সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি কাশিয়ানী পল্লী বিদ্যুৎ অফিস, বিপাকে গ্রাহকরা

কাশিয়ানী (গোপালগঞ্জ) প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:০৭| আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:২২
অ- অ+

ঘনঘন লোডশেডিং, অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল, মিটার রিডিংয়ে অসঙ্গতি, সেবার নামে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকরা।

একদিকে বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিং, অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীতের স্বেচ্ছাচারিতায় গ্রাহকদের মাঝে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

গ্রাহকরা জানান, দিন-রাত মিলিয়ে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যায়। কোনো কোনো এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার পাশাপাশি বিদ্যুৎ নির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকরা।

কাশিয়ানী সদর বাজারের ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম অভি বলেন, তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তিনটি ফ্রিজ, দুটি ফ্যান ও পাঁচটি লাইট রয়েছে। প্রতি মাসে তার বিদ্যুৎ বিল সাধারণত ৩৫০০ থেকে ৫০০০ টাকার মধ্যে আসে। অথচ মে, জুন ও জুলাই তিন মাসের সমন্বিত বিল এসেছে ৩৮ হাজার ১৪৭ টাকা। এ বিষয়ে জানতে ও সমাধানের জন্য কাশিয়ানী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি। উল্টো অস্বাভাবিক বিল পরিশোধের জন্য চাপ দেওয়া হয়। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েন ওই তরুণ উদ্যোক্তা। একপর্যায়ে ব্যবসা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান তিনি।

অপর গ্রাহক উপজেলার হিরণ্যকান্দি গ্রামের বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম জানান, এপ্রিল মাসে তার মিটারে ৭০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার দেখায়। মে মাসে একই মিটারে ১৪০ ইউনিটের বিল করা হয়। এরপর জুন, জুলাই ও আগস্ট তিন মাস মিটারে রিডিং ‘শূন্য’ দেখালেও প্রতি মাসে ১৪০ ইউনিট করে ‘মনগড়া’ বিল করে পাঠিয়েছে। বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে সমাধান না পেয়ে শরিফুল ইসলাম জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অনলাইনে লিখিত অভিযোগ করেন। পরে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন তার বাড়িতে মিটার খুলে নিতে গেলে তিনি এতে বাধা দেন। পরবর্তীতে বিষয়টি যাচাই-বাছাইয়ের পর তার বিদ্যুৎ বিল সমন্বয় করে দেওয়া হয়।

এদিকে, উপজেলার ওড়াকান্দি গ্রামে ইসরাফিল মোল্লা নামে এক গ্রাহকের বাড়িতে নিয়মবহির্ভূতভাবে খুঁটি স্থাপন ও বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এতে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের যোগসাজশ রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই গ্রাহকের নিকটবর্তী খুঁটি (সার্ভিস পোল) থেকে বসতঘরের দূরত্ব প্রায় ১৩০ ফুট। প্রতিবেশির বাধার কারণে অতিরিক্ত খুঁটির প্রয়োজন হলে গ্রাহক রামদিয়া সাব-জোনাল অফিসে যোগাযোগ করেন। পরে ১ স্প্যান লাইন নির্মাণ বাবদ তাকে ২৮ হাজার ১৪৮ টাকার ডিমান্ড নোট দেওয়া হয়। কিন্তু গ্রাহকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে রামদিয়া অফিসকে না জানিয়ে কাশিয়ানী অফিস থেকে খুঁটি স্থাপন ও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়। অথচ রামদিয়া অফিসে ওই ২৮ হাজার ১৪৮ টাকা জমা দেওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করলেও, অফিসে জমা না দিয়ে পকেটে ভরেছেন পল্লী বিদ্যুতের কতিপয় কর্মকর্তা। কাশিয়ানী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের বিরুদ্ধে এমন অসংখ্য অভিযোগ তুলছেন গ্রাহকরা।

গোপালগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কাশিয়ানী জোনাল অফিসের ডিজিএম গোলাম ফারুক মীরের কাছে এসব অভিযোগের বিষয় জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে।’ তবে ডিমান্ড নোটের টাকা না জমা হওয়ার বিষয় তার ভাষ্য, ওই গ্রাহক বিনামূল্যে ও নিয়ম মেনেই সংযোগ পেয়েছেন।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
Error!: SQLSTATE[42000]: Syntax error or access violation: 1064 You have an error in your SQL syntax; check the manual that corresponds to your MySQL server version for the right syntax to use near ') ORDER BY entry_time DESC,id DESC LIMIT 4' at line 4