ভারতের সিইসিকে পদত্যাগে ৪৮ ঘণ্টার সময় দিল ককরোচ জনতা পার্টি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:০২
অ- অ+

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি পদত্যাগ না করলে দেশব্যাপী আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলটি।

নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকায় কারচুপি ও ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, সিইসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।

অভিজিৎ দিপকে বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ করা উচিত। প্রস্তাবিত দেশব্যাপী বিক্ষোভ গত জুনে যন্তর মন্তরে দলের আন্দোলনের আদলে হবে বলেও জানান তিনি।

জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে দিপকে অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনে তার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সরকারই ঠিক করে দিচ্ছে কে ক্ষমতায় আসবে। তার ভাষায়, ‘এটি কোনো গণতন্ত্র নয়, এটি স্বৈরতন্ত্র।’

নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া এবং গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশীর বিভিন্ন বিষয়ে আপত্তি জানানোর খবরকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক বিতর্কের সূত্রপাত।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটার সংযোজন, বাদ দেওয়া, পুনর্বহাল, ফর্ম-৬ এর পরিবর্তন এবং ভোটার তালিকার তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওই দুই কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন।

তবে তিন সদস্যের কমিশনে মতবিরোধের কথা নাকচ করেছে নির্বাচন কমিশন। তাদের বক্তব্য, ভিন্নমত, লিখিত নোট ও অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা তাদের স্বাভাবিক কর্মপদ্ধতির অংশ। এসআইআর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তসহ সব সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছে কমিশন।

সংবাদ সম্মেলনে দিপকে দাবি করেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ১৩ কোটির বেশি ভোট বাদ দেওয়া হয়েছে। তার প্রশ্ন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিরোধী দল ও ক্ষমতাসীন জোট এনডিএর ভোটের ব্যবধান যেখানে প্রায় ২ শতাংশ ছিল, সেখানে এত বিপুলসংখ্যক ভোট বাদ দেওয়ার প্রয়োজন কেন হলো।

তিনি আরও দাবি করেন, বিভিন্ন বিরোধী নেতার নির্বাচনি এলাকায়ও বিপুলসংখ্যক ভোট বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনি এলাকা থেকে ৫১ হাজার, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের নির্বাচনি এলাকা থেকে ১ লাখ এবং দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নির্বাচনি এলাকা থেকে ৪০ হাজার ভোট বাদ দেওয়া হয়েছে।

দিপকে বলেন, এসব ঘটনার মধ্যে একটি ‘প্যাটার্ন’ রয়েছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারের সময় যেসব মুখ্যমন্ত্রী একসঙ্গে এসেছিলেন, পরবর্তী সময়ে তাঁদের একে একে পরাজিত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তাঁর অভিযোগ, শক্তিশালী বিরোধী নেতাদের রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার জন্য এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে তিনি বলেন, তাঁদের আপত্তি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে ঘিরে নয়; বরং গণতান্ত্রিক নির্বাচনব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচন ও এসআইআর কার্যক্রম স্থগিত, ২০২৫ সালের জানুয়ারির ভোটার তালিকা পুনর্বহাল এবং এসআইআর-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে সিজেপি।

এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনার নিয়োগসংক্রান্ত ২০২৩ সালের আইন বাতিল করে সুশীল সমাজকে সম্পৃক্ত করে নতুন নিয়োগ আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে দলটি। এসআইআর-সংক্রান্ত নথি নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছে তারা।

সিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

নির্বাচনি সংস্কার ও নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে নজর দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার একদিন পরই এই আল্টিমেটাম দিল সিজেপি। এর আগে দলটি আসন্ন নির্বাচন স্থগিত এবং এসআইআর কার্যক্রম প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিল।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
টেকনাফে মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি
গুলশানে মিছিলের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী হামিদুর রহমান গ্রেপ্তার
বিমানবন্দর এলাকায় আহত সেনাসদস্যকে উদ্ধার করে সিএমএইচে পাঠালেন আনসার সদস্য
নিউইয়র্ক ক্লাইমেট উইকে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান