বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৫ মে ২০২৬, ০৯:৩৪
অ- অ+

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে। তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার আশায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হওয়ায় রোববার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে যায়।

জুলাই মাসের জন্য ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম আজ সোমবার (২৫ মে) গ্রিনিচ মান সময় ১টা ৫ মিনিটে প্রতি ব্যারেল ৯৮ দশমিক ৪৭ ডলারে নেমে আসে। এক মাস আগের তুলনায় এ দাম প্রায় ৯ শতাংশ কমলেও যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় এখনও তা এক-তৃতীয়াংশের বেশি উচ্চ অবস্থানে রয়েছে।

তেলের দাম কমার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বেড়েছে। এর প্রভাবে সোমবার সকালে জাপানের প্রধান শেয়ারবাজার সূচক নিক্কেই ২২৫ ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে। এর আগেও শুক্রবার সূচকটি সর্বোচ্চ অবস্থানে লেনদেন শেষ করেছিল।

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘শৃঙ্খলাপূর্ণ ও গঠনমূলকভাবে’ এগিয়ে চলছে। তবে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর পরিবর্তে সতর্কতার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

ট্রাম্প তার বার্তায় লিখেছেন, ‘দুই পক্ষকেই সময় নিতে হবে এবং সঠিকভাবে এগোতে হবে। কোনো ভুলের সুযোগ নেই।’

এর আগে শনিবার তিনি দাবি করেন, সম্ভাব্য চুক্তির বেশিরভাগ বিষয় নিয়ে ইতোমধ্যে সমঝোতা হয়েছে। সেই চুক্তির অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়টিও রয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য সমঝোতার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক তেলবাজার বিশ্লেষক জুন গোহ বলেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় প্রতিদিন প্রায় ১ থেকে ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি বলেন, সম্ভাব্য চুক্তি বাস্তবায়িত হলে আটকে থাকা জাহাজগুলো থেকে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল তেল পুনরায় বিশ্ববাজারে প্রবেশ করতে পারে। তবে চুক্তি হলেও বাজার স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে।

তার মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা, উৎপাদন এবং পরিশোধন কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ সরাসরি প্রভাবিত হচ্ছে। পাশাপাশি এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত বন্দরসংক্রান্ত বিধিনিষেধও ওই অঞ্চলের বাণিজ্যিক নৌপরিবহনে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা যত বাড়বে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তত কমতে পারে এবং তেলের দাম আরও স্থিতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

(ঢাকাটাইমস/২৫ মে/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
লালবাগে ভাড়া বাসার কক্ষ থেকে আইনজীবীর মরদেহ উদ্ধার
ছাত্রদলের দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা
জাতীয় ঈদগাহ এলাকা থেকে দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার
৪৪০০ ইয়াবা ও ৯ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার