গভীর সমুদ্রে গবেষণা ও সমস্যা চিহ্নিতকরণের উপরে গুরুত্বারোপ প্রধান উপদেষ্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৪৫
অ- অ+

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গভীর সমুদ্রে গবেষণা জোরদার এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, দেশের স্থলভাগের সমপরিমাণ অঞ্চল জলভাগে থাকলেও সেই সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ ও সম্ভাবনা সম্পর্কে বাংলাদেশ এখনো সুস্পষ্ট ধারণা পায়নি।

আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের দেশের স্থলভাগ যতটুকু, তার সমপরিমাণ অঞ্চল জলভাগেও রয়েছে। কিন্তু এই সম্পদগুলো আমরা ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারিনি। এমনকি সম্পদের পরিমাণ কত, সম্ভাবনা কেমন—তাও জানতে পারিনি। এই সম্পদকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হলে পর্যাপ্ত গবেষণা ও নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন।”

এ সময় সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও ইকোসিস্টেম নিয়ে গবেষণা জাহাজ আ.র.ভি. ড. ফ্রিডটজফ ন্যানসেন–এর মাধ্যমে পরিচালিত জরিপ ও গবেষণার প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে উপস্থাপন করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সভায় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সামুদ্রিক বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সায়েদুর রহমান চৌধুরী এবং মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়।

জানা গেছে, গত বছরের ২১ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই জরিপ পরিচালিত হয়। এতে আটটি দেশের ২৫ জন বিজ্ঞানী অংশ নেন, যার মধ্যে ১৩ জন ছিলেন বাংলাদেশের।

সভায় অধ্যাপক সায়েদুর রহমান চৌধুরী গবেষণার তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে জানান, জরিপে ৬৫টি নতুন জলজ প্রাণীর প্রজাতির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে জেলিফিশের আধিক্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে, যা সামুদ্রিক ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ। অতিরিক্ত মাছ ধরার কারণেই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, দুই হাজার মিটার গভীরতাতেও প্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা গভীর উদ্বেগজনক। ২০১৮ সালের গবেষণার সঙ্গে তুলনা করে দেখা গেছে, গভীর সমুদ্রে বড় আকারের মাছ কমে যাচ্ছে এবং স্বল্প গভীর সমুদ্রে মাছের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

গবেষণায় উঠে এসেছে, বর্তমানে ২৭০ থেকে ২৮০টি বড় মাছ ধরার ট্রলার গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ করছে। এর মধ্যে ৭০টি ট্রলার শব্দতরঙ্গ নির্ভর প্রযুক্তি ব্যবহার করে লক্ষ্যভিত্তিক মাছ ধরছে, যা একটি অত্যন্ত আগ্রাসী পদ্ধতি। এতে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরেন—এমন জেলেরা লাভবান হলেও স্বল্প গভীর পানিতে মাছ ধরেন—এমন জেলেরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, “এভাবে লক্ষ্যভিত্তিক মাছ ধরা চলতে থাকলে বঙ্গোপসাগর মাছশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। শব্দতরঙ্গ নির্ভর মাছ ধরা বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।”

গবেষণায় আরও জানা গেছে, বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে টুনা মাছের ব্যাপক আধিক্য ও সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে সুন্দরবনের নিচে একটি মাছের প্রজনন ক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা সংরক্ষণের জন্য সরকার ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছে।

বৈঠকে জানানো হয়, যুক্তরাজ্যের রাজকীয় নৌবাহিনীর একটি বহুমুখী জলতল পরিমাপ ও সমুদ্রবিজ্ঞান জরিপ জাহাজ বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এই জাহাজ সমুদ্রের তলদেশ, গভীরতা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক তথ্য সংগ্রহে সহায়তা করবে, যা বাংলাদেশের সামুদ্রিক গবেষণা সক্ষমতা বাড়াবে।

জাপান, ইন্দোনেশিয়া ও মালদ্বীপের সঙ্গে যৌথ গবেষণা সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “সমস্যাগুলো আগে চিহ্নিত করতে হবে। যাদের এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান রয়েছে, তাদের সঙ্গে সমন্বিত গবেষণায় যেতে হবে। এর মধ্য দিয়েই অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।”

(ঢাকাটাইমস/০৬ জানুয়ারি/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, গ্রেপ্তার ৪
স্কুলছাত্র অপ্রতিম হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
গাইবান্ধায় নিজ বাড়িতে আইপিএস মেরামত করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এসআই নিহত
শৈলকুপা প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি পলাশ, সম্পাদক শিহাব