এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি থাকা এক ভুক্তভোগীর করুণ কাহিনী এবং আইসিউ...

৭২ লাখ টাকায় ৫০ দিনের জীবন মৃত্যুর লড়াই হয় এভারকেয়ারে।
এটা কোনো গল্প না, এটা আমার মামা মুমিনউল্লা সুফি সাহেবের জীবনের শেষ আড়াই মাসের ইতিহাস।
৩০ জুন, ২০২৫।
আমার মামাকে টঙ্গী কলেজ গেট থেকে দুপুর ১২.৩০ pm উত্তরা ক্রিসেন্ট, ক্রিসেন্ট থেকে 2.40pm এভারকেয়ারে ভর্তি করলাম। ডাক্তাররা বললো - অবস্থা ভালো না, তবে ইনশাআল্লাহ আমরা চেষ্টা করছি, উনি কাম ব্যাক করবে।
আমরা বোকার মতো সেই কথাটা আঁকড়ে ধরে আশায় ছিলাম।এর মধ্যে আমরা কতবার বলেছি - স্যার, বিদেশে নিয়ে যাই? উন্নত চিকিৎসার জন্য। অথবা আপনারা বিদেশে ডাক্তারদের সাথে কনফারেন্স করে দেখেন কিভাবে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া যায়। কিন্তু আইসিও ইনচার্জ ডক্টর জাফর ইকবাল সাহেব। উনি তো পুরাই তেস মার খাঁ।
না, এই অবস্থায় বিদেশে নিয়ে লাভ হবে না। উনাকে নেওয়াই যাবে না।
কে বলেছে এই কথা?
আইসিইউ-এর শেষ কথা যিনি, আইসিইউ ইনচার্জ জাফর ইকবাল সাহেব।
উনার কথার বাইরে এভারকেয়ারে আইসিওতেএকটা পাতাও নড়ে না। উনি যা বলবেন, সেটাই ফাইনাল।
আমরা উনার কথার উপর বিশ্বাস করে ৫০ টা দিন আইসিইউ-র সামনে বসে ছিলাম। আজ বলল একটু ভালো আছে কাল আবার বলতেছে ভালো না আবার বলতেছেন ভালো আছে এই অবস্থায় গেল
৫০ দিন। ৫০ দিন ধরে প্রতিদিন বিল বেড়েছে, আশা বেড়েছে, আর আস্তে আস্তে ওষুধের রিঅ্যাকশনে ওনার কিডনি ড্যামেজ হয়ে গেল। ইনফেকশনে লিভার নষ্ট হয়ে গেল। রক্তে ইনফেকশনের পরিমাণ অতিরক্ত বেড়ে গেল। ইনফেকশন কমানোর জন্য ডাইওালিসিসের সাথে একটা ফিল্টার ইউজ করত উনারা বলতো এইটা বাইরে থেকে আনা। কিন্তু আমি দেখছি এইটা বাংলাদেশের রেডিয়েন্ট পারমা লেখা।৫০ দিন পর বিল - ৭২ লক্ষ টাকা।
সেই জাফর ইকবাল সাহেবরাই এখন বলছেন -
"আমাদের এখানে আর কিছু করার নেই। আপনারা পেশেন্ট অন্য কোথাও নিয়ে যান, পারলে বিদেশে নিয়ে যান।"আমার প্রশ্নে -আমরা কি কিডনির প্রবলেম নিয়ে এসেছি। আমরা কি লিভার ড্যামেজ নিয়ে এসেছি। আমরা কি রক্ত ইনফেকশন নিয়ে এসেছি।
যে মানুষটাকে ৫০ দিন আগে বিদেশে নেওয়া যেত না, সে মানুষটাকে ৭২ লাখ টাকা নেওয়ার পর কীভাবে বিদেশে নেওয়া যাবে?
তাহলে এই ৫০ দিন আমাদের কেন আটকে রাখলেন?
এটা কি চিকিৎসা ছিল, নাকি চিকিৎসার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা লুট করার একটা পরিকল্পনা ছিল।
এভারকেয়ার হাসপাতালের কাছে রোগী মানে একটা বিল। আর সেই বিলের মেশিনের নাম আইসিইউ।
মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রীর কাছে অনুরোধ।আপনারা একটু এই আইসিইউ-র দিকে তাকান। এই জাফর ইকবাল সিন্ডিকেটের হাত থেকে মানুষকে বাঁচান। একটা বাস্তব ঘটনা কাল্পনিক কোন গল্প নয়। শেষ টা ছিল এবারকেয়ার থেকে ইবনে সিনা ,ইবনে সিনা থেকে পপুলার, পপুলার থেকে কবর।(ঢাকাটাইমস/০২ নভেম্বর/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













