প্রয়োজনে জীবন দেব, কিন্তু দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরব না: ডা. শফিকুর

১৮ কোটি মানুষের ন্যায্য অধিকার ও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছেড়ে ঘরে না ফেরার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের স্বার্থে রাজপথে নেমেছি, প্রয়োজনে জীবন দেব, কিন্তু দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরবো না।
শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের ঢাকা থেকে রংপুরমুখী দ্বিতীয় দফার লংমার্চ চলাকালে বগুড়ার মাটিডালী বিমান মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমি বলেন, আমাদের কৃষক ভাইয়েরা আজ মাঠে সার পাচ্ছেন না। ৭০০ টাকার সার আজ ২২০০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। কৃষকের এই হাহাকার আর সহ্য করা হবে না।
তিনি বলেন, সরকার বিদ্যুৎ দিতে পারছে না, অথচ দ্বিগুণ-তিনগুণ ভুতুড়ে বিল মানুষের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহের চরম ব্যর্থতা ঢাকতে দায়িত্বজ্ঞানহীন অজুহাত দেওয়া হচ্ছে। এ সময তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ব্যর্থতার জন্য দায়ীদের অপসারণের দাবি জানান।
যুবসমাজের চাকরির অধিকার হরণ করার অভিযোগ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্যহীন সমাজের জন্য ১৪০০ জীবন দিয়ে শহীদ হয়েছে। অথচ আজ নতুন চক্রান্তে লিখিত পরীক্ষার চেয়ে ভাইভা পরীক্ষার নম্বর বাড়িয়ে দলীয় ক্যাডারদের বসানোর পাঁয়তারা চলছে।
তিনি বলেন, আমরা আমাদের সন্তানদের জন্য আবারো জীবন দিতে প্রস্তুত, কিন্তু এ বৈষম্য বরদাশত করবো না।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি সম্প্রতি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকার সন্তান নিখোঁজের পর লাশ উদ্ধারের মর্মান্তিক ঘটনার উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, আমরা আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা চাই। পুরো দেশে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে, যা আর মেনে নেয়া যায় না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই ৮ দফা কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়, এটি ১৮ কোটি মানুষের দাবি। যদি এই ৮ দফা মানা না হয়, তবে জনগণ ‘এক দফা’ আন্দোলনের দিকে যেতে বাধ্য হবে এবং রাজপথেই এর চূড়ান্ত ফয়সালা হবে।
পথসভায় বগুড়া মহানগরীর আমির আবিদুর রহমান সোহেলের সভাপতিতে বক্তব্য দেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি, আল্লামা মামুনুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ সাহাবুদ্দিন, আঞ্চলিক সহকারি পরিচালক নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহসভাপতি গোলাম রব্বানী, ঢাকা মহানগর উত্তরের যুব বিভাগের সেক্রেটারী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ, বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল হক, মহানগরের নায়েবে আমির আব্দুল হালিম বেগ, জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল হাকিম, অধ্যাপক আব্দুল বাসেদ, মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারী আসম আব্দুল মালেক, বগুড়া জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মানছুরুর রহমান।
বগুড়া জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক নূর মোহাম্মাদ, মহানগরীর আইন সম্পাদক শাহীন মিয়া, মহানগরীর প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক ইকবাল হোসেন প্রমূখ।
(ঢাকা টাইমস/১৯সেপ্টেম্বর/এসএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন










