শান্তি আলোচনার মধ্যেই বেপরোয়া কেএনএফ

শাহনূর শাহীন, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২৪, ১৭:৩৫ | প্রকাশিত : ০৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:০৩
কেএনএফের কল্পিত রাজ্য ও পতাকা (বামে ইনসার্ট), ডানে ইনসার্টে প্রতিষ্ঠাতা নাথান বম

ব্যাংক লুট, কর্মকর্তা অপহরণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলির মধ্য দিয়ে পাহাড়ের শান্তি প্রক্রিয়ায় নতুন করে আঘাত হানল ‘কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)। স্বশাসিত অঞ্চলের দাবিতে সংঘাতে লিপ্ত পার্বত্য অঞ্চলের এই সশস্ত্র গোষ্ঠী শান্তি আলোচনা মধ্যেই তিনটি ব্যাংকে হামলা করে। ব্যাংক থেকে টাকা লুট ও একটি ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপককে অপহরণ করে তারা। সবশেষ বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বান্দরবানের থানচি উপজেলা সদরে। এসময় থানায়ও গুলি করে সন্ত্রাসীরা।

থানচি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মামুন বলেন, “রাত ৯টার দিকে একদল সশস্ত্র লোক এসে থানচি বাজারে গুলি শুরু করে। পরে তারা থানায় গুলি চালায়। হাসপাতালের পেছন দিকেও গুলি চালিয়েছে তারা। পুলিশ আর বিজিবিও পাল্টা গুলি করে।”

বান্দরবানের পুলিশ সুপার সৈকত শাহীন বলেন, “বান্দরবানের থানচি বাজার এলাকায় পাহাড়ের সশস্ত্র গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) সঙ্গে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের গোলাগুলি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে গোলাগুলি শুরু হয়।”

ব্যাংক ডাকাতি নিয়ে এমনিতেই পুরো পার্বত্য এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো মুহূর্তে অনাকাঙ্খিত কিছুর আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে আছেন স্থানীয়রা। এরই মধ্যে রাতের এ গোলাগুলির ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে আরও বেশি ভীতি ছড়িয়ে দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার রাতে প্রথম রুমা বাজারে সোনালী ব্যাংকের শাখা কার্যালয়ে সশস্ত্র হামলা চালায় কেএনএফ। এ সময় ব্যাংকের ম্যানেজার নিজাম উদ্দিনকে অপহরণ করে সশস্ত্র এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। হামলার সময় তারা দায়িত্বরত নিরাপত্তা বাহিনীর অস্ত্রও লুট করেছে। অপহরণের পর ম্যানেজারের পরিবারের কাছে ১৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এরপর মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বুধবার দুপুরে ফের থানচিতে কৃষি ও সোনালী ব্যাংকের আরও একটি শাখায় হামলা করে লুটপাট চালায় কেএনএফ। এদিন দুটি ব্যাংক থেকে টাকা লুট করে নিয়ে যায় তারা। এ ঘটনায় কেএনএফের সঙ্গে শান্তি কমিটির মধ্যস্থতায় সরকারের শান্তি আলোচনা হুমকির মুখে পড়ল। ইতোমধ্যে গতকাল সকালে শান্তি কমিটির আহ্বায়ক বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা মারমা শান্তি আলোচনা স্থাগিত করার ঘোষণা দেন।

এ ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, “কোনো অবস্থাতেই কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধীদের খুঁজে বের করে শাস্তির মুখোমুখি করবে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ব্যাংকে ডাকাতি ছোট ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। ব্যাংকে ডাকাতি, অস্ত্র লুট ও সোনালী ব্যাংক ম্যানেজারকে অপহরণের মতো ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের বিচার হবে, শাস্তি হবে। আমরা কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করব।”

তবে এই ঘটনার গোয়েন্দা তথ্য ছিল বলে সাংবাদিবদের এক প্রশ্নের জবাবে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কেএনএফ গত মার্চেই বড় ধরনের নাশকতার হুমকি দিয়েছিল। কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মির ফেসবুক পেইজে গত ১২ মার্চ একটি পোস্ট দেওয়া হয়। এতে তারা অভিযোগ করে যে, বাংলাদেশ সেনাবহিনী চুক্তি ভঙ্গ করে বম সম্প্রদায়ের দুজনকে আটক করেছে। সেই পোস্টের মাধ্যমে কেএনএফ সতর্ক করে লিখেছিল, ‘এর ফল খুব সুন্দরভাবে ফিডব্যাক দেওয়া হবে।”

চট্টগ্রাম রেঞ্জের পুলিশের উপমহাপরিদর্শক নূরে আলম মিনা এ ঘটনায় কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। বান্দরবানে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে থানচি উপজেলায় টাকা লুট হওয়া দুটি‌ ব্যাংকের শাখা পরিদর্শন শেষে ডিআইজি নূরে আলম মিনা বলেন, “লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার ও অপরাধীদের দমনে যৌথ অভিযান হবে। রুমা ও থানচিতে ব্যাংকের টাকা লুট, পুলিশের ওপর হামলাসহ নানা অভিযোগে ৮ থেকে ৯টি মামলা হতে পারে। মামলার যাবতীয় প্রস্তুতি চলছে।”

কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের নাম উল্লেখ না করে ডিআইজি বলেন, “ফান্ড সংগ্রহের জন্য দুটি ব্যাংকে হামলা হয়েছে। রুমায় বেশি টাকা রয়েছে, তাই ভল্ট ভেঙে নেওয়ার চেষ্টা করে। আর থানচিতে ঘটনার দিন হাটবার থাকায় ব্যাংকে লেনদেন বেশি হবে তাই সেখানে ডাকাতি হয়েছে।”

মূলত গত বছরের ১৬ মে বান্দরবানের রুমা উপজেলায় কেএনএফের এর সশস্ত্র শাখা ‘কুকি চিন ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ) অতর্কিত গুলিতে সেনাবাহিনীর দুজন সৈনিক নিহত ও দুই অফিসার আহত হন। ওই ঘটনার পর দেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি জনপদে সশস্ত্র এই গোষ্ঠীর তৎপরতা দেশব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন তোলে।

এর আগে ২০২২ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। ওই সময় কুকি জনগোষ্ঠীর ২৭০ জন ভারতের মিজোরামে পালিয়ে যায়। ওই বছরের জুনে রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির একটি ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে তিনজনকে হত্যা করে সশস্ত্র এ গোষ্ঠী। মূলত সেনাবাহিনীর ওই অভিযানের ক্ষত থেকে ‘কেএনএ’ পাল্টা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটায় দুই সেনা সদস্যকে হত্যার মধ্য দিয়ে। আগের বছরের সেনা অভিযানের রেশ চলতে থাকে গেল বছরেও। বিদায়ী বছরের ফেব্রুয়ারিতে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র‌্যাবের সঙ্গে কেএনএফের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। সেসময় জামাআতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্কিয়ার ১৭ জন কর্মী এবং কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। জামাআতুল আনসার অস্ত্রের বিনিময়ে কেএনএফের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সহায়তা নিচ্ছিল বলে জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করা নাথান বমের হাত ধরে ২০১৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে কেএনএফের যাত্রা শুরু হলেও ২০২২ সালে এদের কার্যক্রম ব্যাপকভাবে দৃশ্যমান হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা নিজেদেরকে দেশের আইন ও সার্বভৌমত্ব মেনে অধিকার আদায়ের দাবিতে আন্দোলনরত দাবি করলেও কেএনএফের সশস্ত্র কর্মকাণ্ড ও তৎপরতা দিনদিন পাহাড়ের জননিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলেছে। এ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয় সাধারণ জনগণ, রাজনীতিবিদ, সমাজকর্মী, সামরিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরাও।

কেএনএফ বলছে, তারা সুবিধাবঞ্চিত কুকি-চিন জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে স্বশাসিত বা পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনসহ একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল চাইলেও স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়নি, যা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। কিন্তু তাদের কল্পিত রাজ্য সীমানা, নিজস্ব ম্যাপ, পতাকা ও অভিলক্ষ্য বিশ্লেষণ করে দেশের নিরাপত্ত বিশ্লেষকরা বারবার শঙ্কার কথা জানান। একাধিক সংবাদ মাধ্যমেও উঠে আসে তাদের ভয়ংকর সব কর্মতৎপরতার কথা। নাথান বম মূলত ২০০৮ সালে কুকি চিন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন বা কেএনডিও নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন যা পরে কুকি-চিন ন্যাশনাল ভলান্টিয়ার্স— কেএনভি (২০১৭) হয়ে পরে কেএনএফ-এ (২০১৯) রূপান্তরিত হয়। গতবছরের মে মাসে দুই সেনা সদস্যকে হত্যার পর সশস্ত্র এই গোষ্ঠী নতুন করে আলোচনায় আসে। নিরাপত্তা বাহিনী কেএনএফকে চূড়ান্তভাবে নির্মূল করার জন্য তৎপর হতে শুরু করে। এরইমধ্যে মিজোরামে আশ্রয় নেওয়া কেএনএফের শীর্ষনেতারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে এসে শান্তি আলোচনায় বসতে রাজি হয়। জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে সেনাপ্রধান জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ বান্দরবান সফরে সাংবাদিকদের কাছে সবকিছর শান্তিপূর্ণ সমাধানের আশা প্রকাশ করেন। তবে দেশের প্রয়োজনে কঠোর ভূমিকা পালন করতে সেনাবাহিনী দ্বিধা করবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন। এরপরই মূলত কেএনএফ আলোচনায় বসতে রাজি হয়। এই সময়ে তারা সরকারের কাছে কয়েকটি দাবি জানায়। এই দাবির মধ্যে রয়েছে রুমা, থানচি, রোয়াংছড়িসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের নয়টি উপজেলা নিয়ে ‘স্বায়ত্তশাসিত’ অঞ্চল গঠন করা, ওই এলাকায় কুকি চিনের নেতৃত্বে পৃথক প্রশাসনিক অঞ্চল এবং ভারত ও মিয়ানমারে চলে যাওয়া কুকি-চিন জনগোষ্ঠীকে ফেরত আনার ব্যবস্থা করা।

সরকার কেএনএফের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত নিরসনের পথ বেছে নেয়। জুলাইয়ে স্থানীয় সিভিল সোসাইটি ও জেলা পরিষদের উদ্যোগে গঠিত ‘শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটির’ সদস্যদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠকে যোগ দেয় কেএনএফ। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা মারমার নেতৃত্বে ‘শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটির’ ১২ সদস্য এই বৈঠকে যোগ দেন। বিপরীতে কেএনএফ-এর পক্ষ থেকে সশস্ত্র শাখার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুইয়াম বমের নেতৃত্বে চার সদস্য বৈঠকে যোগ দেন। এরপর আরও এক দফা ভার্চুয়ালি বৈঠক শেষে গত বছরের নভেম্বরে প্রথমবার রুমার মুনলাই পাড়ায় কেএনএফের সঙ্গে সরকারের মুখোমুখি বৈঠক হয়। এরপর চলতি বছরের মার্চের শুরুতে দ্বিতীয়বার বেথেল পাড়ায় মুখোমুখি বৈঠকে বসে শান্তি প্রক্রিয়ার দুই পক্ষ। আগামী ২২ এপ্রিল তৃতীয় দফায় স্বশরীরে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল সরকারের মধ্যস্থতাকারী শান্তি কমিটি ও কেএনএফের সঙ্গে। কিন্তু প্রত্যাশিত সেই শান্তি আলোচনায় ছেদ পড়ল ব্যাংক ডাকাতির সাম্প্রতিক এই ঘটনায়। গতকাল সকালে শান্তি আলোচনা স্থগিত ঘোষণা করেছেন শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটির আহ্বায়ক বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা মারমা। কমিটির জরুরি সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান তিনি।

লিখিত বক্তব্য বলা হয়, কেএনএফের সদস্যদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য ২০২৩ সালের ২৯ মে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা মারমার নেতৃত্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটি করা হয়েছে। কমিটির সঙ্গে কেএনএফের এযাবৎ কয়েক দফা অনলাইনে ও দুই দফা স্বশরীরে বৈঠক হয়েছে। গত বছরের ৫ নভেম্বর ও গত ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত স্বশরীরে দুই দফা বৈঠকে দুটি সমঝোতা স্মারকেও স্বাক্ষর করেছে তারা। এতে তারা চাঁদাবাজি, অপহরণ, লুটপাটসহ সব ধরনের সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু প্রতিশ্রুতির পর তারা রুমা ও থানচিতে সোনালী ও কৃষি ব্যাংকে ডাকাতি করে। একই ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ছাড়া তারা বিভিন্ন সময়ে চাঁদাবাজি, লুটপাট, নিরীহ মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে রেখেছে। তাদের অতিসাম্প্রতিক ঘটনায় শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটির শান্তি আলোচনা বৈঠকসহ সব ধরনের কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এ অবস্থায় শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটি কেএনএফের সঙ্গে কোনো ধরনের বৈঠক করবে না।

(ঢাকাটাইমস/০৫এপ্রিল/এসআইএস/এফএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :