অপ্রতীম হত্যাকাণ্ড

স্বরাষ্ট্র সচিবকে ফোন করে কাঁদলেন কুমিল্লা-৬ আসনের এমপি মনিরুল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৬
অ- অ+

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে স্বরাষ্ট্র সচিবকে ফোন করেছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। এ সময় অপ্রতীমের মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে স্বরাষ্ট্র সচিবকে ফোন করেন এমপি মনিরুল হক। পরে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ফোনালাপের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়।

ফোনে নিজের পরিচয় দিয়ে মনিরুল হক বলেন, ‘আমি মনিরুল হক চৌধুরী বলছিলাম। ভাই, সরি যে আমি কান্নার মধ্যে... শুনছেন তো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এখানে কী ঘটনা ঘটেছে।’

পরে তিনি বলেন, ‘আমি কল করেছি যে আপনি জানেন কি না। এই ব্যাপারে একটু তড়িৎ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।’

জবাবে স্বরাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘জি, শুনেছি। আমরা সেটা নিয়েই ব্যবস্থার চিন্তা করছি, কী করব। আমি রিপোর্টটা পেয়েছি এবং দেখছি।’

এরপর মনিরুল হক বলেন, ‘একেবারে অসহনীয় সিচুয়েশন। থ্যাংক ইউ ভেরি মাচ ফর অ্যাটেনশন।’

এর আগে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর তার বাসায় যান এমপি মনিরুল হক চৌধুরী। সেখানে ছেলেকে হারানোর শোকে ভেঙে পড়া মা ড. নাহিদা বেগমের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

নাহিদা বেগম বিলাপ করে বলেন, ‘আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে? আমাকে জবাব দেন, আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে? আমি এই কুমিল্লায় চাকরি করতে এসেছি, এটা কি আমার অন্যায়? আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে, আমি এটার জবাব চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি কোনো বিচার চাই না, আমাকে এর উত্তর দিতে হবে। আমার ছোট্ট একটা ছেলে, সে কি অন্যায় করেছে। তার কী অন্যায় ছিল, আমি শুধু জানতে চাই। এটা কোন দেশ?’

ছেলেকে হারিয়ে কীভাবে জীবন কাটাবেন, সেই অসহায়ত্বের কথাও জানান তিনি। এ সময় বলেন, ‘আমার তো একটাই ছেলে। আমি কেমনে আমার জীবন কাটাবো? আমি আমার জীবন পার করব কেমনে? আমারে একটু সবাই বলেন, আমি আমার জীবনটা পার করব কেমনে।’

মায়ের এসব কথা শুনে মনিরুল হক চৌধুরীও কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘এর কোনো জবাব আমার কাছে নেই মা।’

নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২০ ঘণ্টা পর শনিবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের জঙ্গল লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকা থেকে অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার একজন ব্যবসায়ী।

পুলিশ ও স্বজনদের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের মোবাইল ফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতীম। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

শনিবার অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ ভিড় করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।

দুপুর পৌনে ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে মনিরুল হক চৌধুরী হত্যায় জড়িতদের দ্রুত আটক করতে পুলিশকে নির্দেশ দেন।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অনেকটা নিশ্চিত, মোবাইল ফোনের জন্যই এ হত্যার ঘটনা।’ এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামের এক যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

অপ্রতীমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

(ঢাকাটাইমস/২০ সেপ্টেম্বর/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫২৭, মামলা ৫৫
বিশ্বনেতাদের এসডিজি অর্জনে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
অপ্রতিম হত্যা রহস্যে নতুন মোড়, আটক তুহিনের বাসা থেকে আইফোন উদ্ধার
পটুয়াখালীতে বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ৪