ছেলেকে ফাঁসিয়ে শাহরুখের থেকে ২৫ কোটি খসানোর ছক ছিল

বিনোদন ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
  প্রকাশিত : ৩০ মে ২০২২, ১০:২৪| আপডেট : ৩০ মে ২০২২, ১১:৩৪
অ- অ+

মাদক মামলায় ফাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলিউড কিং শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খান। সম্প্রতি সেই মামলা থেকে তাকে ক্লিনচিট দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় মাদক নিয়ন্ত্রক সংস্থা (এনসিবি)। এই সংস্থারই মুম্বাই শাখার জোনাল ডিরেক্টর সমীর ওয়াংখেড়ে অভিযান চালিয়ে গোয়াগামী এক প্রমোদতরী থেকে গ্রেপ্তার করেছিল আরিয়ান ও তার বন্ধুদের।

পরিকল্পনা ছিল, আলিয়ানকে ফাঁসিয়ে তার ধনকুবের বাবা শাহরুখ খানের কাছ থেকে ২৫ কোটি টাকা আদায় করা। এমনই অভিযোগ করেছিলেন, মাদক মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী প্রভাকর সাইল। সেই টাকার বড় একটা অংশ সমীর ওয়াংখেড়ে পেতেন বলেও অভিযোগ করেন সাইল।

এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এনসিবির তরফ থেকে ভিজিল্যান্স তদন্ত করা হয়েছিল। তবে সেই রিপোর্টে উঠে এসেছে, সাইলের অভিযোগের কোনো সারবত্তা নেই। যদিও পুনর্তদন্তের পরে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, আরিয়ানকে ফাঁসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে এর পেছনে টাকা হাতানোর পরিকল্পনা ছিল কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ভিজিল্যান্স তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন এনসিবির ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল (উত্তরাঞ্চল) জ্ঞানেশ্বর সিং। তিনি শিগগিরই এনসিবির ডিরেক্টর জেনারেল এন এস প্রধানের কাছে রিপোর্ট পেশ করবেন। সাইলের অভিযোগের পরেই এস এন প্রধান ভিজিল্যান্স তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই তদন্তে দেখা গেছে, গোসাভী এবং সমীরের বিরুদ্ধে সাইল যে তোলাবাজির অভিযোগ করেছিলেন, তা ঠিক নয়।

সাইল দাবি করেন, তিনি স্যাম ডি’সুজ়ার সঙ্গে গোসাভীর ফোনের কথোপকথন শুনেছিলেন। সেখানে গোসাভী স্যামকে বলেছিলেন, আরিয়ানের মুক্তির জন্য ২৫ কোটি টাকা চাওয়া হলেও ১৮ কোটি টাকায় চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে এনসিবি অফিসার সমীরকে দিতে হবে আট কোটি টাকা। সাইল গোসাভীর অধীনে কর্মরত ছিলেন।

এর পাশাপাশি সাইলের অভিযোগ, গোসাভী ও স্যাম মুম্বাইয়ের লোয়ার প্যারেল এলাকায় শাহরুখ খানের ম্যানেজার পূজা দাদলানির সঙ্গে তার নীল মার্সিডিজ় গাড়িতে একটি বৈঠক করেছিলেন। পরে দুটি ব্যাগে মোট ৩৮ লাখ টাকাও তিনি সংগ্রহ করেছিলেন বলে জানান সাইল।

গত এপ্রিলে হৃদরোগে সাইলের মৃত্যু হয়। তার আগে তিনি এই জবানবন্দি দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, প্রতারণার একটি মামলায় গোসাভী বর্তমানে পুণেতে জেলবন্দি। সমীরও প্রথম থেকেই তোলাবাজির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন।

সূত্রের দাবি, ভিজিল্যান্স তদন্তে গোটা বিষয়টিই খতিয়ে দেখা হয়েছে। সেখানে সাইলের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, আরিয়ান ঘনিষ্ঠরাও (শাহরুখ, পূজা) তাদের বয়ানে স্পষ্ট জানিয়েছেন, ঘুষ চেয়ে এনসিবির কোনো অফিসার কিংবা অন্য কারও কোনো হুমকি তারা পাননি।

এদিকে এনসিবি আরিয়ানকে ‘ক্লিনচিট’ দিলেও চার্জশিটে বলা হয়েছে, তিনি মেনে নিয়েছেন অতীতে মাদক সেবন (গাঁজা এবং চরস) করেছেন। তার ফোনের কথোপকথনেও বন্ধুদের সঙ্গে মাদক সেবন করার বিষয়টি উঠে এসেছে। এনসিবিকে আরিয়ান জানিয়েছেন, আমেরিকায় পড়তে গিয়ে নতুন পরিবেশে একাকীত্বে ভুগছিলেন। আরিয়ানের দাবি, ইন্টারনেটের সূত্রে তিনি জানতে পারেন, ঘুম না এলে গাঁজা খাওয়া যেতে পারে।

আরিয়ানের বন্ধু আচিত স্থানীয় এক সরবরাহকারীর থেকে গাঁজা জোগাড় করতেন। অভিনেত্রী অনন্যা পাণ্ডেকেও সেই বিষয়টি জানিয়েছিলেন তিনি। তবে ২ অক্টোবর প্রমোদতরীতে তার সঙ্গে কোনো মাদক ছিল না বলেও জানান আরিয়ান। সেই সংক্রান্ত উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণও পায়নি এনসিবি। তার জেরেই রেহাই পেয়েছেন শাহরুখ তনয় আরিয়ান।

(ঢাকাটাইমস/৩০ মে/এএইচ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় নেই, পুলিশও ছাড় পাবে না: খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি
বাবার দাফন শেষে রাতে চাকরি, সকালে পরীক্ষা; সেই ইকনের পড়াশোনার দায়িত্ব নিচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী
আতিফ আসলামের কনসার্টের ভেন্যু পরিবর্তন
পুলিশের ঊর্ধ্বতন ছয় কর্মকর্তাকে বদলি
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা