বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসী কার্যক্রম ঠেকাতে প্রয়োজনে আরও একটি মুক্তিযুদ্ধ: নানক

দেশের গণতন্ত্র চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসী কার্যক্রম মোকাবেলা করতে প্রয়োজনে একাত্তরের মতো আরও একটি মুক্তিযুদ্ধ হবে। তবুও পরাজিত শক্তির কাছে কখনোই মাথা নত করবো না।’
বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র শহীদ শেখ রাসেলের ৫৯তম জন্মদিন উপলক্ষে কৃষক লীগের আয়োজনে দোয়া ও আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
নানক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এমন একটি সময় অতিক্রম করছে, যে সময়ে দেশের গণতন্ত্র চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। আমাদের স্বাধীনতার মাস চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি এবং সার্বভৌমত্ব এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থাকবে না কি স্বাধীনতা বিরোধীদের ইতিহাস আবার লেখা হবে।’
আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর এ সদস্য বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশে মির্জা ফখরুলরা সমাবেশ করে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দণ্ডিত আসামি সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবর এবং উপমন্ত্রী পিন্টুর মুক্তি চান। তখন ওদের মতলব ও উদ্দেশ্য আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয় না।’
‘আপনারা (মির্জা ফখরুল) বাংলাদেশকে কোথায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চান? যে বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ করেছিল, যে বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ করা যেতো না, যে বাংলাদেশে মতিউর রহমান নিজামীদের গাড়িতে পতাকা তুলে দেয়া হয়েছিল- সেই বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চান? তাহলে আমাদের কথা পরিষ্কার, বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসী কার্যক্রম মোকাবেলায় প্রয়োজন হলে একাত্তরের মতো আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ হবে। কিন্তু কারো কাছে মাথা নত করব না।’
চট্টগ্রামে বিএনপির সমাবেশে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদেরের দেওয়া স্লোগান নিয়ে নানক বলেন, ‘আমরা দেখলাম নারায়ে তাকবির-আল্লাহ হুয়াকবার স্লোগান দেয় এবং বলে তার বাবা না কি একজন শহীদ। তখন প্রশ্ন জাগে, যারা মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিল এবং শহীদ হলেন তারা শহীদ, না কি একাত্তরের ঘাতক ওই সাকা চৌধুরী শহীদ?’
‘যুদ্ধাপরাধীরা একাত্তরে জঘন্য অপরাধ করেছে কিন্তু তাদের পরিবারের সদস্যরা এখন যে ধরনের কথা বলছে তা দেশদ্রোহিতার শামিল। তাদের এই সকল বক্তব্যের জন্য জাতি কখনোই ক্ষমা করবে না। কাজেই আমরা একটি বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি।’
শহীদ শেখ রাসেলের স্মৃতিচারণ করে নানক বলেন, ‘পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে স্বাধীনতাবিরোধীরা বঙ্গবন্ধুসহ শেখ রাসেলকে সপরিবারে হত্যা করে । সেদিন শেখ রাসেল নিজেকে বাঁচানোর আকুতি করেছিলেন। বলেছিলেন আমাকে মেরো না। আমাকে মায়ের কাছে নিয়ে যাও।’
‘কিন্তু ঘাতকরা তার বাবা-মায়ের রক্তাক্ত লাশের পাশে নিয়ে গিয়ে গুলি করে বুক ঝাঝরা করে দেয় শেখ রাসেলের। এমন নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। সেদিন কোথায় ছিল মানবধিকার সংস্থা! শিশু রাসেল হত্যা নিয়ে কজন সুশীল সমাজ কথা বলেছিল! হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়েছেন!’
জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার বন্ধ করেছিল উল্লেখ করে নানক বলেন, ‘আর এরশাদরা চিরদিনের জন্য এই খুনের বিচারকে রুদ্ধ করে দিয়েছিল। এদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে। এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যেকটি নির্দেশনা অক্ষর অক্ষরে পালন করতে হবে।’
কৃষক লীগের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ বিশ্বনাথ সরকার বিটু সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কৃষক লীগের সহ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন সুইট, শরিফ আশরাফ, আব্দুল লতিফ, দপ্তর সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা প্রমুখ বক্তব্য দেন।
(ঢাকাটাইমস/১৯অক্টোবর/জেএ/ডিএম)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































