নিরীহ শ্রমিকদের ব্যবহার করে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে স্বৈরাচারের পৃষ্ঠপোষকেরা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩৭| আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪৬
অ- অ+

শ্রমিক আন্দোলনের নামে নিরীহ শ্রমিকদের ব্যবহার করে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে পতিত স্বৈরাচারের পৃষ্ঠপোষক কিছু পক্ষ। এ ধরনের অপতৎপরতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে পোশাকশিল্পের চলমান সংকট নিরসনে গার্মেন্টস মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের নামে যারা শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং দেশে অস্থিরতা ও সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যেকোনো ধরনের নৈরাজ্য কঠোর হাতে দমনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশের পোশাকশিল্পের স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গত কিছুদিন ধরে পতিত স্বৈরাচারের পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত কিছু পক্ষ নিরীহ শ্রমিকদের ব্যবহার করে সড়ক-মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে ও অবরোধ সৃষ্টি করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। অথচ প্রকৃত শ্রমিক ও তাঁদের সংগঠনের নেতারা কখনোই নিজেদের কর্মসংস্থান বিনষ্ট হোক বা শিল্পকারখানায় অস্থিতিশীলতা তৈরি হোক, তা চান না।

তিনি বলেন, সহিংসতা ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত চিহ্নিত ইন্ধনদাতা এবং কয়েকজন শিল্পমালিককে ইতিমধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। অডিও-ভিডিও প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা শিগগিরই

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি ও সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ৩১ অক্টোবর রাতে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের নাম পাওয়ার পর ১ নভেম্বর সকালে শ্রম মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে।

খুব শিগগিরই বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি চূড়ান্ত করে ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সরকার শিল্প, বিনিয়োগ ও শ্রমিকবান্ধব। দেশের রপ্তানি বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রমিকদের কল্যাণ এবং তাঁদের জীবিকা রক্ষায় সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।

কোনো শিল্পকারখানা যেন এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ না থাকে এবং কোনো শ্রমিক যেন বেকার হয়ে না পড়েন, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সকালে মালিকপক্ষের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আজ বিকেলে শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক হবে। তাঁদের মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, শ্রমিক নেতা ও সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাস, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, সংগঠনটির নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
মিরপুরে সংঘর্ষ-অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চার মামলা, আসামি সাড়ে ১০ হাজার
মিষ্টির শূন্য আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত এলিজা জামান
পোশাকশিল্প ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে, সরকারকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের
মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটে নতুন নিয়ম, সামনে লেখা যাবে এক লাইনে