আরও ১১ বোয়িং উড়োজাহাজ কিনবে বাংলাদেশ, চুক্তির পর যা বললেন ট্রাম্প

বিমান বাংলাদেশ এয়ালাইন্স নিজেদের বহর সম্প্রসারণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত চুক্তি সই করেছে।
চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল ট্রুথ-এ বাংলাদেশ নিয়ে একটি পোস্ট করেন, যেখানে তিনি এটিকে আমেরিকার উৎপাদন খাতের জন্য একটি বড় সাফল্য বলে উল্লেখ করেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে ওই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
এই নিয়ে গত পাঁচ মাসের ব্যবধানে বিমান বাংলাদেশ বোয়িংকে মোট ২৫টি উড়োজাহাজের দুটি পৃথক ক্রয়াদেশ দিল। দুই দফায় বিমানের বহরে যোগ হবে দুটি ভিন্ন মডেলের তিনটি সংস্করণের অত্যাধুনিক বিমান।
নতুন ক্রয়াদেশের ১১টি উড়োজাহাজের মধ্যে রয়েছে পাঁচটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স মডেলের বিমান। এসব উড়োজাহাজের ক্রয়মূল্য প্রায় ২.৪ বিলিয়ন ডলার বা ২৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২.৭৩ টাকা হিসাবে)।
তবে এসব উড়োজাহাজ কবে নাগাদ বাংলাদেশ বিমানের বহরে যুক্ত হবে, তা প্রকাশ করা হয়নি।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে এই চুক্তি আমেরিকান উৎপাদন খাতের জন্য একটি বড় সাফল্য। এ জন্য বোয়িং কর্মীদের অভিনন্দন জানান ট্রাম্প।
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল প্রথম দফায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলার বা ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৪টি বোয়িং কেনার চুক্তি করে বিমান। ওই চুক্তির অধীনে আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স কেনা হচ্ছে, যা ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে বাংলাদেশে পৌঁছাবে।
সেবারও বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন ট্রাম্প।
গত ৩১ আগস্ট বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুনির্দিষ্ট অনুরোধের পর বাংলাদেশ বোয়িং থেকে বিমান কেনার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করেছে। চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি চিঠি পাঠান ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বিমান বাংলাদেশের দাবি, নতুন বিমানগুলো বহরে যুক্ত হলে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার লাভজনক দূরপাল্লা ও স্বল্পপাল্লার রুটগুলোতে চলাচল সহজতর হবে।
বর্তমানে বিমান বাংলাদেশের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে, যার মধ্যে ১৪টি বোয়িং ও পাঁচটি ড্যাশ-৮ মডেলের। নতুন ২৫টি নতুন বিমান যুক্ত হলে বহরের মোট আকার দাঁড়িয়ে ৪৪টিতে পৌঁছাবে, যার মধ্যে ৩৯টিই হবে বোয়িংয়ের তৈরি।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












