ডিএনসিসির ৬০-৭০ শতাংশ এলাকায় ডেঙ্গুর লার্ভা, রোগী কম: প্রশাসক

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু মশার লার্ভা পাওয়া গেলেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কম বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, নগরবাসীর সচেতনতা ও সিটি করপোরেশনের সমন্বিত উদ্যোগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলা সম্ভব।
মঙ্গলবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ‘গত ১২ সেপ্টেম্বর ঘোষিত ৯০ দিনের বিশেষ ডেঙ্গু প্রতিরোধ নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন প্রতিটি ওয়ার্ডে সচেতনতামূলক ও প্রতিরোধমূলক নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।’
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নেওয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তিনটি বিশেষ শ্রেণিতে সচেতনতামূলক লিফলেট তৈরি করে জোনাল কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে বাসাবাড়ি, সামাজিক সংগঠন ও বিভিন্ন গণপরিসরে বিতরণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া নগরবাসীর সহযোগিতা ও সচেতনতা বাড়াতে তাঁর স্বাক্ষর করা খোলা চিঠি খামে করে বাসাবাড়ি, অফিস-আদালত, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও মাদ্রাসায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
ডিএনসিসির অভিযানে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ এলাকায় ডেঙ্গু মশার লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, ‘লার্ভা পাওয়া গেলেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কম।’ ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, সিটি করপোরেশনের ৫৪টি ওয়ার্ডের প্রতিদিনের সব পরিস্থিতি একা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব নয়। সাংবাদিকেরা তাঁদের ক্যামেরায় বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরলে সিটি করপোরেশন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারে। নগরবাসীকে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সাংবাদিকেরা অন্যতম উন্নয়ন অংশীদার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত করা ও পরিচ্ছন্নতা নিয়েও কথা বলেন ডিএনসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। মিরপুর, উত্তরা, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালানো হলেও উচ্ছেদের পর আবার যাতে ফুটপাত দখল না হয়, সে জন্য তদারকি বাড়ানো হচ্ছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, আগের তুলনায় বর্তমানে এ ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। বেশি জনসমাগম ও চলাচল হয় এমন প্রধান সড়কগুলোতে দুই শিফটে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলছে। তবে নাগরিকদের সচেতনতা ছাড়া এর স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, পথ চলার সময় যেখানে-সেখানে ময়লা বা ব্যবহৃত টিস্যু ফেলা বন্ধ করতে হবে। রাতে ময়লা ফেলা বন্ধে মহাখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় নতুন ডাস্টবিন স্থাপন ও সেগুলো সুরক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, দেশ গঠন ও সুশাসনের লক্ষ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে নগরসেবা দিতে সিটি করপোরেশন কাজ করছে। সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং পরিচ্ছন্ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ডিএনসিসির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি ও মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। তাঁরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডিএনসিসির উদ্যোগের প্রশংসা করে সিটি করপোরেশনকে সহযোগিতা করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য, ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে একটি র্যালি বের করা হয়।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












