বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির আশায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। একই সঙ্গে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এশিয়ার শেয়ারবাজারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও ভারতে আবারও বাড়ানো হয়েছে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম, যা দেশটির সাধারণ মানুষের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে।
সোমবার এশিয়ার বাজারে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ৩৬ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে মার্কিন অপরিশোধিত তেল বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৫ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯১ দশমিক ৫০ ডলারে লেনদেন হয়। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনাই এই মূল্যপতনের প্রধান কারণ।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের নেতাদের সঙ্গে শান্তি সংক্রান্ত একটি সমঝোতা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে একটি চুক্তির বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং চূড়ান্ত কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, সম্ভাব্য এই চুক্তির ফলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবারও পুরোপুরি সচল হতে পারে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে প্রণালিটি উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাজারে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।
তেলের দাম কমার খবরে এশিয়ার শেয়ারবাজারেও উত্থান দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৬৫ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করেছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোও এতে স্বস্তি পেয়েছে।
তবে বাজার বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। আইএনজির কমোডিটি স্ট্র্যাটেজি বিভাগের প্রধান ওয়ারেন প্যাটারসন বলেন, অতীতেও একাধিকবার শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি হলেও শেষ মুহূর্তে তা ভেস্তে গেছে। ফলে বাজার এখন আগের তুলনায় বেশি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এমএসটি ফাইন্যান্সের জ্বালানি গবেষণা প্রধান সল কাভোনিক বলেন, “পরিস্থিতির উন্নতির কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যা স্বল্পমেয়াদে বাজারে স্বস্তি আনতে পারে। তবে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক তেল পরিবহন, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং বৈশ্বিক মজুত পুনরুদ্ধারে দীর্ঘ সময় লাগবে।”
অন্যদিকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলেও ভারতে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। ইরান-সংকটকে কেন্দ্র করে গত ১১ দিনের মধ্যে চতুর্থবারের মতো দেশটিতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। সোমবার নতুন করে লিটারপ্রতি পেট্রোলের দাম ২ রুপি ৬১ পয়সা এবং ডিজেলের দাম ২ রুপি ৭১ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়।
এর ফলে রাজধানী নয়াদিল্লিতে পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ১০২ রুপি ছাড়িয়ে গেছে। জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি পরিবহন ব্যয় বাড়িয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলো দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক বাজার থেকে উচ্চমূল্যে তেল কিনলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে পুরোনো দামে বিক্রি করছিল। এতে প্রতিদিন হাজার কোটি রুপিরও বেশি লোকসান গুনতে হচ্ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। সেই ক্ষতি সামাল দিতেই সরকার মূল্য সমন্বয়ের পথে হাঁটছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকবে। ফলে তেলের দামে সাময়িক স্বস্তি এলেও দীর্ঘমেয়াদে বাজারে অস্থিরতা পুরোপুরি কাটবে না।
(ঢাকাটাইমস/২৬ মে/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













