নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস করলে জনগণের যাওয়ার জায়গা থাকে না: জাহেদ উর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০০:১৪
অ- অ+

নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস করে দিলে সাধারণ নাগরিকের আর যাওয়ার জায়গা থাকে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা সেমিনার সিরিজ’-এর তৃতীয় পর্ব ‘তিয়াত্তরের নির্বাচন: ভোটচুরির আওয়ামী মডেলের সূচনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সেমিনারের সঞ্চালক ছিলেন লেখক ও গবেষক তুহিন খান।

ডা. জাহেদ বলেন, অনেকেই সমালোচনা করে বলে, বিএনপি শুধু নির্বাচন নির্বাচন করে। এটা বললে জনগণের ভোটের অধিকারকেই অস্বীকার করা হয়।

তিনি বলেন, পূর্ব পাকিস্তানের নানা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধে শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান থাকলেও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচনে ভোট কারচুপির মাধ্যমে গণতান্ত্রিক চর্চাকে ধ্বংস করেছিলেন তিনি।

তিয়াত্তরের নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের হারার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না- উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তবু তিনি ভোটে কারচুপি করেছিলেন। অন্যদিকে শেখ হাসিনা জানতেন, এমন একটি বিরোধী দল তার সামনে আছে, যাদের সঙ্গে ফেয়ার ইলেকশন করলে তিনি হারবেন। তাই ক্ষমতায় থাকার জন্য তিনি নির্বাচনগুলোকে কুক্ষিগত করেছিলেন।

সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা। তিনি বলেন, তিয়াত্তরের নির্বাচনে বাকেরগঞ্জ-৪ আসনে শেখ মুজিবের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জাসদের প্রার্থী আজহার উদ্দিন আহমেদ। নির্বাচনের আগে তাকে অপহরণ করা হয় এবং ব্যাপক কারচুপির মাধ্যমে শেখ মুজিবকে বিজয়ী করা হয়।

তিনি আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে লাখ লাখ মানুষের রক্ত ও লড়াইয়ের ইতিহাসকে আওয়ামী লীগ কুক্ষিগত করে একচ্ছত্র দাবিদার হয়ে উঠেছিল। সেই মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ দেখেছি তিয়াত্তরের নির্বাচনেও। আওয়ামী লীগ তখনও একদলীয় শাসনই শুধু নয়; বরং এক ব্যক্তির শাসনে দেশ চালাতে চেয়েছিল। এর ধারাবাহিকতা আমরা দেখতে পাই শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনেও। শেখ মুজিব সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, দেশে কোনো বিরোধী দল নেই। তেমনি শেখ হাসিনাও প্রচার করে গেছেন, তার কোনো বিকল্প নেই।

আরেক আলোচক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর একবার শুনলাম শেখ মুজিবুর রহমান দেশের অভিভাবক হিসেবে রাজনীতিতে অংশ নেবেন না। পরে আবার দেখলাম, তিনি এসে তাজউদ্দীন আহমদকে সরিয়ে সরকারে যুক্ত হলেন। পরে তিনি সংবিধান লেখার উদ্যোগ নিলেন। সংবিধানের প্রথম পরীক্ষা ছিল জাতীয় নির্বাচন। কিন্তু সেটি হয়েছিল একদলীয় নির্বাচন। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংসদ গঠিত হয়েছিল বিরোধী দল ছাড়া, যা গণতন্ত্রের জন্য অসম্মানজনক।

তিনি বলেন, অনেকেই বলে বঙ্গবন্ধু নিজে এসব করতে বলেন নাই। কিন্তু বঙ্গবন্ধু নিজ দলের লোকের এই অপকর্মকে রুখতে পারেননি, নিজ দলের লাগাম টেনে ধরতে পারেননি, এটি ছিল তার ব্যর্থতা।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান অনিবার্য ছিল উল্লেখ করে আবু সাঈদ খান বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে কখনোই ভালো নির্বাচন হয়নি। এ কারণেই আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলাম। কিন্তু পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সেই ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। যার কারণে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান অনিবার্য হয়ে পড়ে।

অনুষ্ঠানটির সভাপতি ছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক এহসান মাহমুদ। তিনি বলেন, ভিন্ন ভিন্ন স্বর একই মঞ্চে এসে উচ্চারিত হওয়ার জায়গা করে দিয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। আমরা সবার কথা শুনব, তারপর ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেব, কোনো কিছু চাপিয়ে দেব না। এটাই জুলাইয়ের শক্তি।

তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তর ছিল অন্ধকার যুগ। একজন সংবাদকর্মী হিসেবে আমি জানি, সে সময়ে রাষ্ট্রীয় নির্দেশে সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এখনকার সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে কল্পনাও করা যায় না যে তখন দেশে মাত্র একটি টেলিভিশন চ্যানেল এবং ৪টি দৈনিক পত্রিকা ছিল। সেগুলোও ছিল সরকার নিয়ন্ত্রিত। অর্থাৎ আপনি কোন কোন নিউজ ছাপবেন, সেটা সরকারের প্রেসক্রিপশন করা থাকত।

এহসান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের গোড়াপত্তন হয়েছিল মূলত বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তরের সময়টাতেই।

উল্লেখ্য, সেমিনার সিরিজটির চতুর্থ পর্ব ‘স্বাধীনতা-পরবর্তী এক দশকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির তুলনামূলক পর্যালোচনা’ হবে আগামীকাল বুধবার দুপুর ৩টায় জুলাই জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
শিল্পাঞ্চল পুলিশের প্রধান হলেন ইসরাইল হাওলাদার, জানুন তাকে নিয়ে
বড়দিন উদযাপনে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে কী ভাবছে ভারত? জানালেন জয়সোয়াল
গাজীপুরে গুলিভর্তি পিস্তল হারালেন এএসআই, উদ্ধারে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার