. শহীদুল হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের বাজেটে সাধারণত দুইটি প্রধান খাত থাকে। রাজস্ব খাত এবং উন্নয়ন খাত। এগুলো যেহেতু রাজস্ব খাতের কাজ সেহেতু ১ জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করতে হয়। রাজস্ব খাতের কাজগুলো এই এক বছরের মধ্যে শেষ করতে না পারলে বাজেট পুনরায় সরকারের রাজস্ব খাতে চলে যায়। পরবর্তীতে চাহিদা অনুযায়ী আবার কাজ শুরু করা হয়। তারা তাদের অসচেতনতার কারণে জুন মাসের মধ্যে কাজ সম্পূর্ণ করতে পারেনি। তাই তাদের জরিমানা করে আমরা যতটুকু কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে তার টাকা পরিশোধ করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে কোনো গাফিলতি ছিল না। আমরা তাদের কাজের অগ্রগতির জন্য চিঠি দিয়েছি। মূলত তাদের অসহযোগিতার কারণেই কাজটি শেষ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী চাহিদা আসছে, তখন আবার কাজ শুরু হবে। তবে বাস্কেটবল মাঠ সম্পূর্ণ নিমার্ণ হবে গ্যালারি ছয়টা করার কথা থাকলেও বাকি চারটা আর নিমার্ণ করা হবে না।’

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন সরকার বলেন, “বাস্কেটবল মাঠের নির্মাণকাজ এ অর্থবছরের মধ্যে শেষ হবে। আর প্রকল্পে যেসব গ্যালারি নির্মাণের কথা ছিল, সেগুলোও নির্মাণ করা হবে। আগে যে দুটি গ্যালারি নির্মাণ করা হয়েছে, সেগুলোতে ফাইবার প্লাস্টিকের ছাউনি দেওয়ার কথা ছিল, যাতে স্বচ্ছতা থাকে এবং আলো প্রবেশ করতে পারে। কিন্তু তা ভেঙে যাওয়ায় গ্যালারির ওপর ইন্ডাস্ট্রিয়াল টিনের ছাউনি দেওয়া হবে, যাতে রোদ-বৃষ্টির মধ্যেও শিক্ষার্থীরা সুন্দরভাবে খেলা উপভোগ করতে পারে।”

(ঢাকা টাইমস/১২আগস্ট/এসএ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
আগামি বছরের মধ্যে বসিলা ও রায়েরবাজারে আলাদা থানা চালু করা হবে: ববি হাজ্জাজ
ট্রাম্পকে হত্যার নাটক সাজায় ইসরায়েল: তুরস্ক
গভীর রাতে পত্রিকা অফিসে হামলা সাধারণ কোন ঘটনা নয়, স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর চরম আঘাত
গেন্ডারিয়ায় মিষ্টির কারখানায় অভিযান, বিক্রমপুর মিষ্টান্ন ভান্ডারকে ২ লাখ টাকা জরিমানা
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা