বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম মিয়াজাকি, কঠিন রোগের দাওয়াই

ফিচার ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
  প্রকাশিত : ০১ জুন ২০২৬, ১০:৩৭
অ- অ+

গ্রীষ্মকাল মানেই রসালো আমের মৌসুম। হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালি, ফজলি কিংবা হাড়িভাঙা বিভিন্ন জাতের আমের স্বাদে মুগ্ধ হন ফলপ্রেমীরা। তবে পুষ্টিগুণ, বিরলতা ও বাজারমূল্যের দিক থেকে বিশ্বের অন্যান্য আমকে অনেকটাই ছাড়িয়ে গেছে জাপানের বিখ্যাত ‘মিয়াজাকি’ আম।

জাপানের কিউশু অঞ্চলের মিয়াজাকি শহর থেকে উৎপত্তি হওয়া এই বিশেষ জাতের আম বিশ্বজুড়ে পরিচিত এর অনন্য রং, স্বাদ এবং আকাশছোঁয়া দামের জন্য। সাধারণ আমের মতো সবুজ বা হলুদ নয়, মিয়াজাকি আমের রং উজ্জ্বল লালচে-বেগুনি। আকারেও এটি তুলনামূলক বড় এবং দেখতে অনেকটা ডিম্বাকৃতির হওয়ায় একে ‘সূর্যের ডিম’ বলেও ডাকা হয়।

মিয়াজাকি আমের আরেক নাম ‘তাইয়ো নো তোমাগো’ (Taiyo-no-Tomago), যার অর্থ ‘সূর্যের ডিম’ বা ‘Egg of Sunshine’। ১৯৮০-এর দশকে জাপানি গবেষক ও স্থানীয় কৃষকদের যৌথ প্রচেষ্টায় এই জাতের আম বাণিজ্যিকভাবে উন্নয়ন করা হয়। এরপর ধীরে ধীরে এটি বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান ফল হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মিয়াজাকি আমে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি এবং খাদ্য উপাদান রয়েছে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। এছাড়া এতে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান ত্বক, চোখ ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে বিবেচিত হয়।

তবে এই আমকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় এর মূল্য। আন্তর্জাতিক বাজারে উন্নতমানের মিয়াজাকি আমের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। বিশেষ নিলাম কিংবা প্রিমিয়াম বাজারে এর দাম আরও বেশি হওয়ার নজির রয়েছে।

অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে চাষ, সীমিত উৎপাদন, কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ এবং উচ্চমানের স্বাদের কারণে মিয়াজাকি আমকে বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম হিসেবে গণ্য করা হয়। শুধু দামি ফল হিসেবেই নয়, বিরলতা ও বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় কৃষিপণ্য হিসেবেও পরিচিত।

ফলের জগতে বিলাসিতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত মিয়াজাকি আম আজ বিশ্বজুড়ে ফলপ্রেমী ও সংগ্রাহকদের কাছে এক অনন্য আকর্ষণের নাম।

মিয়াজাকি আমের অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো এর চেহারা, স্বাদ আর চাষ প্রক্রিয়া।

চেহারা: ঐতিহ্যবাহী আমের বিপরীতে, মিয়াজাকি আম পাকলে ডিমের মতো আকৃতি এবং উজ্জ্বল লাল রঙের ত্বক ধারণ করে, যা তাদের দৃষ্টিনন্দন করে তোলে।

স্বাদ: তাদের অসাধারণ মিষ্টতা এবং রসালোতার জন্য বিখ্যাত এই মিয়াজাকি আম অন্য কোন আমের স্বাদের অভিজ্ঞতা প্রদান করে।

চাষ: আদর্শ জলবায়ু পরিস্থিতি, উর্বর মাটি এবং বিশুদ্ধ পানির অ্যাক্সেস সহ একটি অঞ্চলে জন্মানো, মিয়াজাকি আম ফল উৎপাদনের জন্য অনুকূল পরিবেশে বৃদ্ধি পায়।

মিয়াজাকি আম চাষ একটি শ্রম-নিবিড় প্রক্রিয়া যার জন্য বিশদ যত্ন এবং মনোযোগ প্রয়োজন। উৎকৃষ্ট আমের চারা নির্বাচন থেকে শুরু করে জিনগত বিশুদ্ধতা রক্ষার জন্য কলম তৈরির কৌশল ব্যবহার করা পর্যন্ত, প্রতিটি ফলের গুণমান নিশ্চিত করতে কৃষকরা কোনো প্রচেষ্টাই ছাড়েন না।

কঠোর পরিচর্যার পরও সব আম কিন্তু ‘সূর্যের ডিমউপাধি পায় না। কড়া নজরদারির পর কেবল নিখুঁত আমগুলোই এই খেতাব পায়। এর জন্য প্রতিটি আমের ওজন ৩০০ গ্রামের বেশি হতে হয়, কোনও দাগ থাকা চলে না এবং রঙ ও মিষ্টির মান হতে হয় একদম নিখুঁত। এরপর নির্বাচিত আমগুলো জাপানের মিয়াজাকি সেন্ট্রাল হোলসেল মার্কেটে নিলামে তোলা হয়। সেখানে এক জোড়া মিয়াজাকি আম সর্বোচ্চ ৬ লাখ জাপানি ইয়েন বিক্রি হওয়ার রেকর্ড রয়েছে! অর্থাৎ একটি আমের দাম অনেক দামি স্মার্টফোন, লাক্সারি হ্যান্ডব্যাগ কিংবা ছোট স্বর্ণের গহনার চেয়েও বেশি।

পুষ্টিগুণের শেষ নেই​ মিয়াজাকি আমের

গবেষকরা জানাচ্ছেন, এই আমের স্বাদ ও গন্ধ সবার থেকে আলাদা। এতে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন ও ফোলিক অ্যাসিডের মতো উপকারী উপাদান। এছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যানসারকে ফাঁকি দেয়ার কাজেও সাহায্য করে এই আম। এছাড়া মিয়াজাকি ম্যাঙ্গোতে রয়েছে জিঙ্ক, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, ভিটামিন এ, ভিটামিন কে, কপার এবং ম্যাগনেশিয়ামের ভাণ্ডার। এসব ভিটামিন ও খনিজ কিন্তু শরীরের একান্ত প্রয়োজনীয়।

​ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে​

ক্ষতিকর কোষ যখন অনিয়ন্ত্রিত গতিতে বাড়তে শুরু করে, তখনই বলা হয় ক্যানসার। তাই প্রাথমিক পর্যায়েই এই অসুখের চিকিৎসা হওয়া প্রয়োজন। এর মাধ্যমেই আক্রান্ত রোগী সহজে সুস্থ হতে পারেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বারবার এই অসুখ প্রতিরোধ করার পরামর্শ দেন। এই কাজে আপনার সঙ্গী হতে পারে মিয়াজাকি ম্যাঙ্গো। বিশ্বের সব থেকে দামি এই আমের ভেতর অ্যান্টিক্যানসারস নানা উপাদান রয়েছে। ফলে কর্কট রোগ প্রতিরোধে কিছুটা হলেও সহজ হয়।

শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রিত না থাকলে একাধিক ছোট-বড় সমস্যা পিছু নেয়। এক্ষেত্রে হার্ট, কিডনি, চোখসহ দেহের বিভিন্ন অঙ্গ নিজের কার্যক্ষমতা হারাতে পারে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের অবশ্যই সুগার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এই কাজে আপনাকে সাহায্য করতে পারে মিয়াজাকি আম। এই আম নিয়মিত খেলে দেহে ইনসুলিন হরমোনের কার্যকারিতা বাড়তে পারে। ফলে সুগার থাকে নিয়ন্ত্রণে।

পেটের স্বাস্থ্য ফেরায়

বাঙালিদের নিত্যদিন পেটের সমস্যা লেগেই রয়েছে। গ্যাস, অ্যাসিডিটি, বদহজম, চোঁয়া ঢেকুর- সমস্যার যেন শেষ নেই। তবে জানলে অবাক হবেন, নিয়মিত মিয়াজাকি ম্যাঙ্গো খেলে এই সমস্যার সমাধান মেলে। এই আমে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা হজম ক্ষমতা বাড়াতে পারে। ফলে এ ধরনের সমস্যা থেকে সহজেই রেহাই পাওয়া সম্ভব হয়।

​বশে থাকে কোলেস্টেরল​

রক্তে উপস্থিত মোম জাতীয় এক উপাদান হলো কোলেস্টেরল। এই উপাদান কিন্তু রক্তনালীর ভেতর জমে। তারপর সেই অংশে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। এই কারণেই হার্টের অসুখ এবং স্ট্রোকের মতো রোগ পিছু নেয়। তবে ভালো খবর হলো, প্রাকৃতিকভাবে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে খেতেই পারেন মিয়াজাকি আম। এই আম নিয়মিত খেলে দেহে খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে এবং ভালো কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পায়। ফলে হার্ট থাকে সুস্থ।

​ত্বকে ফুটে ওঠে যৌবনের দীপ্তি​

বয়সের সঙ্গে সমানুপাতিক হারে ত্বকের বয়স বাড়তে দিলে চলবে না। বরং ত্বকের বয়স আটকে দিতে হবে। এই কাজটি করতে পারে মিয়াজাকি আম। নিয়মিত এই আম খেলে ত্বকের বয়স ধরে রাখতে সুবিধা হয়। ৪০ বছর বয়সেও থাকা যায় একদম ২০ বছরের তরুণের মতো।

বাংলাদেশ, ভারতের আবহাওয়ায় এই মিয়াজাকি আমের আবাদ শুরু হয়েছে। এমনকি অনেকেই ভালো ফলন পাচ্ছে। এখন ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় বাড়িতে শখ করে অনেকেই মিয়াজাকি আমের আবাদ করছেন।

বাংলাদেশে উৎপাদিত আমগুলো জাপানের মিয়াজাকির আমের মতই টকটকে রঙিন দেখতে হয়েছে। গন্ধ আর স্বাদ অনেকটা জাপানিজ আমের কাছাকাছি। সবই বাংলাদেশের ট্রপিকাল আবহাওয়ার কারণেই সম্ভব হয়েছে।

সূর্যডিম বা মিয়াজাকি হলো জাপানিজ আম। বিশ্ববাজারে এটি ‘রেড ম্যাংগো’ নামে পরিচিত। এটি বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম। আমটির স্বাদ অন্য আমের চেয়ে প্রায় ১৫ গুণ বেশি। আমটি খেতে খুবই মিষ্টি। আমটির গড় ওজন প্রায় ৭০০ গ্রামের মতো। বিশ্ববাজারে এর দাম প্রায় ৩ লাখ টাকা কেজি। অনেক কৃষক নতুন এ জাতের আম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

খাগড়াছড়ি হর্টিকালচার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রচলিত জাতের পাশাপাশি বিদেশি জাতের আম চাষাবাদে কৃষকরা আগ্রহী হচ্ছেন। খাগড়াছড়িতে প্রথমবারের মতো জাপানি আম মিয়াজাকির চাষাবাদ শুরু হয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/১ জুন/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
ঢাকার চার জোনে টিডিপির প্রশিক্ষণ শেষ, সনদ পেলেন ৮০০ প্রশিক্ষণার্থী
ধানমন্ডিতে শেখ হাসিনার পরিত্যক্ত বাসভবনে যুবকের মরদেহ
মাগুরায় জেলা পুলিশের উদ্যোগে ১০ হাজার চারা রোপণ
সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ ও হাফিজ উদ্দিন আহমদের রাষ্ট্রপতির দায়িত্বের প্রজ্ঞাপন জারি
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা