স্বেচ্ছাসেবক দলের মুসাব্বির হত্যার নির্দেশদাতা কে এই বিনাস দাদা? জানুন তার সম্পর্কে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:১৭| আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:২২
অ- অ+

রাজধানীর তেজতুরী বাজার এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. আজিজুর রহমান মুসাব্বির হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুইটি বিদেশি পিস্তল, দুইটি ম্যাগাজিন ও ১২ রাউন্ড গুলিসহ অন্যতম শ্যুটার মো. রহিমকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার সকাল ৯টা ৫ মিনিটে নরসিংদী জেলার মাধবদী থানা এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে রহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে উঠে এসেছে, আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসী দিলীপ ওরফে বিনাশ দাদার নির্দেশে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। যে কিনা বিদেশে বসে এই হত্যার পরিকল্পনা করেন।

শনিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, কারওয়ান বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে ও গোপনে চাঁদা আদায়ের সঙ্গে জড়িত আট থেকে নয়টি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। চাঁদার টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে দিলীপ ওরফে বিনাশের নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এসব সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে ডিবি কাজ করছে এবং শিগগিরই অভিযান শুরু করা হবে বলেও জানান তিনি।

গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিবি প্রধান বলেন, তাদের চাঁদাবাজ হিসেবেই চিহ্নিত করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজদের কোনো রাজনৈতিক আদর্শ নেই। চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যানারের আশ্রয় নেয়।

গত ৭ জানুয়ারি রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর পশ্চিম তেজতুরী পাড়াস্থ হোটেল সুপার স্টারের গলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আজিজুর রহমান মুসাব্বির নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় ৪/৫ জন অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর আগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রহিমের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এ মামলায় মোট পাঁচজন আসামি গ্রেপ্তার হলো।

কে এই বিনাশ দাদা?

কারওয়ানবাজার ও বসুন্ধরা সিটির সামনের ফুটপাতের একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, প্রায় এক বছর ধরে তারা দিলীপ বা বিনাশ দাদা নাম শুনলেও কেউ তাকে দেখেননি। এই পরিচয়ে বিজিন্নজনের কাছে বিদেশি নম্বর থেকে মোবাইল ফোনে কল আসে। চাঁদা দাাবি করে হুমকি দেওয়া হয়।

২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে বসুন্ধরার সামনে ফুটপাতের ৫০-৬০টি দোকানে দিলীপের লোকজন চাঁদা দাবি করে। চাঁদার টাকা না পেয়ে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় এবং একাধিক দোকানে অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনায় আমান নামে এক ব্যবসায়ী দিলীপের ঘনিষ্ট সুমনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলা করেন। পরে প্রাণনাশের হুমকি দিলে তিনি সেই মামলা প্রত্যাহার করে নেন।

এছাড়া গত ৭ ডিসেম্বর মুসাব্বির খুনের পর দিলীপ পরিচয়ে একাধিক বিদেশি নম্বর থেকে আখতার, রনি, মিলন ও সাগর নামে চার ব্যবসায়ীকে কল করে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। তাদের বলা হয়েছে ‘তোর ভাইরে খাইছি, তোরেও খামু, তরে ফাইলা দিমু।’ এ হুমকির পর তাদের তিনজনই জিডি করেছেন। এর পর গত ১০ ডিসেম্বর ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের যোগাযোগ করতে একটি বিদেশি নম্বর দেওয়া হয়। হুমকির বিষয়টি তেজগাঁও থানার ওসিকে জানানো হয়। কিন্তু নিরাপত্তা দিতে পারবেন না জানিয়ে সবাইকে সাবধানে থাকতে পরামর্শ দেন তিনি। ডিবির এডিসি মুর্শেদও তাদের একজনকে একই পরামর্শ দিয়েছেন।

ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, দিলীপ আন্ডারওয়ার্ল্ডের একজন সন্ত্রাসী।

পুলিশের এক কর্মকর্তার কাছে থাকা তথ্যমতে, দিলীপের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলায়। তিনি এক সময় ঢাকার কাঁঠালবাগান এলাকায় অপরাধ জগতে সক্রিয় ছিলেন।

(ঢাকাটাইমস/২৪ জানুয়ারি/এলএম)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
আজ ঢাকার বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’
পূর্বাচলে ট্রাফিক সার্জেন্টের সঙ্গে অসদাচরণ, নারীসহ দুইজনের ৭ দিনের কারাদণ্ড
মিরপুরে ফুটপাত উচ্ছেদ ঘিরে সংঘর্ষ, সিটি করপোরেশনের গাড়িতে আগুন
১০ বছর লোকসানে পাঁচতারকা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ঋণের দায় নিচ্ছে সরকার