যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিল ডেমোক্র্যাটরা, বড় ধাক্কা ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে একের পর এক অপ্রত্যাশিত জয়ের মধ্য দিয়ে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত সাউথ ক্যারোলাইনা, নর্থ ক্যারোলাইনা, টেক্সাস ও কানসাসের মতো অঙ্গরাজ্যে জয় পেয়েছেন দলটির প্রার্থীরা। এতে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের আসন বেড়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির জন্য এই ফল বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এবার আইওয়ায় জশ টুরেক রিপাবলিকান প্রার্থী অ্যাশলি হিনসনকে এবং কানসাসে অ্যাডাম হ্যামিলটন রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালকে পরাজিত করেছেন। টেক্সাসে জেমস টালারিকো হারিয়েছেন কেন প্যাক্সটনকে। সাউথ ক্যারোলাইনায় অ্যানি অ্যান্ড্রুজের কাছে পরাজিত হয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডারলাইন গ্রাহাম। এ ছাড়া ওহাইওতে শেরড ব্রাউন হারিয়েছেন সিনেটর জন হাস্টেডকে। উত্তর ক্যারোলাইনায় উন্মুক্ত একটি আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রয় কুপার।
নির্বাচনের এই ফলের ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছরে তাঁর নীতিগত কর্মসূচি বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়তে পারে। সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর নজরদারি ও তদন্তের সুযোগও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে চান। তবে প্রয়োজন হলে নিজের ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
সাউথ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকানদের দখলে থাকা একটি আসন ছিনিয়ে নিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও চিকিৎসক অ্যানি অ্যান্ড্রুজ। আসনটির আগের প্রতিনিধি ছিলেন রিপাবলিকান ডারলিন গ্রাহাম। রাজ্যটিতে সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেট নির্বাচনে জয় পেয়েছিলেন।
প্রতিবেশী নর্থ ক্যারোলাইনাতেও সিনেটের আসন হাতবদল হয়েছে। সেখানে সাবেক গভর্নর ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রয় কুপার তাঁর রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইকেল হোয়াটলিকে পরাজিত করেছেন।
রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেক্সাসেও অপ্রত্যাশিত জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকো। তিনি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে হারিয়েছেন। টেক্সাসে সর্বশেষ ১৯৯৪ সালে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেট নির্বাচনে জয় পেয়েছিলেন।
ওহাইওতে বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী শেরড ব্রাউন। কানসাসেও জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও মেগাচার্চের যাজক অ্যাডাম হ্যামিলটন। তিনি বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালকে হারিয়েছেন। কানসাসে সর্বশেষ ১৯৩২ সালে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছিলেন।
বর্তমান ১১৯তম কংগ্রেসের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ১০০ সদস্যের সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ছিল ৫৩টি। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের ছিল ৪৫টি আসন। দলটির সঙ্গে জোটে ছিলেন দুজন স্বতন্ত্র সিনেটর।
মঙ্গলবারের নির্বাচনী ফলাফলে সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিয়ন্ত্রণ বদলে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার তিন গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র—প্রেসিডেন্টের পদ, সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—একসঙ্গে নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে রিপাবলিকানদের অবস্থানেরও পরিবর্তন ঘটছে।
২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের পদ, সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—তিনটির নিয়ন্ত্রণই পেয়েছিল রিপাবলিকানরা। রাজনৈতিক পরিভাষায় একে ‘ট্রাইফেকটা’ বলা হয়। এবারের নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর মধ্য দিয়ে সেই অবস্থানের অবসান ঘটছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের তুলনায় সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তন করা কঠিন বলে ধারণা করা হয়েছিল। কারণ, সিনেটের সদস্যদের মেয়াদ ছয় বছর এবং নির্বাচন হয় পর্যায়ক্রমে। প্রতি দুই বছর পর সিনেটের মোট আসনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশে ভোট হয়। অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যদের মেয়াদ দুই বছর।
এবার সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩টি ছিল নিয়মিত নির্বাচন এবং দুটি ছিল বিশেষ নির্বাচন। ওহাইও ও ফ্লোরিডার ওই দুটি আসন ২০২৫ সালে শূন্য হয়েছিল। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ট্রাম্প প্রশাসনে যোগ দেওয়ায় আসন দুটি খালি হয়।
নির্বাচনের আগে অন্তত সাতটি আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা ছিল। এগুলো হলো আলাস্কা, আইওয়া, কানসাস, মেইন, ওহাইও, টেক্সাস ও মিশিগান। তবে টেক্সাস ও কানসাসের মতো রিপাবলিকান-প্রধান অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের জয় নির্বাচনের ফলকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
এদিকে জর্জিয়ার মতো দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যে জন অসফের আসনসহ কয়েকটি আসন ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। ভার্জিনিয়ায় ১৭ বছর ধরে সিনেটের দায়িত্ব পালন করা মার্ক ওয়ার্নারও নিজের আসন ধরে রেখেছেন।
(ঢাকাটাইমস/০৪ নভেম্বর/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












