ঋণখেলাপিদের দেউলিয়া হওয়ার হিড়িক, মামলা ১৯৭

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৪
অ- অ+

কোটি কোটি টাকার ঋণ, ব্যাংক ও পাওনাদারের চাপ এবং ঋণ আদায়ে চলমান মামলা—সব মিলিয়ে আর্থিক সংকটে পড়া ঋণখেলাপিদের কেউ কেউ এখন নিজেকেই দেউলিয়া ঘোষণা করতে আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন। ঢাকার দেউলিয়াবিষয়ক আদালতে বর্তমানে এমন ১৯৭টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরেই নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণার আবেদন করেছেন ৪৬ ঋণখেলাপি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকৃতপক্ষে ঋণ পরিশোধে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য দেউলিয়া আইন একটি আইনি সুযোগ। তবে একশ্রেণির ঋণখেলাপি এই সুযোগের অপব্যবহার করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। কেউ কেউ ঋণের অর্থ বিদেশে পাচার করছেন। আবার কেউ আত্মীয়স্বজন বা অন্যের নামে সম্পদ গড়ে নিজের সম্পদের পরিমাণ কম দেখিয়ে দেউলিয়া হওয়ার চেষ্টা করছেন।

তাদের মতে, দেউলিয়া মামলা গ্রহণের আগে আবেদনকারীর প্রকৃত সম্পদের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত করা প্রয়োজন। কারণ সম্পদের তথ্য গোপন করে দেউলিয়া হওয়ার চেষ্টা করলে আইনে শাস্তির বিধান রয়েছে।

ঢাকার দেউলিয়াবিষয়ক আদালতের সেরেস্তাদার মো. মানিক জানান, গত আগস্ট পর্যন্ত আদালতে মোট ১৯৭টি দেউলিয়া মামলা বিচারাধীন ছিল। এসব মামলায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণার জন্য আবেদন করেছেন।

তিনি বলেন, চলতি বছর মোট ৪৬টি মামলার আবেদন করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন ঋণখেলাপির ঠিকানা ও তথ্য সঠিক না থাকায় তার আবেদন খারিজ হয়েছে। আরেকজন ঋণখেলাপি নিজের আবেদন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এর আগে গত বছর দেউলিয়া আদালতে নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণার জন্য ৮১ জন আবেদন করেছিলেন।

দেউলিয়াবিষয়ক আইন, ১৯৯৭ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি তার দেনা পরিশোধে অক্ষম হলে এবং আইনে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণার জন্য দেউলিয়া আদালতে আবেদন করতে পারেন।

আবেদনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তার সব পাওনাদারের নাম এবং তাদের পাওনার পরিমাণ উল্লেখ করতে হয়। একই সঙ্গে ওই ঋণ পরিশোধে তিনি অক্ষম—এ বিষয়টিও আবেদনে জানাতে হয়।

আদালত আবেদনটি গ্রহণ করলে সংশ্লিষ্ট পাওনাদারদের কাছে সমন পাঠানো হয়। এরপর বিবাদীরা আদালতে লিখিত জবাব দেন। পরে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দেউলিয়া ঘোষণা করতে পারেন।

কেউ দেউলিয়া ঘোষিত হলে দায়মুক্তির জন্য তাকে আদালতে আবেদন করতে হয়। এরপর আদালত নিয়োজিত রিসিভার দেউলিয়া ব্যক্তির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ বিক্রি করে পাওনাদারদের ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করেন।

সম্পদ বিক্রি করে পাওনাদারের দায় পরিশোধের পরও অর্থ অবশিষ্ট থাকলে আদালত তাকে দায়মুক্ত ঘোষণা করতে পারেন। আর পাওনাদারের মোট পাওনার তুলনায় দেউলিয়া ব্যক্তির সম্পদের পরিমাণ কম হলে তাকে দায়গ্রস্ত দেউলিয়া হিসেবে গণ্য করা হয়।

দেউলিয়া ঘোষিত ব্যক্তির ওপর বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধও আরোপ হয়। তিনি আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশের বাইরে যেতে পারেন না। নতুন করে ব্যাংকঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রেও তার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকে। পাশাপাশি কোনো নির্বাচনে অংশ নেওয়া কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হওয়ার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে।

আইনে দেউলিয়া ঘোষিত ব্যক্তির জন্য সরাসরি শাস্তির বিধান না থাকলেও সম্পদের তথ্য গোপন করে দেউলিয়া হওয়ার চেষ্টা করলে শাস্তির বিধান রয়েছে। কেউ সম্পদ গোপন করে দেউলিয়া ঘোষণার আবেদন করলে পরে সেই সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেলে তার সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দেউলিয়া আইন প্রকৃতপক্ষে ঋণ পরিশোধে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য একটি আইনি সুরাহার পথ হলেও এর অপব্যবহার ঠেকাতে আবেদনকারীর প্রকৃত সম্পদ ও আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ে আরও কঠোরতা প্রয়োজন।

(ঢাকাটাইমস/২৪ সেপ্টেম্বর/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা-ভাঙচুর, ২৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ককটেল তৈরির বিপুল কাঁচামাল ও ৯ হাজার মুখোশ উদ্ধার; যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ: জাতিসংঘে জিয়া পরিবারের অনবদ্য ধারাবাহিকতা
ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিৎ: ডিএমপি