দেশের মানুষ একটি পরিবর্তন চায়: তারেক রহমান

দেশের মানুষ একটি পরিবর্তন চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও ঢাকা-১৭ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট দেশে একটি পরিবর্তন হয়েছে। আমি মনে করি, সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ একটি পরিবর্তন চায়।
কি পরিবর্তন চায় এমন প্রশ্ন রেখে তারেক রহমান বলেন, মানুষ চায় তাদের সমস্যার সমাধান, চলাফেরায় নিরাপত্তা, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হোক, দেশের শিক্ষার্থীরা যেন শিক্ষার সুযোগ পায়, তরুণ ও যুব সমাজের লক্ষ লক্ষ কর্মহীন আছে, এই বেকার সমস্যা সমাধান চায়।
শুক্রবার সন্ধ্যায় বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণার দ্বিতীয় দিন ঢাকা-১৭ আসনের ভাসানটেক বিআরপি মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তার সঙ্গে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও ছিলেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সিলেটে দুই ওলীর মাজার জিয়ারত ও জনসভার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন তারেক রহমান।
এরপর টানা দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টার জার্নিতে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কুট্টাপাড়া, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, নরসিংদী ও নারায়গঞ্জের আড়াইহাজারে জনসভায় বক্তব্য দিয়ে ভোররাতে বাসায় ফিরেন তিনি।
আগামী রবিবার সকালে চট্টগ্রামে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্যের মাধ্যমে ফের প্রচারণা শুরু করবেন তারেক রহমান। এরপর ফেনী, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে বেশ কয়েকটি নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেবেন তিনি।
এদিকে ভাসানটেকের জনসভায় বক্তব্যের শুরুতে তারেক রহমান নিরপেক্ষ একজন ভ্যানচালক, একজন নারী শ্রমিক, একজন কলেজছাত্রীকে ডেকে স্টেজে আনেন। একে একে তাদের কাছে জানতে চান ভাসানটেক এলাকায় কি কি সমস্যা আছে। এই এলাকার কি কি উন্নয়ন করতে হবে।
তাদের সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমিও এই এলাকায় বড় হয়েছি। আমি আপনাদেরই একজন। আমি এই এলাকায় প্রার্থী হয়েছি। আপনাদের এতটুকু বলতে পারি, ইনশাআল্লাহ আগামী নির্বাচনে জয়ী হলে এবং ধানের শীষ সরকার গঠন করলে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে যে সমস্যার কথা বলে গেছেন, পুনর্বাসনসহ সব সমস্যার সমাধান করবো। এই এলাকার সন্তান হিসেবে এইটুকু ওয়াদা করে গেলাম।
তারেক রহমান বলেন, এক বোন বলে গেছেন তার সঙ্গে কী হয়েছে। আমরা অতীতে যেতে চাই না। গত ১৬ বছর কি হয়েছে দেশে। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট দেশে একটি পরিবর্তন হয়েছে। আমি মনে করি, উপস্থিত এই জনসভার মানুষ নয়, সমগ্র বাংলাদেশে মানুষ একটি পরিবর্তন চায়। কি পরিবর্তন চায় এমন প্রশ্ন রেখে তারেক রহমান বলেন, মানুষের সমস্যার সমাধান হোক, মানুষের চলাফেরায় নিরাপত্তা চায়, দেশে যাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হোক, দেশের শিক্ষার্থীরা যেন শিক্ষার সুযোগ পায়, তরুণ ও যুব সমাজের লক্ষ লক্ষ কর্মহীন আছে, এই বেকার সমস্যা সমাধান চায়। এই যে কয়জন মানুষ আপনাদের হয়ে কথা বলেছেন তাদের কথায় বেরিয়ে এসেছে কর্মসংস্থান দরকার। আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি আমাদের দেশের বহু মানুষ বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য যায় । এই মানুষগুলো দক্ষ শ্রমিক হিসেবে যায় না। এই লক্ষ লক্ষ মানুষকে বিভিন্ন রকম ট্রেনিং দেব যাতে তারা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে। যাতে স্বাবলম্বী হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এই বোন ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে গেছে।
এসময় একটি ফ্যামিলি কার্ড পকেট থেকে বের করে উপস্থিত জনতাকে দেখিয়ে তিনি বলেন, এরকম একটি ফ্যামিলি কার্ড প্রতিটি মায়ের কাছে আমরা পৌঁছে দিতে চাই। যে নারী একটি সংসার আছে সেই নারীর কাছে আমরা কার্ডটি পৌছে দিতে চাই। আমরা একই সাথে বাংলাদেশের কৃষকদের আমরা একটি কৃষি কার্ড দিতে চাই। যেটার মাধ্যমে সহজে তারা কৃষি ঋণ পাবে। কৃষি ইন্সুরেন্স থাকবে, যার মধ্যে সার বীজ পাবে।
পাশের বসা সাবেক ফুটবল দলের অধিনায়ক আমিনুল হককে দেখিয়ে তিনি বলেন, এখানে আমিনুল হককে চেনেন। ফুটবল খেলতো। আমাদের দেশের তরুণ যুবক যারা আছেন সবাই আর ব্যারিস্টার, উকিল, ডাক্তার হবে না। এখানে অনেকে আছে খেলোয়াড় হতে চায়। আমরা দেশের ক্রীড়া ব্যবস্থাটাকে এমনভাবে ঢেলে সাজাতে চাই যাতে আমদের দেশের ছেলে মেয়েরা প্রফেশনাল খেলোয়াড় হতে পারে। খেলা দিয়ে যাতে জীবিকা অর্জন করতে পারে। সেই প্রতিভাগুলো খুজে বের করে নিয়ে আসতে চাই।
তিনি বলেন, আন্দোলন হয়েছে, সংগ্রাম হয়েছে, স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। এখন আমাদের দেশ গড়তে হবে। দেশের প্রতিটি সেক্টর বিগত ১৬ বছরে ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে দেশ অনেক পিছিয়ে গেছে। সেগুলোকে পুননির্মাণ করতে হবে। যদি পুননির্মান করতে হয় তাহলে এই দেশে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কেন প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কারণ গণতান্ত্রিকভাবে আপনারা যদি আপনাদের প্রতিনিধিকে নির্বাচিত করতে পারেন তাহলে এলাকার সমস্যা তারে কাছে নিয়ে যেতে পারবেন। বিগত ১৫ বছরে আমি-ডামি নির্বাচন হয়েছিল তখন যে তথাকথিত এমপি ছিল আপনারা কি সমস্যা নিয়ে তাদের কাছে যেতে পেরেছিলেন। যাওয়া সম্ভব হয়নি। সেজন্যই এলাকার সমস্যার সমাধান যদি করতে হয়, দেশের উন্নয়ন যদি করতে হয় তাহলে অবশ্যই আমাদেরকে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। জনগণ কি চায় তাদের অবশ্যই জানতে হবে। জবাবদিহিতা থাকতে হবে। আজকে আমি যেভাবে আপনাদের সমস্যার কথা জানতে চেয়েছি আমার প্রত্যাশা প্রতিটি জনপ্রতিনিধি যারা নির্বাচিত হবেন এভাবে জনগণের কাছে গিয়ে জনগণকে সরাসরি জিজ্ঞেস করার মাধ্যমে জনগণের সমস্যা চিহ্নিত করবেন। সমাধানের উদ্যোগ নেবেন।
তিনি বলেন, এই এলাকার মূল সমস্যা যদি সমাধান করতে হয়, একই সাথে সারা দেশের সামগ্রিক যে সমস্যা আছে মানুষের নিরাপত্তা, মানুষের কর্মসংস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, এগুলাকে চিহ্নি করতে হলে অবশ্যই আগামী দিনে আমাদের গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এবং সাধারণ মানুষের দ্বারা নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন। নির্বাচিত সরকারই মানুষর সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম হবে।
এসময় উপস্থিত সবাইকে শপথ বাক্য পাঠ করিয়ে তিনি বলেন, করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। ধানের শীষকে যতবার নির্বাচিত করেছে ততবার দেশে উন্নয়ন হয়েছে। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। আমি ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে আপনাদের কাছে আমি ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাচ্ছি। একইসঙ্গে অনুরোধ করছি আমার পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে সবমন্ত্র বাংলাদেশে ধানের শীষের প্রার্থীদের জয়ী করতে হবে। এবং ভাসানটেকের আত্মীয়স্বজন সারাদেশে ছড়িয়ে আছে, তাদের সবাইকে অনুরোধ করবেন আগামী ১২ তারিখে যেন ধানের শীষে ভোট দেয়।
ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক কাদির মাহমুদের সভাপতিত্বে জনসভায় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, নাজিম উদ্দীন আলম, ঢাকা মহানগর বিএনপি উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক শরীফ উদ্দীন জুয়েল, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির, জাগপা নেতা খন্দকার লুৎফর রহমান বক্তব্য দেন।
এছাড়া ঢাকা-১৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মিল্টন, যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি রেজাউল করিম পল, ছাত্রদল পশ্চিমের সভাপতি রবিন খানসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জেবি
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













