ফেব্রুয়ারি সামনে এলে বাংলার কথা ‘মনে পড়ে’ ডিএনসিসির

রেজা করিম
 | প্রকাশিত : ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৩:৫৭

রাজধানীর অভিজাত এলাকার বাড়িঘর, দোকানপাট, বিপণিবিতান ছেয়ে আছে ইংরেজি ভাষার ব্যানার-বিলবোর্ড-সাইনবোর্ডে। অথচ এগুলো বাংলা ভাষায় করতে হবে, এমন আদেশ রয়েছে উচ্চ আদালত থেকে।

এটা মানাতে গত বছর জানুয়ারি মাসে গণবিজ্ঞপ্তি দেয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ইংরেজির বদলে বাংলা ভাষা ব্যবহারে সাত দিন সময়ও বেঁধে দেয় তারা। সময় গড়িয়ে বছর পার হলেও অবস্থা এখনো আগের মতোই আছে। এতদিন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি ডিএনসিসি। ফেব্রুয়ারি সামনে রেখে তারা আবার নড়েচড়ে বসছে। বিষয়টি নিয়ে আবার নেমেছে অভিযানে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিদেশি ভাষার ব্যানার-বিলবোর্ড অপসারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে গত বছরের জানুয়ারিতে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রথম অনুরোধ করেছিল ডিএনসিসি। সেখানে তারা ব্যানার, নামফলক, সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ড বাংলায় লেখার অনুরোধ জানায়। এতে দূতাবাস, বিদেশি সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বাদে বাকি সব প্রতিষ্ঠানের ব্যানার, সাইনবোর্ড, নামফলকও বিলবোর্ড বাংলা ভাষায় লেখার কথা বলা হয়। এর জন্য তারা সময় পায় সাত দিন। তা বাস্তবায়িত না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেয় ডিএনসিসি।

তাদের গণবিজ্ঞপ্তি মেনে নিয়েছে, এমন নমুনা তেমন একটা নেই। তারা কিছু অভিযান চালালেও তেমন সাফল্য আসেনি। ফলে উচ্চ আদালতের আদেশ আর বাস্তবায়িত হয়নি। ডিএনসিসি কারও বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেয়নি।

ডিএনসিসির সংশ্লিষ্টদের দাবি, গত বছর জানুয়ারিতে গণবিজ্ঞপ্তিটি দেওয়ার পরে কিছু প্রতিষ্ঠান নিজ উদ্যোগে বিদেশি ভাষার ব্যানার, সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেলে। ওই সময় তারা মাইকিং করেও নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানায়। পরে গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ডিএনসিসির অভিযানে প্রায় অর্ধশত প্রতিষ্ঠানকে জরিমানাও করা হয়।

অভিযান করতে বছর পার

ব্যানার-বিলবোর্ড বিষয়ে উচ্চ আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে নতুন বছরে আবার অভিযানে নেমেছে ডিএনসিসি। গতকাল ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদ আনোয়ারের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে রাজধানীর বনানীতে সাইনবোর্ড বাংলা ভাষায় না লেখার অভিযোগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে প্রায় তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। কেউ কেউ তোপে পড়ে তাৎক্ষণিকভাবে সাইনবোর্ড অপসারণ করে।

এবারের অভিযান প্রসঙ্গে সাজিদ আনোয়ার ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরে গুলশানের কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান নিজ উদ্যোগে ব্যানার, সাইনবোর্ড প্রতিস্থাপন করে। সবাই কাজটা না করায় আমরা অভিযান চালাই।’

দীর্ঘদিন অভিযান না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অভিযান একেবারেই হয়নি, এটা ঠিক নয়। অন্য অভিযানের সময়ও এ বিষয়টি দেখা হয়েছে। এখন আবার শুধু এ বিষয়েই আমরা মাঠে নেমেছি।’

অভিযান চলবে জানিয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, ‘মানুষ এ বিষয়টি বুঝলেও উদ্যোগের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। আশা করছি, আগামী ৭-১০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে একটা ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :