মানবতাবিরোধী অপরাধে এখন পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড পেলেন যে ২২ জন

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এখন পর্যন্ত ২২ জনের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-২ এর দেওয়া সর্বশেষ রায়ের মধ্য দিয়ে এই সংখ্যা ২২-এ পৌঁছায়।
সর্বশেষ রায়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির ও সহযোগী সংগঠনের আরও ছয় নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। এই সাত আসামির অনুপস্থিতিতেই বিচারকাজ শেষ হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি মামলায় এ পর্যন্ত মোট ৬৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ২২ জনের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২২ জনের মধ্যে ১৮ জন পলাতক এবং চারজন কারাগারে আছেন।
সাত মামলায় ২২ জনের মৃত্যুদণ্ড
শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের মামলার রায় দেওয়া হয় ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই মামলায় রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। হাসিনা ও কামালের অনুপস্থিতিতে এ মামলার বিচার হয়।
এরপর ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি চানখারপুল হত্যাকাণ্ডের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং সাবেক এডিসি শাহ আলম মোহাম্মদ আখতারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ মামলায় আরও পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
৫ ফেব্রুয়ারি আশুলিয়ায় হত্যাকাণ্ড ও লাশ পোড়ানোর মামলায় ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম ও যুবলীগের কর্মী রনি ভূঁইয়াসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা এএফএম সায়েদ, আব্দুল মালেক, বিশ্বজিৎ সাহা ও মুকুল চোখদার। এ মামলায় আরও নয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
৯ এপ্রিল আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের মামলায় সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ মামলায় আরও কয়েকজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
২৮ জুন রামপুরা-বনশ্রী হত্যাকাণ্ডের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই মামলায় অন্য দুজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।
এর দুই দিন পর, ৩০ জুন জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটিতে দোষী সাব্যস্ত করে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি পাঁচ অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়।
সর্বশেষ আজ ১৫ সেপ্টেম্বর ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলো।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ১১ জন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২২ জনের মধ্যে ১১ জন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী। তারা হলেন শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল, ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাদ্দাম হোসেন, শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, সাইফুল ইসলাম ও রনি ভূঁইয়া। অন্য ১১ জন পুলিশ কর্মকর্তা।
যারা কারাগারে, যারা পলাতক
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২২ জনের মধ্যে বর্তমানে চারজন কারাগারে আছেন। তাঁরা হলেন আশুলিয়া মামলার আব্দুল মালেক ও মুকুল চোখদার এবং আবু সাঈদ হত্যা মামলার আমির হোসেন ও সুজন চন্দ্র রায়। অন্য ১৮ জন পলাতক রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান চানখারপুল ও রামপুরা-বনশ্রী—দুটি পৃথক মামলায় মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন। তবে তিনি একজন ব্যক্তি হওয়ায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির মোট সংখ্যায় তাকে একবারই গণনা করা হয়েছে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













