ভাবনা নেতা-কর্মীদের নিয়েও
আড়ম্বরহীন জন্মদিন চান বিদিশা এরশাদ, জুম্মার নামাজে ছেলের দোয়াই সবচেয়ে বড় উপহার

ছয়ই মার্চ। বছর ঘুরে আবার সেই দিন এসে দাঁড়িয়েছে দরজায়। সকাল আয়নার সামনে দাঁড়ালে যে মুখটা দেখি, সে মুখে আজ আর উচ্ছ্বাসের আলো নেই। জন্মদিন মানেই কেক, গান, হইচই, এই ধারণাটা কবে যেন মন থেকে সরে গেছে। নিজেও বুঝতে পারিনি।
কালকের দিনটা নিয়ে কোনো বিশেষ পরিকল্পনা নেই আমার। থাকার কথাও নয়। আমার মাথার ভেতর যে ভাবনাগুলো সকাল থেকে রাত অব্দি ঘুরতে থাকে, সেগুলো আমার নিজের জন্মদিনের নয়। সেগুলো তাদের জন্য, যারা আমার পাশে থেকে লড়াই করেছে, যারা নির্যাতন সহ্য করেছে, যারা আজও থেমে নেই। আমার নেতাকর্মীরা। তাদের একটু ভালো রাখা যায় কি না, আমার সীমিত সামর্থ্যে সেটুকুই ভাবি প্রতিটি দিন। এই ভাবনাটাই এখন আমার সবচেয়ে বড় কাজ।
পবিত্র মাহে রমজানের এই দিনে জুম্মার নামাজের পর বাসার কাছের মসজিদে আমার আদরের ছেলে এরিক আমার জন্য দোয়া করবে। এটুকু জানাই যথেষ্ট। দুনিয়ার যত উপহার আছে, সব একপাশে রেখে এই একটি মুহূর্তের কথা ভাবলে বুকের ভেতরটা ভরে ওঠে। এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কী আছে একজন মায়ের জীবনে?
বিকেল গড়িয়ে ইফতারের সময় হলে বাল্যকালের কয়েকজন বন্ধু আসবেন। তারা আসবেন, গল্প হবে, সেই পুরনো দিনের কথা উঠবে হয়তো। প্রতিবেশীরা থাকবেন, নেতাকর্মীরা শুভেচ্ছা জানাতে আসতে পারেন। আমার ঘরের দরজা তাদের জন্য সবসময় খোলা, এটা সবাই জানে। তারা আসবেন, বসবেন, কথা বলবেন। এভাবেই দিনটা কেটে যাবে, কোনো আড়ম্বর ছাড়া, কোনো উচ্চকিত আয়োজন ছাড়া।
তবে এই মার্চ মাসে সত্যিকারের যে দিনটার জন্য মন আগে থেকেই অপেক্ষা করছে, সেটা একটু পরে, ১১ই মার্চ। সেদিন আমার প্রাণের ছেলের পঁচিশ বছর পূর্ণ হবে। রুপালি এই জন্মজয়ন্তীতে তার পাশে থেকে কেক কাটব, তাকে ভালোবাসায় ভরিয়ে দেব। সেটাই এই মার্চ মাসের সবচেয়ে প্রিয় পরিকল্পনা।
ছয়ই মার্চ তাই এভাবেই কাটুক। নীরবে, সাদামাটায়, নিজের মানুষদের মাঝে। রমজানের পবিত্র আলোয় একটি দিন যদি এভাবে পার হয়, সেটাই অনেক।
(বিদিশা এরশাদের ফেসবুক থেকে নেওয়া)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













