‘দলে তিন যুগ ধরে কাজের মূল্যায়ন প্রত্যাশা করি’

অনলাইন ডেস্ক
| আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২০, ১২:৪৭ | প্রকাশিত : ২৮ জুলাই ২০২০, ২০:৫৭

প্রায় তিন যুগ ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কফিল উদ্দিন আহমেদ। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তরের বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীও। বৃহত্তর উত্তরা এলাকায় সামাজিক অঙ্গনেও কার্যক্রম আছে তার। সংসদীয় আসন হিসেবে ঢাকা-১৮ এলাকায় বেড়ে উঠেছেন কফিল উদ্দিন। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন মারা যাওয়া এই আসনে সামনে উপ-নির্বাচন। এ নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত আছে বিএনরপির। দলটি ইতিমধ্যে এই নির্বাচনে অংশ নেয়ার কথা জানিয়েছে। তাই এম কফিল উদ্দিনের প্রত্যাশা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়বেন ঢাকা-১৮ উপ-নির্বাচনে। ইতিমধ্যে দলের হাইকমান্ডের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়াও পেয়েছেন বলে দাবি তার।

মনোনয়নপ্রত্যাশী হওয়া, দলে নিজের অবদান, শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পাওয়ার পর নির্বাচন নিয়ে প্রত্যাশা, সবশেষ নিজের এলাকা নিয়ে নির্বাচিত হলে পরিকল্পনা কী হবে তা নিয়ে কথা বলেছেন এম কফিল উদ্দিন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ঢাকা টাইমসের সিনিয়র রিপোর্টার বোরহান উদ্দিন

ঢাকা টাইমস: দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নিয়ে বিএনপির ঘোর আপত্তি। তারমধ্যেও নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহ কেন?

কফিল উদ্দিন: বিগত দিনে যা হয়েছে তা সবাই জানে। উপ-নির্বাচনগুলোতেও সরকার হস্তক্ষেপ করছে সেটাও মানুষ দেখেছে। তারপরও আমার মনে হয় নানা সমালোচনার মধ্যে যদি রাজধানীর মতো জায়গায় উপনির্বাচনে তারা হেরেও যায় তাতে কোনো ক্ষতি হবে না। বরং ভালো ভোট হলে তাদের (সরকার) সুনাম হবে। পেছনে যতটা সমালোচনা হয়েছে তা হয়তো কিছুটা কমবে। তাই আমার ধারণা অতীতের থেকে ভালো নির্বাচন করবে সরকার। এ কারণেই আগ্রহ আমার। আর দল তো সিদ্ধান্ত নিয়েছে এখানে ভোটে থাকবে।

ঢাকা টাইমস: প্রার্থী হতে আগ্রহী হওয়ার পেছনে নিজেকে অন্যদের থেকে কতটুকু যোগ্য ভাবছেন?

কফিল উদ্দিন: আমি উত্তরার আদি বাসিন্দা। বেড়ে ওঠা আমার এখানেই। প্রায় তিন যুগ ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ছাত্রজীবনে আমি ১৯৮৮ সালে টঙ্গী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্র সংসদের ভিপি ছিলাম। বৃহত্তর উত্তরা থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও অবিভক্ত ঢাকা মহানগর বিএনপির প্রচার সম্পাদক ছিলাম। ১৯৯৫ সালে উত্তরা থানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করি। বর্তমানে আমি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। রাজনৈতিক জীবনে দলের জন্য গ্রেপ্তার হয়েছি, নির্যাতনের স্বীকার হয়েছি।

৯০’র স্বৈরশাসক এরশাদবিরোধী, ১৯৯৬ ও ২০১৪ সালের আন্দোলনে রাজপথে ছিলাম। বর্তমানে ১২৯টি রাজনৈতিক মামলা মাথায় নিয়ে রাজনীতি করতে হচ্ছে। যে কারণে আমার বিশ্বাস দল আমাকে মূল্যায়ন করবে। আমি দলকে প্রায় ৩৬ বছর দলকে লালন পালন করেছি। এমন কোনো জায়গা নেই যেখানকার নেতাকর্মীর পাশে থাকিনি। সে হিসেবে দল আমাকে মনোনয়ন দেবে এটা তো প্রত্যাশা করতেই পারি।

ঢাকা টাইমস: রাজনীতির বাইরেও তো ব্যবসায়ী হিসেবে একটা পরিচয় আছে। সেটা মনোনয়ন পেলে বাড়তি সুবিধা দেবে মনে করেন?

কফিল উদ্দিন: ব্যক্তিগতভাবে আমি একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই ও বিজিএমই এর সদস্য। নতুন সংগঠন অটো ব্রিক অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি। দক্ষিণখান ও উত্তরাখানে একটা অবস্থান আছে। গার্মেন্টস শিল্পে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান। ১০-১২ হাজার শ্রমিক কাজ করে আমার প্রতিষ্ঠানে। আমি ১২টি ব্যবসা সফলতার সঙ্গে পরিচালনা করছি। ভালো ভোট হলে এগুলো অবশ্যই প্রভাব সৃষ্টি করবে।

এছাড়াও উত্তরায় বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে মসজিদ, মাদ্রাসা, ক্লাব ও বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠনের সঙ্গে জড়িত আছি। উত্তরা থানা এলাকায় ফায়দাবাদ গণকবর স্থানের জন্য আমি নিজের জমি দান করেছি। আশা করি নির্বাচনে লড়ার সুযোগ পেলে এলাকার মানুষও এসবের মূল্যায়ন করবে। কারণ শুধু রাজনীতি নয়, আমি মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার চেষ্টা করেছি। করোনাকালেও আমরা মাঠে ছিলাম। সাধ্যমত চেষ্টা করেছি। দল এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি।

ঢাকা টাইমস: নির্বাচনে ইশতিহারে কোন কোন বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে?

কফিল উদ্দিন: এই এলাকার সব থেকে বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার দূরাবস্থা। এছাড়া রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করতে হবে সবার আগে। এর বাইরে মাদক ও সন্ত্রাস দূর করা হবে আমার অন্যতম লক্ষ্য।

ঢাকা টাইমস: মনোনয়ন শেষ পর্যন্ত না পেলে কী করবেন?

কফিল উদ্দিন: আমি অবশ্যই আশাবাদী। বিশ্বাস করি মনোনয়ন পাবো। হাইকমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। তারা আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন। তারপরও শেষ পর্যন্ত না পেলে দল যে সিদ্ধান্ত নেবে তা তো মেনে নিতে হবে। কারণ আগে তো দল। তবে আমি সেটা ভাবতেই চাই না।

ঢাকা টাইমস: ধন্যবাদ

কফিল উদ্দিন: ঢাকা টাইমসকেও ধন্যবাদ

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :