সাইবার হামলার পর ক্রিপ্টোকারেন্সি বিন্যান্স থেকে অর্থ তুলে নিচ্ছেন গ্রাহকরা

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৬
অ- অ+

সাইবার হামলার পর বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের প্ল্যাটফর্ম বিন্যান্স থেকে গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলনের পরিমাণ বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে চুরি হওয়া ৬৩০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো সম্পদের প্রায় ৯৫ শতাংশ পুনরুদ্ধার বা ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে অর্থ উত্তোলনের চাপ বাড়লেও পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।

রবিবার কয়েকটি ক্রিপ্টো সম্পদের উত্তোলনসেবা পুনরায় চালু করার পর বিন্যান্স থেকে অর্থ সরিয়ে নিতে শুরু করেন গ্রাহকরা। ক্রিপ্টো বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ডিফাইলামার তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন প্ল্যাটফর্মটি থেকে নিট ৩৫০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ উত্তোলন করা হয়। তবে এ তথ্য নিয়ে বিন্যান্সের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

বিন্যান্সের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, শুরুতে অর্থ উত্তোলনের পরিমাণ বাড়লেও পরে তা দ্রুত কমে আসে। বর্তমানে তা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনায় থাকা মোট সম্পদের তুলনায় উত্তোলনের পরিমাণ খুবই কম বলেও দাবি করেন তিনি।

বিন্যান্স জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ক্রিপ্টো সম্পদের উত্তোলনসেবা চালু করা হচ্ছে। ব্যবহারকারীদের চাহিদা বিবেচনায় প্রথম ধাপে বিটকয়েন, ইথার, ডজকয়েন এবং ইউএসডিসি ও ইউএসডিটির মতো স্টেবলকয়েন-সংশ্লিষ্ট ১৫টি টোকেনের উত্তোলন চালু করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে বড় অঙ্কের ক্রিপ্টো সম্পদ চুরি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই শনিবার জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত ‘ট্রেডারট্রেইটর’ নামের একটি সাইবার ইউনিট এ হামলার জন্য দায়ী। চুরি করা সম্পদ ইথারে রূপান্তরের চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হামলার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সংশ্লিষ্টতা এখনো নিশ্চিত নয়। শনিবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়া জড়িত কি না, তা তারা জানেন না। দেশটি জড়িত থাকলে এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলবেন।

বিন্যান্সের দাবি, চুরি হওয়া সম্পদের মধ্যে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার শুক্রবারের মধ্যেই শনাক্ত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদ উদ্ধারে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে তারা। বাকি ৫ শতাংশ সম্পদ তুলনামূলক কম লেনদেনযোগ্য হওয়ায় প্রয়োজনীয় পরিমাণ সংগ্রহে আরও সময় লাগতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, হ্যাকিংয়ের আর্থিক ক্ষতি গ্রাহকদের ওপর চাপানো হবে না। ক্ষতি পূরণে কোম্পানির নিজস্ব অর্থ থেকে প্রায় ৬৩৪ কোটি ডলার সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রাহকদের সুরক্ষায় গঠিত এক বিলিয়ন ডলারের সিকিউর অ্যাসেট ফান্ড ফর ইউজার্স (সাফু), ফিউচার্স ইনস্যুরেন্স ফান্ড এবং কোম্পানির নিজস্ব তহবিলের অর্থ রয়েছে।

বিন্যান্সের সহপ্রধান নির্বাহী রিচার্ড টেং জানিয়েছেন, একটি ল্যাপটপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ক্ষতিকর সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে জটিল এ সাইবার হামলা চালানো হয়। ওই সফটওয়্যার হামলার প্রমাণ মুছে ফেলতে সক্ষম ছিল। ফলে তদন্ত এবং চুরি হওয়া অর্থের গতিপথ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর প্রায় ১৫০টি সাইবার হামলায় ২৯০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি হয়েছিল। বিশ্লেষকদের ধারণা, বিন্যান্সের এ ঘটনা ক্রিপ্টোকারেন্সির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আর্থিক চুরিগুলোর একটি হতে পারে।

বিন্যান্সের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩৩ কোটি ৫০ লাখ। গ্রাহকদের পক্ষে সংরক্ষিত সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৬ হাজার ২৮০ কোটি ডলার।

(ঢাকাটাইমস/০২ নভেম্বর/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
গাজীপুরে আজও পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ-ভাঙচুর, যান চলাচল বন্ধ
দেশে বাড়ছে মাদকের ব্যবহার, ঝুঁকিতে তরুণ প্রজন্ম
প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে ‘মুরাসু’, ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে আঘাতের শঙ্কা
মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনে পুলিশের গাড়িতে আগুন, ফেসবুকে স্বীকারোক্তি দেওয়া রাজিব আটক