দেশে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতার চর্চা হচ্ছে: মাহ্দী আমিন

গত সাত মাসে দেশে রাজনৈতিক কারণে কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তবে তার এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, তাদের কাছে থাকা তথ্য ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে।
টিআইবির হিসাবে, গত সাত মাসে বাক্স্বাধীনতা চর্চার কারণে হয়রানির অন্তত ৫২টি ঘটনা ঘটেছে। এ সময়ে ৫৮ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক অবস্থায় বা হেফাজতে নির্যাতনের ৫১টি ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে সাতজনের মৃত্যু এবং একটি গুমের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত ‘গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জবাবদিহি সরকার ব্যবস্থা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব বক্তব্য উঠে আসে।
সভায় মাহদী আমিন ও ইফতেখারুজ্জামান ছাড়াও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বরিশাল জেলা কমিটির সদস্যসচিব ও নারী নেত্রী ডা. মনীষা চক্রবর্তী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা উপস্থিত ছিলেন।
‘মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় দেখা যায়নি’
সভায় মাহদী আমিন বলেন, গত সাত মাসে বিএনপি সরকার অভূতপূর্ব বাক্স্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করেছে। তবে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ১৭ বছরের ‘ফ্যাসিবাদী জঞ্জাল’ একবারে মূলোৎপাটন করা কঠিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মাহদী আমিন বলেন, গত সাত মাসের রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে একবারের জন্যও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় দেখা যায়নি। কোথাও রাষ্ট্রীয় মদদে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা হেফাজতে মৃত্যু হয়নি। রাষ্ট্রীয় মদদে বিরোধী দলের মত ও পথ কিংবা ভিন্ন আদর্শের মূল্যবোধ হরণ করা হয়নি।
দেশে ‘ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাক্স্বাধীনতা’ নিশ্চিত হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, কোথাও কোথাও অশালীন ও অস্রাব্য আচরণ করা হলেও এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সহিষ্ণুতা ও সহাবস্থান দেখা যাচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাও এমনই ছিল।
মাহদী আমিন আরও বলেন, ক্ষমতার উৎস জনগণ। বিএনপি সরকারের মধ্যে সব মত, শ্রেণি ও পেশার মানুষের প্রতিনিধিত্ব এবং সমর্থন রয়েছে।
বাংলাদেশে এতদিন গণতন্ত্রের ঘাটতি ছিল এবং ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, এমন একটি সরকার ক্ষমতা আঁকড়ে ছিল, যার ক্ষমতার উৎস জনগণ ছিল না। তাদের ক্ষমতার উৎস ছিল রাষ্ট্রযন্ত্র, বিভিন্ন বাহিনী, বিচার বিভাগ, নতজানু পররাষ্ট্রনীতি ও প্রশাসন।
অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার ক্ষমতায় এলে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে ওঠে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
‘তথ্য বলছে ভিন্ন কথা’
মাহদী আমিনের বক্তব্যের জবাবে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, উপদেষ্টা একটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাও ঘটেনি বলে জানিয়েছেন। কিন্তু টিআইবির কাছে থাকা তথ্য তা বলছে না।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে তথ্য বলছে ভিন্ন কথা।’
তিনি বলেন, বাক্স্বাধীনতা চর্চার কারণে কমপক্ষে ৫২টি বিভিন্ন ধরনের হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। এ সময়ে ৫৮ জনকে আটক করা হয়েছে, যাঁদের বেশির ভাগই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আটক হয়েছেন।
বাক্স্বাধীনতা চর্চার কারণে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আটক ২০২৪-পরবর্তী বাংলাদেশে প্রত্যাশিত ছিল না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ার পেছনে যৌক্তিক কারণ রয়েছে উল্লেখ করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পুলিশ এখনো নৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। তবে বেশ কিছু বিষয় তাদের উদ্বিগ্ন করছে।
তিনি বলেন, কন্যাশিশু ও নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা কমপক্ষে ১ হাজার ৭০০টির বেশি। এর মধ্যে ৫০৩টি ধর্ষণের ঘটনা রয়েছে।
ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, আটক অবস্থায় নির্যাতন বা হেফাজতে নির্যাতনের ঘটনা হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু গত সাত মাসে এমন ৫১টি ঘটনা ঘটেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে সাতজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। একটি গুমের ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে একটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জড়িত।
‘রাজনৈতিক কারণে লঙ্ঘন হয়নি’
পরে মাহদী আমিন আবারও বলেন, তার জানা মতে গত সাত মাসে রাজনৈতিক কারণে কোনো ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি।
তিনি বলেন, আগে একটি নির্দিষ্ট অফিস থেকে, রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের অফিস থেকে তালিকা করা হতো এবং সেই তালিকা দেওয়া হতো। এতে রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ থাকত।
মাহদী আমিন বলেন, বিশাল রাষ্ট্র কাঠামোর কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে ভুল-ভ্রান্তি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে থাকলে তা জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











